মাগুরা প্রতিনিধি।।
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়িয়া ইউনিয়নের দেউলী, যশোবন্তপুর ও কালিশংকরপুর হতে ঝামা যাওয়ার একমাত্র জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও প্রবল স্রোতে ইতিমধ্যে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে নদীগর্ভে চলে গেছে। এতে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টির পানির স্রোতে পাকা সড়কের প্রায় ৫০ ফুট এলাকা ধসে গেছে। কোথাও কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দের। এতে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও কৃষকদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন গাড়ির চালক ও যাত্রীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সড়কটি দিয়ে দেউলি, ঝামা, যশোবন্তপুর, বনগ্রাম, আদর্শগ্রামের প্রায় ১০ হাজার পথচারী প্রতিদিন যাতায়াত করেন। সড়কটি ভেঙে সংকুচিত হওয়ায় বর্তমানে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, পায়ে হেঁটে চলাই কঠিন হয়েছে। ঝামা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, দেউলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ঝামা বরকাতুল উলুম ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এ সড়ক দিয়েই যাতায়াত করে।
দেউলি গ্রামের অটোভ্যানচালক আরিফুল বলেন, ‘দ্রুত সংস্কার না করা হলে উপজেলার যোগাযোগব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে।’
ঝামা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল বিশ্বাস বলেন, ‘সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় আমাদের দুঃখের শেষ নেই। এলাকার কেউ হঠাৎ অসুস্থ হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি নেই। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুলে যায়, বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত আতঙ্কে থাকতে হয়। টেকসই তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণের দাবি আমাদের।’
পলাশবাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘সড়কটি আশপাশের কয়েক গ্রামের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম। ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি বারবার অবহিত করেছি। জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি রক্ষা করা না গেলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক ও শিক্ষাব্যবস্থা চরম সংকটে পড়বে।’
এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বেদবর্তী মিস্ত্রী বলেন, ‘সড়কটি দিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগের চিত্রটি আমার নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে দ্রুতই জরুরি সংস্কার কার্যক্রম শুরু করা হবে।’










































