Home Uncategorized মাওলানা সাঈদীর ইন্তেকাল: রাতভর উত্তাল শাহবাগ, সংঘর্ষ-চকরিয়ায় নিহত ১, জানাজায় মানুষের ঢল

মাওলানা সাঈদীর ইন্তেকাল: রাতভর উত্তাল শাহবাগ, সংঘর্ষ-চকরিয়ায় নিহত ১, জানাজায় মানুষের ঢল

155

ঢাকা অফিস।।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর লাশ ঘিরে সোমবার দিবাগত রাতভর উত্তাল ছিল শাহবাগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল এলাকা। ভোর হতেই পুলিশের সাথে শুরু হয় সংঘর্ষ। পুলিশ টিয়ার শেল ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ জামায়াত-শিবিরের প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হন। কক্সবাজারের চকরিয়ায় গায়েবানা জানাজা শেষে পুলিশের সাথে মুসল্লিদের সংঘর্ষে একজন নিহত হন। পুলিশসহ আহত হন অন্তত ৪০ জন। চট্টগ্রাম নগরীতে পুলিশি বাধার কারণে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। জানাজাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে দু’জন গুলিবিদ্ধসহ ১০-১২ জন মুসল্লি আহত হয়েছেন।
রাতভর উত্তাল শাহবাগ, সংঘর্ষে আহত ৩০: জামায়াতে ইসলামী নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর লাশ ঘিরে রাতভর উত্তাল ছিল রাজধানীর শাহবাগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল এলাকা। সারারাত নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করলেও ভোর হতেই অবস্থান সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে পুলিশ, সাংবাদিকসহ জামায়াত-শিবিরের প্রায় ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হন।
গত সোমবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটের দিকে মাওলানা সাঈদীর মৃত্যুর খবর শুনে শাহবাগ মোড় ও বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালের আশপাশে দলটির নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। রাত ১১টার দিকে শাহবাগ মোড় থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত কয়েক হাজার লোক জড়ো হয়। এ ছাড়াও হাসপাতালের ভেতরেও কয়েক শ’ নেতাকর্মী অবস্থান নেন। এ সময় দলটির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। বিক্ষোভে অংশ নেয়া সামাদ আলী নামের একজন বলেন, আমরা ঢাকাবাসী প্রিয় বক্তার নামাজে জানাজায় শরিক হতে চাই। আমাদের বঞ্চিত করে তাকে পিরোজপুরে নিতে দেবো না।
বিক্ষোভের শুরুর দিকে পুলিশ থানার ভেতরে অবস্থান নিলেও পরে সুসজ্জিত হয়ে শাহবাগ মোড়ের আশপাশে অবস্থান নেয়। এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শহীদ মিনার এলাকা ও শাহবাগ এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। হাসপাতালের ভেতরে ও রাস্তায় অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। রাত আড়াইটার দিকে লাশ পিরোজপুর নেয়ার সিদ্ধান্ত হলে নেতাকর্মীরা চলে যেতে শুরু করেন। বেশির ভাগ নেতাকর্মী চলে গেলেও হাজারখানেক নেতাকর্মী হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে অবস্থান নেন। তারা দাবি করেন, ঢাকায় আগে একটি নামাজে জানাজা সম্পন্ন করে তার পর লাশ পিরোজপুর নিয়ে যেতে হবে।
পুলিশ কয়েকবার লাশ বের করার চেষ্টা করলেও বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের চাপে বের করতে পারেনি। এ সময় হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে পুলিশের সাথে তাদের বেশ কয়েকবার কথাকাটাকাটি হয়। ভোর ৫টার দিকে পুলিশ হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে প্রথমে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। জামায়াতের নেতাকর্মীরা তখন প্রতিরোধ গড়ে তুললে পুলিশের সাথে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। জামায়াতের নেতাকর্মীরাও এ সময়ে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। পরে পুলিশ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে মাওলানা সাঈদীকে বহনকারী লাশবাহী গাড়িটির চাকা পাংচার হয়ে যায়। কয়েক দফায় হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে রাবার বুলেট নিক্ষেপের পর হাসপাতাল এলাকা ফাঁকা হয়ে যায়। এরপর কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় লাশ বের করে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস হয়ে পিরোজপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। সংঘর্ষে ৩০ জনের অধিক নেতাকর্মী আহত হয়।

