শামিম শিকদার।।
খুলনা মহানগরী ও জেলাকে পুনরায় অস্থিতিশীল করে তুলতে বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের গোপন পরিকল্পনা ও নীল নকশার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। গত কয়েকটি ঝটিকা মিছিলকে কেন্দ্র করে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির তৎপরতা সামনে আসে। ঘটনার নেপথ্যে থেকে যারা সশরীরে উপস্থিত ছিলেন, ভার্চুয়ালি উসকানি দিয়েছেন কিংবা অর্থ জোগান দিয়েছেন-এমন ৬০জন প্রভাবশালী নেতাকর্মীর একটি চাঞ্চল্যকর তালিকা প্রকাশ পেয়েছে।
বিশেষ একটি সংস্থার তথ্যমতে, খুলনার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সাবেক প্রভাবশালী নেতাকর্মীসহ বর্তমানের একটি অংশ অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে কাজ করছেন।
অর্থ যোগানদাতা ফয়জুল ইসলাম টিটো খুলনাতেই অবস্থান করছেন: অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) খুলনায় অনুষ্ঠিত ঝটিকা মিছিল ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে মূল অর্থের যোগানদাতা ছিলেন খুলনা সদর থানা যুবলীগের সদস্য মোঃ ফাইজুল ইসলাম টিটো। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে ছদ্মবেশে তিনি বর্তমানে খুলনা মহানগরীর ভেতরেই আত্মগোপন করে অবস্থান করছেন এবং ভেতর থেকে কলকাঠি নাড়ছেন।
অর্থদাতা, পরিকল্পনাকারী ও নেপথ্য নির্দেশদাতাদের তালিকা: মিছিল ও নাশকতার পরিকল্পনা সফল করতে বড় অঙ্কের অর্থ যোগান এবং ভার্চুয়াল দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের শীর্ষ কয়েকজন নেতা। এই পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের তালিকায় প্রধান নাম হিসেবে উঠে এসেছে সাবেক খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের। তিনি শেখ সোহেলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শরিফ মঞ্জুর শামীম বাবু ওরফে ক্যারাতে বাবুর মাধ্যমে অর্থ সরবরাহ ও মূল নির্দেশনা দিয়েছেন।
এছাড়া মহানগর যুবলীগের সভাপতি শফিকুর রহমান পলাশ এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ শাহজালাল সুজন অর্থ ও ভার্চুয়াল নির্দেশদাতার ভূমিকা পালন করেছেন। মিছিলে বিপুল সংখ্যক লোকবল ও জনবল সংগ্রহের মূল দায়িত্ব পালন করেছেন খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম কচি এবং জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান সোহাগ। অন্যদিকে, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পারভেজ হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন এবং মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি দেবদুলাল বাড়ুই বাপ্পি এই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সার্বক্ষণিক ভার্চুয়ালি দিক-নির্দেশনা প্রদান করেছেন বলে জানা গেছে।
সশরীরে উপস্থিত থেকে বিশৃঙ্খলা পরিচালনাকারী: শুধু নেপথ্যে থেকেই নয়, মিছিলে সশরীরে উপস্থিত থেকে মাঠ পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা ও নেতৃত্ব দিয়েছেন বহু নেতাকর্মী। সশরীরে উপস্থিত থাকা এই বিশৃঙ্খলা পরিচালনাকারীদের তালিকায় রয়েছেন-খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রণবীর বাড়ৈ সজল, মহানগর শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক সবুর শিকদার, জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক দুলাল, ৩১ নং ওয়ার্ডের শ্রমিক লীগ নেতা ইখলাচ, এবং খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী এলাকার রাসেল সরদার, মনিরুল ইসলাম ছোট্ট আকঞ্জি ও রেজোয়ান আকুঞ্জি রাজা। এছাড়া শিরোমনি এলাকার রাজা মেম্বার এবং ডাক্তার বাড়ির জাহিদও সরাসরি মিছিলে উপস্থিত ছিলেন।
২২ নং ওয়ার্ড থেকে যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর বিকু কাজির ভাইপো শিপলু কাজি, একই ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাঈদ, সদর থানা যুবলীগের সদস্য মোঃ ফাইজুল ইসলাম টিটো, মোঃ সোহাগ, ২২ নং ওয়ার্ড যুবলীগের মোঃ সুমন, মোঃ মালেক এবং খুলনা মহানগর যুবলীগের সদস্য মোঃ বাদল সেফাই সশরীরে উপস্থিত থেকে মিছিলে উসকানি দেন।
একই সাথে ২২ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাগর, সদস্য মোঃ ইমন, মোঃ শান্ত, সহ-সভাপতি মোঃ নয়ন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহসহ মোঃ মিজানুর রহমান এবং মনির হোসেন সরাসরি বিশৃঙ্খলা তৈরিতে অংশ নেন। খুলনা পলিটেকনিক ছাত্রলীগের নেতা মুশফিকুর রহমান, বটিয়াঘাটা থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ শুভ, আবিদ হাসান, শিমুল দেবনাথ, রাসেল শেখ, ৩০ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের আহ্বায়ক অনিক এবং সহ-সভাপতি সজীব পান্ডেও মিছিলে সরাসরি নেতৃত্ব দেন। মহানগর ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সোহেল, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আলামিন এবং জেলা যুবলীগ নেতা বিধানও সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই বিশৃঙ্খলায় লিপ্ত হন।
তালিকায় থাকা অন্যান্য সহযোগীরা: এই তালিকায় আরও যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন- দাকোপের শেখ রেজাউল করিম রেজা, সোনাডাঙ্গার এসএম সাদীউজ্জামান সাদী, সদরের সাগর বিশ্বাস ও মোল্ল্যা আকতারুজ্জামান মাসুম, রূপসার সুব্রত বাকচী, জাহিদ হাসান বাদশা ও হিরন শিকদার, লবণচরার সাকিব হোসেন গাজী, গল্লামারীর তানজির রহমান উষান, বটিয়াঘাটার আশিকুল ইসলাম আশিক, মিরাজ তালুকদার ও জিয়াউর রহমান জিয়া, সদরের মোল্লা আশিকুর রহমান জিতু ও আনন্দ কুমার দাস, রূপসার উত্তম কুমার দাস ও রুদ্রনীল হালদার শুভ এবং সদরের রাশেদ হাসান পিনো।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও অভিযান: এদিকে, হঠাৎ করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের এই নেতাকর্মীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা এবং উসকানিমূলক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় খুলনার সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, খুলনাকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নাশকতার মূল পরিকল্পনাকারী, মাঠপর্যায়ের হামলাকারী এবং ফয়জুল ইসলাম টিটোসহ অর্থায়নের সাথে জড়িতদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করে তাদের গ্রেপ্তারে ইতিমধ্যেই বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।








































