খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
এসএসসি পরীক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম ও আসাদ মল্লিকের মা শাহানা বেগম অসুস্থ ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ অবস্থার অবনতি হলে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যুর খবরে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে সাইফুল ও আসাদের পরীক্ষায় অংশ নেওয়া। তবে স্বজনদের পীড়াপীড়িতে বাড়িতে মায়ের লাশ রেখে চোখের পানি মুছতে মুছতে পরীক্ষা দিয়েছে তারা বাবার লাশ বাড়িতে রেখে চট্টগ্রামের আনোয়ারার বটতলী শাহ মোহছেন আউলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসে রিপা আক্তার। চোখের পানি মুছতে মুছতে পরীক্ষা দিয়েছে সেও। শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাকে সান্ত্বনা দিয়েছে।
সাইফুল ইসলাম ও আসাদ মল্লিক পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার জোলাগাতি গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল হোসেন মল্লিকের সন্তান। তারা উত্তর ভিটাবাড়ীয়া নূরজাহান মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। গত বুধবার রাতে তাদের মা শাহানা বেগম পিরোজপুর সদর হাসপাতালে মারা যান।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের বাবা আবুল হোসেন মল্লিক বলেন, মায়ের লাশ রেখে কোনোভাবেই দুই ভাই পরীক্ষা দিতে চাইছিল না। স্বজনেরা বোঝানোর পর তারা কেন্দ্রে যায়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১০ মিনিট আগে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে মায়ের জানাজায় অংশ নেয়।
পরীক্ষা চলাকালে কান্নায় ভেঙে পড়ে সাইফুল ইসলাম ও আসাদ মল্লিক। তারা বলছিল, ‘মা আর কখনোই আদর করে ডাকবে না। তাঁর স্বপ্ন ছিল আমরা অনেক বড় হব। তাই কষ্ট হলেও পরীক্ষা দিতে এসেছি।’
কেন্দ্র সচিব ভাণ্ডারিয়া বন্দর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহমুদ চৌধূরী বলেন, পরীক্ষা চলাকালে স্বজন হারানোর বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। তাদের খোঁজখবর রেখেছি। সান্ত্বনা দিয়েছি। সহপাঠীরাও সান্ত্বনা দিয়েছে।
দুই সহোদরের মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম কেন্দ্রে যান। তিনি সাইফুল ইসলাম ও আসাদ মল্লিককে সান্ত্বনা দেন। কেন্দ্রের বাইরে তাদের স্বজনের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বাবা-হারা রিপা আকতার আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পরুয়াপাড়া রহিম তালুকদার বাড়ির আহমদ নবীর মেয়ে। পরিবারের চার ভাই-বোনের মধ্যে সে সবার বড়। সে রায়পুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী। বুধবার রাতে হঠাৎ করে তার বাবা আহমদ নবী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পরীক্ষার আগের রাতে বাবার মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে সে। লাশ বাড়িতে রেখে চোখের পানি মুছতে মুছতে যেতে হয় পরীক্ষা কেন্দ্রে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে বেলা ১১টায় তার বাবার জানাজা হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
কেন্দ্র সচিব ফরিদুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষার হলে কান্নায় ভেঙে পড়ে রিপা। তার অশ্রুসজল চোখ হৃদয় ছুঁয়ে যায় অন্যদেরও। বাবাকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়ি যেতে চেয়েছিল সে। বোঝানোর পর সে পরীক্ষা শেষ করে।
রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিন শরীফ বলেন, বাবার লাশ বাড়িতে রেখে পরীক্ষা দিয়েছে রিপা আকতার। আল্লাহ তাকে ধৈর্যধারণের ক্ষমতা দিক।
বাবাকে কবরে শায়িত করার পর পরীক্ষা দিয়েছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আবনি নাছরিন পূর্ণ। কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্রে চোখের পানিতে ভিজেছে তার খাতা। তাকে সান্ত্বনা দেন সহপাঠী ও হলের শিক্ষকরা।
পূর্ণ পশ্চিমপাড়ার ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান দুদু মিয়ার মেয়ে। বুধবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান দুদু মিয়া। পরদিন দাফন শেষে ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষায় অংশ নেয় পূর্ণ।
কটিয়াদী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বদিউল আলম মাহফুজ বলেন, পূর্ণ মেধাবী শিক্ষার্থী। তার জীবনে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আমরা শোকাহত। কেন্দ্র সচিবসহ সবাই তাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন।









