চকরিয়া সংঘর্ষ, গুলিতে নিহত ১: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার নামার চিরিঙ্গা জামে মসজিদ মাঠে বিকেলে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা জানাজা শেষে মুসল্লিদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ফোরকানুল ইসলাম নামে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কমপক্ষে ৪০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় পুলিশের গাড়িসহ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
জানা যায়, চকরিয়া পৌর শহরের নামার চিরিঙ্গা জামে মসজিদ মাঠে গায়েবানা জানাজার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে মুসল্লিদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ বাধে। এ সময় মুসল্লিরা পুলিশের গাড়িতে ইটপাটকেল ছুড়ে ও কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এতে পুলিশসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ বানিয়াছড়া এলাকার মনির আহমেদ (৩৫) ও কুতুবদিয়ার কুতুবউদ্দিনকে (৪৫) উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মুখোশধারীদের গুলিতে চকরিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের আবদুলভারী পাড়া এলাকার আবুল ফজলের ছেলে ফোরকানুল ইসলাম (৬০) গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহত অন্যদের চকরিয়ার বিভিন্ন চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সংঘর্ষের কথা স্বীকার করলেও চকরিয়া থানার ওসি জাবেদ মাহমুদ নিহতের ঘটনা নিশ্চিত করেননি।
চট্টগ্রামে গায়েবানা জানাজা হতে দেয়নি পুলিশ, সংঘর্ষে আহত ১২: চট্টগ্রামে পুলিশি বাধার কারণে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর গায়েবানা নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গায়েবানা নামাজে জানাজাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে দু’জন গুলিবিদ্ধসহ ১০-১২ জন মুসল্লি আহত হয়েছেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে অন্তত ২৫ জনকে আটকের দাবি করা হয়েছে এবং এই সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও জানানো হয়। একই সাথে শান্তিপূর্ণ জানাজাকে ঘিরে পুলিশের বিরুদ্ধে সীমাহীন বাড়াবাড়ির অভিযোগ করেন জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গতকাল আসরের নামাজের পর নগরীর জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের গায়েবানা নামাজে জানাজার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। খবর পেয়ে সাধারণ মুসল্লিরাও আগেভাগে সেখানে সমবেত হন। কিন্তু পুলিশ জমিয়তুল ফালাহর সব গেট বন্ধ করে দিয়ে অবস্থান নেয়। পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জানাজা কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। জামায়াত নেতৃবৃন্দ জানান, কিন্তু সেই খবর জানাজাস্থলে পৌঁছার আগেই সেখানে সমবেত মুসল্লিদের ওপর পুলিশ হামলা করে। পুলিশের হামলা থেকে রেহাই পাননি বয়োবৃদ্ধরাও। গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়ে পুলিশ সমবেত মুসল্লিদের ছত্রভঙ্গ করে এবং বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। জানাজায় আসা বেশ ক’জন নাম প্রকাশ না করার শর্তে আক্ষেপ করে বলেন, আমরা কোনো দল করি না। গায়েবানা জানাজার খবর পেয়ে এখানে এসেছিলাম। কিন্তু পুলিশ যা করল তা সীমাহীন বাড়াবাড়ি।

তবে পুলিশ দাবি করেছে মুসল্লিরাই পুলিশের ওপর আক্রমণ করেছে এবং তা প্রতিরোধ করা হয়েছে। সিএমপির উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোনো রকম পূর্ব ঘোষণা ছাড়া জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা এখানে জড়ো হতে থাকে। পরে তারা পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সেটি প্রতিরোধ করেছি। এ সময় পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। বেশ ক’জনকে আটক করার কথা জানালেও আটককৃতদের সংখ্যা পরে জানানোর কথা বলেন।
বায়তুল মোকাররমে সংঘর্ষ, গ্রেফতার ১২ : এদিকে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে পুলিশের সাথে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে জামায়াতের অন্তত ১২ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হায়াতুল ইসলাম খান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি ছিল। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা মসজিদের ভেতর ও বাইরে সরকারবিরোধী স্লোগান দিয়ে ব্যানারফেস্টুন খুলে ভাঙচুর করেন। তারা গায়েবানা নামাজে জানাজা পড়ার চেষ্টাও করেন। এ সময় পুলিশের ওপর হামলায় জড়িত অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

