* সহজ কাজ ও উচ্চ বেতনের প্রলোভন
* বিদেশে নিয়ে দেওয়া হয় ভারী কাজ
* কথা না শুনলে করা হয় নির্যাতন
* ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত বহু মানুষ
* কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের
* সচেতন থাকার কথা বলছে কর্তৃপক্ষ
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালালরা প্রথমে বলে হোটেল, সুপারশপসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কম পরিশ্রমের চাকরি, বেতনও মোটা অংকের। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর দেখা যায় বিপরীত চিত্র। সেখানে নিয়ে দেওয়া হয় ভবন নির্মাণসহ নানা ভারী সব কাজ। সেই কাজ করতে না চাইলে চালানো হয় নির্যাতন। এমন প্রলোভনে ভাগ্য বদলের আশায় দালালদের খপ্পরে পড়ে বিদেশ-বিভুঁইয়ে পাড়ি দিয়ে সব হারিয়েছেন বহু মানুষ। অনেকে হারিয়েছেন শারীরিক কর্মক্ষমতা, মৃত্যুও হয়েছে অনেকের।
সম্প্রতি উচ্চ বেতনে চাকরির ফাঁদে পা দিয়ে বিদেশে গিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া বেশ কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া গেছে। অথচ দায়ী ঐসব এজেন্সি ও দালালদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ তেমন কোনো ভূমিকাই নেয় না। এমন অবস্থায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলছেন ভুক্তভোগীরা। আর কর্তৃপক্ষ বলছে, দালাল চক্রের বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
ভুক্তভোগীদের একজন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মাহবুবুর রহমান। সহজ কাজের নামে দালাল চক্রের মাধ্যমে সৌদি আরব গিয়ে প্রতারণার শিকার হন তিনি। এক কাজের কথা বলে বিদেশ নিয়ে তাকে দেওয়া হয় ভারী কাজ। এর মধ্যে আবার মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েন হতাশাগ্রস্ত ঐ যুবক। এখন তার শরীরের কয়েক জায়গায় পচন ধরেছে। বহু কাঠ-খড় পুড়িয়ে দেশে ফিরলেও এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতলের বিছানায় কাতরাচ্ছেন তিনি।
মাহবুব ছাড়াও দালাল চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার জুনায়েদ আহমেদসহ বিভিন্ন জায়গার অসংখ্য মানুষ। ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশ পাঠিয়ে তার পরিবারকে ঋণের জালে ফাঁসিয়ে দেয় রিক্রুটিং এজেন্সির নামধারী প্রতারকরা।
এছাড়া অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপসহ স্বপ্নের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার পথে প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকেই। এমন ঘটনা হরহামেশাই ঘটছে। সম্প্রতি তিউনিসিয়া উপকূলে নৌকায় অগ্নিকাণ্ডে ৮ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।
বিদেশে পাঠানোর নামে প্রতারণার এমন চক্র ছড়িয়ে আছে দেশজুড়েই। এসএম এন্টারপ্রাইজ, আরিফ এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, খাদেম গ্রুপ, এএমআর ওভারসিজ লিমিটেডসহ অসংখ্য ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে এসব সিন্ডিকেট। আর এদের ফাঁদে পড়ে প্রতিনিয়ত সর্বস্বান্ত হতে হচ্ছে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখা লাখো যুবক ও তাদের পরিবারগুলোকে।
কেস স্টাডি-১:
নোয়াখালীর একটি কওমি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন মাহবুবুর রহমান। ভালো আয়ের স্বপ্ন দেখে বিদেশ যেতে চান তিনি। গতবছরের মে মাসে ফেসবুকে সৌদি আরবে ভালো কাজ পাওয়ার বিজ্ঞাপন দেখে ‘এসএম এন্টারপ্রাইজ’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন মাহবুব। তাদের মাধ্যমে ‘আরিফ এয়ার ইন্টারন্যাশনাল’ নামক অন্য আরেকটি প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করেন তিনি। তখন ভিসা প্রসেসিংসহ বিদেশ যেতে অন্যান্য কাজের জন্য ধারদেনা করে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ লাখ ২০ হাজার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয় ঐ প্রতিষ্ঠানকে। দালালরা বলেছিল- সৌদি আরবে মাহবুবকে সুপারশপে কম্পিউটার অপারেটর পদে কাজ দেওয়া হবে। অন্য কোনো ভারী কাজ দেওয়া হলেও তা করতে অসমর্থ্য হওয়ার বিষয়টি তখন জানানো হয় দালাল শহিদুল ইসলাম জীবনকে। কিন্তু সৌদি আরবে পৌঁছার পর মাহবুবকে দেওয়া হয় ভবন নির্মাণের কাজ।
ভুক্তভোগী মাহবুবুর রহমান বলেন, গত মে মাসে সৌদি আরবের রিয়াদে পৌঁছানোর পর থাকার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয় একটি গোডাউনে। সেখানে গিয়ে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশিকে মানবেতর অবস্থায় দেখতে পান। পরে মাহবুবকে বলা হয় নির্মাণাধীন ভবনে ভারী কাজ করতে। কিন্তু ঐ কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে আমাকে ঐ গোডাউন থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে ভবঘুরের মতো বিভিন্ন মসজিদে ঘুরতে থাকি। এরপর নিজ এলাকার এক প্রবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তার কাছে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হই। এক মাস ২২ দিন সৌদি আরবের এক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থেকে পুলিশ, প্রশাসন ও ব্রাকের মাইগ্রেশন রেসকিউ টিমের সহায়তায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে আসি।
কেস স্টাডি-২:
অবৈধভাবে সমুদ্রপথে স্বপ্নের দেশ ইতালি যাওয়ার পথে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তিউনিসিয়া উপকূলে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে মারা যান ৯ জন। তাদের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশি। ৫ জন মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ও তিনজন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার লিবিয়ার দূতাবাসের মাধ্যমে তরুণদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মৃতরা হলেন- মাদারীপুরের রাজৈরের কোদালিয়া গ্রামের মিজানুর রহমান কাজীর ছেলে সজীব কাজী, পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের ইউসুফ আলী শেখের ছেলে মামুন শেখ, সেনদিয়ার গ্রামের সুনীল বৈরাগীর ছেলে সজল বৈরাগী, উত্তরপাড়া গ্রামের পরিতোষ বিশ্বাসের ছেলে নয়ন বিশ্বাস, কেশরদিয়া গ্রামের কাওসার, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বড়দিয়া গ্রামের দাদন মিয়ার ছেলে রিফাদ, ফতেয়পট্টি এলাকার মো. রাসেল ও গয়লাকান্দি গ্রামের পান্নু শেখের ছেলে ইসরুল কায়েস আপন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি তিউনিসিয়া উপকূলে ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে মারা যান ৯ জন। তাদের মধ্যে ৮ জনই বাংলাদেশি।