Home আঞ্চলিক খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্যকরে সন্ত্রাসীদের গুলি, আহত ২, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, খুলনাজুড়ে প্রতিবাদের...

খুলনায় সাংবাদিকদের লক্ষ্যকরে সন্ত্রাসীদের গুলি, আহত ২, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, খুলনাজুড়ে প্রতিবাদের ঝড়

4


স্টাফ রিপোর্টার।।


খুলনা নগরে গভীর রাতে সাংবাদিকদের আড্ডাস্থলে দুর্বৃত্তদের গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে নগরের জাতিসংঘ শিশুপার্কের পশ্চিম পাশে জলিলের চায়ের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্রতিদিনের মতো এদিনও কয়েকজন সাংবাদিক কাজ শেষে জলিলের দোকানের সামনে চেয়ার পেতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। সেখানে চারজন সাংবাদিক ও একজন বিএনপির কর্মী বসে ছিলেন। এ সময় সাতরাস্তার দিক থেকে শান্তিধামের দিকে একটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা দুই যুবক এসে সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।


ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমাদের সময়-এর খুলনা প্রতিনিধি সৈয়দ হুমায়ুন কবির রানা, এসএ টিভির খুলনা প্রতিনিধি রকিবুল ইসলাম মতি, স্টার নিউজের প্রতিনিধি রফিউল ইসলাম টুটুল এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর প্রতিনিধি আওয়াল শেখ।
এসএ টিভির খুলনা প্রতিনিধি রকিবুল ইসলাম মতি বলেন, আমরা জাতিসংঘ পার্কের পশ্চিম পাশের চায়ের দোকানে চার-পাঁচজন বসে কথা বলছিলাম। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে দুই দুর্বৃত্ত এসে গুলি চালায়। একটি গুলি গিয়ে আমার বসার টুলে লাগে। গুলি ছুড়ে তারা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।


দৈনিক আমাদের সময়-এর খুলনা প্রতিনিধি সৈয়দ হুমায়ুন কবির রানা বলেন, রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে আমরা চারজন সাংবাদিক ও একজন বিএনপির কর্মী সেখানে বসে ছিলাম। মোটরসাইকেলে থাকা দুজনের মাথায় হেলমেট ছিল। গুলির একটি স্প্লিন্টার সাংবাদিক আওয়াল শেখের গায়ে লেগে সামান্য ছুলে যায়। তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন। কী কারণে আমাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, তা বলতে পারছি না। তবে ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।


ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সদস্য সচিব ও স্টার নিউজের প্রতিনিধি রফিউল ইসলাম টুটুল বলেন, অন্যরা বসে ছিল, আমি তখন দাঁড়িয়ে ছিলাম। দুটি ছেলে মন্থর গতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসে। পেছনে বসা যুবকের পরনে হাতাকাটা গেঞ্জি ছিল এবং মাথায় হেলমেট ছিল। ঘটনাস্থলও কিছুটা অন্ধকার ছিল। প্রথমে আমরা বুঝতেই পারিনি যে গুলি হয়েছে। মনে হয়েছিল, হয়তো কোনো টায়ার ফেটেছে। গুলির শব্দও সাধারণ গুলির মতো জোরালো ছিল না। গুলি করার পরও তারা ধীরগতিতেই মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে যায়। তখন তাদের হাতে অস্ত্র দেখতে পাই।


তিনি আরও বলেন, পরে দেখি গুলিতে একটি চেয়ারের অংশ ভেঙে গেছে এবং সাংবাদিক আওয়াল শেখের গায়ে গুলির অংশ লেগে সামান্য ছুলে গেছে। আমাদের মধ্যে নির্দিষ্ট কেউ লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বলেই মনে হয়। কারণ, ওই জায়গায় প্রায় প্রতিদিনই সাংবাদিকরা আড্ডা দেন। ঘটনাটি পরিকল্পিত বলেই আমার ধারণা।


খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের একটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি গভীর রাতে হওয়ায় আশপাশের সব সিসিটিভি ফুটেজ তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। একটি সিসিটিভি ফুটেজ পাওয়া গেছে, তবে সেটি অস্পষ্ট হওয়ায় কিছু বোঝা যাচ্ছে না। এছাড়া রাতে বিশ্বকাপের খেলা থাকায় ওই এলাকায় মোটরসাইকেলের আনাগোনা বেশি ছিল। আমরা সকাল থেকে আবার তদন্ত শুরু করেছি। বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।


এদিকে সাংবাদিকদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে আজ বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার উদ্দ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন অনুস্টিত হয়েছে। মানববন্ধনে কেডিএ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা, বিসিবির পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন, চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন, বিএফইজের সহকারী মহাসচিব এহতেশাম উল হক শাওন, দৈনিক খুলনাঞ্চল পত্রিকার সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন, সাংবাদিক নেতা রাশিদুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক রানা, আশরাফুল আলম নুরসহ খুলনার পেশাজীবনে সাংবাদিক ও বিএনপির অংগসংগঠনের নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।