মাওলানা সাঈদীর নামাজে জানাজায় সুখরঞ্জন বালি: পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট বন্দরের নিকট উমেদপুর গ্রামের বাসিন্দা বিশারঞ্জন বালি হত্যা মামলার সাক্ষী তার ছোট ভাই সুখরঞ্জন বালি (৭০) মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নামাজে জানাজায় উপস্থিত হন। তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, মাওলানা সাঈদী আমার জানা মতে রাজাকার ছিলেন না এবং আমার বড় ভাই বিশা বালিকে হত্যাও করেননি। তার বিরুদ্ধে আমার বাড়ির পাশের মাহাবুবুর রহমানকে আমার ভাই হত্যা মামলার বাদি করা হয়। আমাকে বাদি না করে ভাই হত্যা মামলার সাক্ষী করা হয়। হত্যাকারীরা আমার বাড়িতে আসার সংবাদ পেয়ে আমি আমার মাকে নিয়ে ঘরের পাশের পায়খানার মধ্যে পালিয়ে ছিলাম। যারা আমার বাড়িতে এসে লুটপাট ও আমার ভাইকে হত্যা করেছে তাদের মধ্যে মাওলানা সাঈদী ছিলেন না। আমার বয়স তখন ২১/২২ বছর। তিনি বলেন, ‘আমি সাক্ষী না দেয়ায় রহস্যজনক কারণে হাইকোর্ট চত্বর থেকে আমাকে অপহরণ করে গুম করে পাশর্^বর্তী দেশে পাঠানো হয়। আমি সে দেশে জেল খেটে বাড়ি এসেছি।

পিরোজপুরে সাঈদীর জানাজায় মানুষের ঢল: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদ-প্রাপ্ত জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল পিরোজপুর শহরে আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে দুই দফা জানাজা শেষে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সেখানকার বায়তুল হামদ জামে মসজিদের পাশে তার দাফন সম্পন্ন হয়। জানাজায় জামায়াত-শিবিরের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ছাড়াও সাঈদীর হাজার হাজার ভক্ত-অনুরাগী অংশ নেন। এ সময় সাঈদীর বিরুদ্ধে হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী সুখরঞ্জন বালিকেও দেখা যায়। সাঈদীর মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি সাঈদী ফাউন্ডেশনে হাজির হন। এ সময় তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেন। জানান, সাঈদী ভালো মানুষ ছিলেন। তিনি এমপি থাকা সময় এলাকার সব মানুষ মায়ের পেটে থাকার মতো নিরাপদে ছিলেন। এদিকে সাঈদীর জানাজাকে কেন্দ্র করে পিরোজপুর শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। মোতায়েন করা হয় পুলিশ, র্যাব, বিবিজি, আর্মড পুলিশ। এর আগে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর লাশবাহী এম্বুলেন্স পুলিশি পাহারায় পিরোজপুর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত সাঈদী ফাউন্ডেশন মাঠে পৌঁছায়। সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ বিন সাঈদী ঢাকা থেকে পিরোজপুরে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় জানাজা দুপুর সোয়া ১টার দিকে শুরু হয়। জানাজায় ইমামতি করেন জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির প্রফেসর মুজিবুর রহমান। জানাজার পূর্বে তিনি ও সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ বিন সাঈদী উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুজিবুর রহমান বলেন, এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন নয়। আন্দোলনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনে সাঈদীর ছোট ছেলে মাসুদ সাঈদীকে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা করে সবার ভোট চান। দুপুর ২টার দিকে সাঈদীর মেজো ছেলে শামীম বিন সাঈদী পিরোজপুরে পৌঁছান। পিতার অসুস্থতার খবর শুনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিলেন। পরে তার উপস্থিতিতে বেলা ৩টার দিকে দ্বিতীয় দফা জানাজা হয়। এরপর বেলা সাড়ে ৩টায় আল্লামা সাঈদী ফাউন্ডেশন প্রাঙ্গণে অবস্থতি বায়তুল হামদ জামে মসজিদের পাশে জামায়াতে ইসলামীর এ শীর্ষ নেতাকে বড় ছেলে মাওলানা রাফীক বিন সাঈদীর পাশে দাফন করা হয়। এর আগে সোমবার রাত ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। গত রোববার বিকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত সাঈদীকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে ওই রাতেই তাকে বিএসএমএমইউয়ে নেয়া হয়। সাঈদীর মৃত্যুর খবরে বিএসএমএমইউতে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী ও তার ভক্তরা ভিড় জমায়। এ সময় সাঈদীর জানাজার স্থান নির্ধারণ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নেতাকর্মীরা ঢাকায় সাঈদীর জানাজা অনুষ্ঠানের দাবি করলেও প্রশাসনের আপত্তিতে সেটি করতে পারেনি পরিবার।