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ জানুয়ারি মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ও গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের বেশ কয়েকজন যুবক ইতালির উদ্দেশে বাড়ি থেকে রওনা হয়। প্রথমে তাদের নেয়া হয় দুবাই। সেখানে কয়েকদিন থাকার পর নেয়া হয় লিবিয়ায়। পরে দালালের মাধ্যমে অভিবাসনপ্রত্যাশী এই তরুণদের একটি ‘গেম ঘরে’ নেয়া হয়। সেই ঘর থেকেই গত বুধবার লিবিয়ার উপকূল থেকে ইতালির উদ্দেশে অভিবাসনপ্রত্যাশী তরুণদের নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা ছেড়ে যায়। নৌকাটি তিউনিসিয়ার ভূমধ্যসাগরে প্রবেশ করলে ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়। পরে ঐ নৌকায় আগুন ধরে যায়। এরপরই ভূমধ্যসাগরে ডুবে যায় নৌকাটি। এতে সজীব কাজী, মামুন শেখ, সজল বৈরাগী, নয়ন বিশ্বাস, কাওসার, আপন, রাসেল ও রিফাদের মৃত্যু হয়।
কেস স্টাডি-৩:
নুরুল আমিন তালুকদার, ভুক্তভোগী প্রবাসী জুনাইদ আহমদের বাবা। বাড়ি সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে। নিজের জমির পাশাপাশি অন্যের জমি বর্গা চাষ করেন। ৯ সন্তানের মধ্যে ৭ জনের আলাদা সংসার। ছোট মেয়ে ও ছেলে জুনাইদকে নিয়ে সামান্য ভালো থাকার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তবে শেষ জীবনে সেই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে রূপ নেয় জুনাইদকে বিদেশে পাঠানোর পর থেকেই।
নুরুল আমিন তালুকদার বলেন, আমার টাকা-পয়সা যা খরচ হয়েছে, তা যদি পেতাম। আর সে যদি দেশে আসতো, তাহলে আমি ঋণ শোধ করে মুক্ত হতে পারতাম।
ভুক্তভোগীর এক ভাই বলেন, এদেরকে আইনের আওয়তায় আনা হোক। আমার ভাইয়ের মতো এমন দু-চারজন যেন এভাবে প্রতারণার শিকার না হয়। এ কারণে আমরা আইনের আশ্রয় নিতে চাই। তার অপর এক ভাই বলেন, চার লাখ-সাড়ে চার লাখ টাকা ঋণ করে আমার ভাইকে বিদেশ পাঠিয়েছি। অল্প একটু জমি ছিল, সেটাও বিক্রি করে দিয়েছি। তাকে যে কথা বলে বিদেশে নেয়া হয়েছিল, সেই কথা আর কাজে কোনো মিল নেই।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতারণা:
রিক্রুটিং এজেন্সি খাদেম গ্রুপের ম্যানেজার সাগর চৌধুরীর মাধ্যমে সৌদিতে পাড়ি দেওয়া সবার অবস্থাই একই রকম। জনশক্তি রফতানির কথা বলা হলেও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে ভিন্ন তথ্য।
সৌদি প্রবাসী আল আমিনের ওপর দায় চাপিয়ে অভিযুক্ত সাগর চৌধুরী বলেন, তারা কোনো কোম্পানিতে ছিল না। যার মাধ্যমে তারা সৌদিতে গেছে তার মাধ্যমেই ভালো কিছুর আশায় অন্য জায়গায় চলে গেছে।
ভুক্তভোগীদের কী কাজে নেয়ার কথা ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, যার মাধ্যমে গেছে সে-ই এটা ভালো বলতে পারবে। আমরা তো শুধু প্রসেসিং করেছি।
কথা হয় আল আমিনের সঙ্গে। সাগর চৌধুরীর সামনেই সব খুলে বলেন আল আমিন। তিনি বলেন, অবশ্যই সাগর চৌধুরীর দোষ। সম্পূর্ণ লেনদেন সাগর চৌধুরীর সঙ্গে হয়েছে।
আল আমিন আরো বলেন, ভুক্তভোগীরা হোটেলের কাজের বিষয়ে কিছুই জানতো না। ওদের আজ এক জায়গায় কাজে নিয়ে যাচ্ছে, কাল আরেক জায়গায়। এভাবে ওরা কাজ করাতো। ভুক্তভোগীরা পালিয়েও আসেনি। তাদের সময় দেওয়া হয়েছে। এখানে প্রসেসিংয়ের দায়িত্ব পালন করেছে সাগর চৌধুরী। তার সঙ্গে ওদের কথা হয়েছে। আমার সঙ্গেও সবসময় যোগাযোগ হয়েছে। সব জেনেও সাগর চৌধুরী বলছে সে জানে না। কোম্পানিতে কতদিন ছিল? যেখানে থাকার কথা বলা হচ্ছে?
