ঢাকা অফিস।।
সমুদ্রপথে ইউরোপ যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথ শেষ হয় বন্দিশালায়। অপহরণ, নির্যাতন আর অনিশ্চয়তার দিন পেরিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন ১৭১ বাংলাদেশি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে লিবিয়ার বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি এসব বাংলাদেশি ঢাকায় পৌঁছান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপ যাওয়ার উদ্দেশে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন।
তাদের অনেকেই লিবিয়ায় বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা ও বন্দিজীবনের পর দেশে ফেরা এসব বাংলাদেশিকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা। ভবিষ্যতে মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে যেন কেউ এমন বিপজ্জনক পথে পা না বাড়ান, সে লক্ষে দেশে ফেরত আসা বাংলাদেশিদের তাদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এদিকে, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসন করা প্রত্যেক বাংলাদেশিকে পথখরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে।











































