স্পোর্টস ডেস্ক।।
একসময় লিওনেল মেসির কোলে ছিল আট মাসের এক শিশু। ইউনিসেফের একটি দাতব্য ফটোশুটে সেই শিশুকে নিজের হাতে গোসলও করিয়েছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ১৮ বছর পর সময় যেন ঘুরে এসেছে এক অবিশ্বাস্য মোড়ে। সেই শিশুই আজ লামিনে ইয়ামাল।
আগামী রোববার (১৯ জুলাই) ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের জার্সিতে মেসির প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়াবেন ইয়ামাল। কয়েক দিন আগে ডিএজেডএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই বিখ্যাত ছবিটি দেখে হাসতে হাসতেই ইয়ামাল বলেছিলেন, ‘আমি তো একটু বড় হয়েছি, লিওও হয়েছে। আশা করি, ফিনালিসিমায় যেহেতু দেখা হয়নি, বিশ্বকাপের ফাইনালে অন্তত তার বিপক্ষে খেলতে পারব।’
কয়দিন আগে ইয়ামালের ইচ্ছাটাই যেন বাস্তবে রূপ নিলো। পুরোনো এই ছবিটি আবারও আলোচনায় আসে ২০২৪ সালে। তখন ১৬ বছর বয়সী ইয়ামাল বার্সেলোনা ও স্পেনের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান। তার বাবা মুনির নাসরাউই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করলে মুহূর্তেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। অনেকের কাছেই ছবিটি যেন ভবিষ্যতের এক প্রতীক।
অনেকের মতে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার মেসি যেন নিজের উত্তরসূরিকে কোলে তুলে নিয়েছেন। ছবিটির আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ত সংবাদ সংস্থা এএফইকে বলেন, ‘এমন একটি ছবির মূল্য কোনো অর্থ দিয়ে মাপা সম্ভব নয়।’
এই ছবির প্রেক্ষাপট বলতে গিয়ে জোয়ান মনফোর্ত জানান, ‘বার্সেলোনার দাতব্য উদ্যোগের অংশ হিসেবে লটারির মাধ্যমে কয়েকজন শিশুকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যক্রমে ইয়ামালই ছিলেন সেই শিশু, যার সঙ্গে মেসির ছবি তোলার সুযোগ হয়।’
মনফোর্ত স্মৃতিচারণ করে আরও বলেন, ‘মেসির তখন বয়স ছিল ২০, আর ইয়ামালের মাত্র আট মাস। সম্ভবত এটিই মেসির ছিল কোনো শিশুকে প্রথমবার কোলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা। তাই শুরুতে দুজনের মধ্যে স্বাভাবিক যোগাযোগ গড়ে ওঠেনি।’
রোববার (১৯ জুলাই) নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে সেই ছবির দুই চরিত্রই থাকবেন বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসি এবারের বিশ্বকাপে আট গোল করে দলের আক্রমণের প্রধান ভরসা। অন্যদিকে স্পেনের সবচেয়ে বড় তারকা ইয়ামাল। যদিও ক্লাব পর্যায়ের মতো বিস্ফোরক ছন্দে না থাকলেও বিশ্বকাপজয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার।








