ভুক্তভোগীরা ঐ কোম্পানিতে কতদিন ছিল জানতে চাইলে আল আমিন বলেন, ১৫ দিনের মতো ছিল। এতে উল্টো বক্তব্য দেন সাগর চৌধুরীর। তিনি বলেন, ১৫ দিন না। ৭-৮ দিন ছিল। ৭-৮ দিনে একটা কোম্পানিতে কোনো লোক তো সহজে সেট হয়ে যায় না। কিন্তু আপনি তো বললেন- কাজের বিষয়ে আপনি কিছু জানতেন না। এর জবাবে রিক্রুটিং এজেন্সির ওপর দায় চাপান সাগর চৌধুরী। তিনি বলেন, যে এজেন্সির মাধ্যমে সৌদি আরব গেছে। অবশ্যই সেই এজেন্সির দায়। সাগর চৌধুরী বলেন, সৌদি আরবে ডাইরেক্ট কোনো কোম্পানি নেই। সবই সাপ্লাইয়ের মাধ্যমে যায়।
সব জেনেবুঝেও প্রতারণার আশ্রয় নেন তিনি। পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সাগর চৌধুরী বলেন, ওদের বিদেশ পাঠানোর দায়িত্ব আমার, ফেরত আনার দায়িত্ব আমার না। ওদের মন চাইলে টিকিট কেটে আসুক। এরপর টাকা কীভাবে ফেরত নেবে, সেটা বোঝা যাবে।
অনুসন্ধান বলছে, মূলত খাদেম গ্রুপের নাম ব্যবহার করেন সাগর চৌধুরী। আর লোক পাঠানো হয়েছে রাজধানীর বনানীর এএমআর রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে। যদিও নাম ব্যবহারের বিষয়ে কিছুই জানতো না বলে দাবি করেছে এএমআর ওভারসিজ লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান রিয়াজ আকন বলেন, এই কাজগুলো তো আমাদের নিজেদের না, জিয়া ইসলাম নামে পরিচিত একজনের। আমাদের দায়িত্ব ছিল ভিসা স্ট্যাম্পিং ও ম্যানপাওয়ার করে পাসপোর্ট ডেলিভারি দেওয়া। কিন্তু তিনি কোথা থেকে কাজ এনেছেন বা কোন কোম্পানিতে লোক পাঠিয়েছেন, তা আমরা জানি না। তিনিই মার্কেটিং করেছেন, এগ্রিমেন্টও আমরা দেইনি।
খবর পেয়ে এএমআর রিক্রুটিং এজেন্সির অফিসে এসে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন জিয়া ইসলাম। তিনি জানান, ভুক্তভোগীরা তার কাছে যান ইরফান চৌধুরী নামে একজনের মাধ্যমে। এরপর হোটেলের কাজ ঠিক করার পরদিন কাজে না গিয়ে পালিয়ে যায় তারা। পরক্ষণেই তিনি জানান, ভুক্তভোগীরা সর্বোচ্চ ৬ ঘণ্টা ঐ কোম্পানিতে ছিলেন। এরপর আর কাজ করবেন না জানিয়ে কাফেলা নিয়ে চলে যান তারা।
অনুসন্ধান বলছে, কয়েক হাত বদলে সৌদি আরবে পাঠানো হতো ভুক্তভোগীদের। এমন প্রতারণার কিছুই জানতেন না তারা। খাদেম গ্রুপের ম্যানেজার সাগর চৌধুরী হয়ে ইরফান চৌধুরী, পরে জিয়া ইসলাম তাদের বনানীর এএমআর রেইক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে সৌদিতে পাঠান। শুরু থেকেই প্রতারণার আশ্রয় নেয়া হয়, যা অভিযুক্তদের কথাবার্তায় স্পষ্ট।
সাগর চৌধুরীর সঙ্গে ইরফান চৌধুরীর মুঠোফোনে কথাবার্তার অডিও সূত্রে জানা গেছে, হোটেলের ভিসার কথা বলে ভুক্তভোগীদের সৌদি আরবে নেয়া হয়েছে। তাদের কাউকে দুই মাস, কাউকে ছয় মাস কাজ করানোর পর আবার ক্যাম্পে এনে রাখা হয়। অর্থাৎ, এটা পুরোটা একটা সাপ্লাই মাধ্যম। এটা ঐ দেশের কোম্পানিগুলো বুঝতে পেরেছে। এ কারণে তারা আর কাজ দেবে না।











































