Home আঞ্চলিক সাগরদাঁড়ীর কাঠের সেতু ফের ভাঙল

সাগরদাঁড়ীর কাঠের সেতু ফের ভাঙল

0

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি।।

যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়ী বাজার-সংলগ্ন কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত কাঠ ও বাঁশের সেতুটি প্রবল স্রোতে ভেঙে পড়েছে। এতে দুই পারের প্রায় ২০ গ্রামের হাজারো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। সাগরদাঁড়ী-সারসা সংযোগকারী সেতুটি গত বছরও ভেঙে পড়েছিল।

গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নদীতে সৃষ্ট তীব্র স্রোতের চাপে গত রোববার রাতে প্রায় ১৮০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি ভেঙে যায়।
এতে দুই পারের বাসিন্দাদের স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গত ৩২ বছর ধরে স্থানীয়রা এখানে একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন।


জানা যায়, কেশবপুর উপজেলার দক্ষিণাংশ এবং সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পশ্চিমাংশের ২০ গ্রামের জনসাধারণের যাতায়াতের সুবিধার্থে সাগরদাঁড়ী বাজার-সংলগ্ন দুই পারের স্থানীয়দের উদ্যোগে প্রায় ২৫ বছর আগে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে সেতুটি তৈরি করা হয়। প্রায় ৮ ফুট প্রশস্ত ও ১৮০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি কেশবপুরের সাগরদাঁড়ী, কোমরপোল, চিংড়া, বগা, নেহালপুর, মহাদেবপুর রেজাকাটিসহ কয়েকটি গ্রাম এবং সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সারসা, সরুলিয়া, সেনেরগাতি, ধানদিয়াসহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে প্রতিদিন ব্যবহার করতেন। সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল নদী নৌকায় পারাপার করতে হচ্ছে।

সাগরদাঁড়ী মাইকেল মধুসূদন ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গৌতম কুমার দাস বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় নদের ওপারের শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগে পড়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসতে হচ্ছে। সাগরদাঁড়ী কাঁচাবাজারের সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, প্রতিদিন ওপার থেকে অনেক ক্রেতা ও কৃষক বাজারে আসেন। সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় ক্রেতা কমে গেছে, মালপত্র আনতেও সমস্যা হচ্ছে। এতে আমাদের ব্যবসায় বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে।


সাগরদাঁড়ী বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এই স্থানে একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানানো হলেও তা পূরণ হয়নি। ১৯৯৪ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস মধু জন্মউৎসবে সাগরদাঁড়ী এলে সেই সময়ের কেশবপুরের এমপি মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন এবং তালা-কলারোয়ার এমপি শেখ আনসার আলী রাষ্ট্রপতির কাছে এখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে দাবি করেছিলেন। তার পর থেকে প্রতিবছর মধুমেলায় যোগ দেওয়া মন্ত্রী ও সচিবদের কাছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এখানে একটি সেতু নির্মাণের জন্য দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু ৩২ বছরেও তাদের দাবি পূরণে কেউ উদ্যোগ নেননি।


কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন বলেন, ওই স্থানে কাঠের সেতু ছিল কিন্তু কপোতাক্ষ নদের কচুরিপানার প্রচণ্ড চাপে সেটি ভেঙে গেছে। গত বছরও এখানে সেতু ভেঙে গিয়েছিল। উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় নতুন করে আবার কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। যেহেতু প্রায় প্রতিবছরই সেতুটি ভেঙে যায়, তাই একটি স্থায়ী পাকা সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।