Home স্বাস্থ্য রাতের খাবার না খেলে শরীরে যে ধরনের প্রভাব পড়ে

রাতের খাবার না খেলে শরীরে যে ধরনের প্রভাব পড়ে

0

মিলি রহমান।।

দিনভর ব্যস্ততা, অফিসের চাপ, যানজট, সন্ধ্যার অনুষ্ঠান সব মিলিয়ে অনেকের রাতের খাবার বাদ দিয়ে ঘুমিয়ে যান। আবার কেউ কেউ ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খাওয়ার অভ্যাসের কারণে ইচ্ছা করেই রাতের খাবার খান না।

অনেকের ধারণা, রাতের খাবার বাদ দিলেই ওজন দ্রুত কমে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? নাকি এই অভ্যাসের কারণে শরীরের ক্ষতি হতে পারে? গবেষণা বলছে, মাঝে মধ্যে একদিন রাতের খাবার না খেলেও বড় সমস্যা নাও হতে পারে, কিন্তু এটি যদি নিয়মে পরিণত হয়, তাহলে শরীর ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতের খাবার শুধু দিনের তৃতীয় বেলার খাবার নয়। এটি ঘুমের আগে শরীরকে শক্তি ও প্রয়োজনীয় পুষ্টি দেয়।

কারণ ঘুমের সময়টুকুই সাধারণত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময়, যখন আমরা কিছুই খাই না। এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাওয়ার একটি সামাজিক গুরুত্বও রয়েছে। আমেরিকান কলেজ অব পেডিয়াট্রিশিয়ানস–এর ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পরিবারের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া শিশুদের পুষ্টি, পড়াশোনার ফল এবং স্থূলতার ঝুঁকির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বেশিরভাগ মানুষ রাতের খাবারেই সবচেয়ে বেশি সবজি খেয়ে থাকেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই পর্যাপ্ত ফল ও সবজি খান না। তাই রাতের খাবার বাদ দিলে সেই সুযোগটিও হাতছাড়া হতে পারে।

রাতের খাবার না খেলে শরীরে যা ঘটে

আপনি যখন খাবার খান বা না খান, তখনই শরীরে একাধিক জৈবিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। কারেন্ট ওপিনিয়ন ইন বায়োটেকনোলজি সাময়িকীতে ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনা গবেষণা বলছে, প্রতিদিনের খাবারের সময়সূচিতে সামান্য পরিবর্তনও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক ক্ষমতাকে প্রভাবিত করতে পারে। কারণ অনিয়মিত খাবার খাওয়া শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা ২৪ ঘণ্টার জৈবঘড়ির স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়।

দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত খাবার বাদ দেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। জার্নাল অব দ্য একাডেমি অব নিউট্রিশন অ্যান্ড ডায়েটেটিকস–এ ২০২৩ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, দিনে মাত্র একবার খাবার খাওয়ার সঙ্গে মৃত্যুঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক রয়েছে। একই গবেষণায় দুপুর বা রাতের খাবার নিয়মিত বাদ দেয়ার সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকির বিষয়টি উঠে আসে।

স্বল্পমেয়াদে রাতের খাবার বাদ দিলে রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করতে পারে। এর ফলে দুর্বলতা, কাঁপুনি বা শক্তির ঘাটতি অনুভূত হতে পারে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে খাবার বাদ দেওয়ার কারণে রক্তে শর্করার মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে বা বেড়ে যেতে পারে, যা বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছে ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক। তবে যাদের ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যা নেই, তারা মাঝেমধ্যে একদিন রাতের খাবার না খেলেও সাধারণত বড় কোনো সমস্যা হয় না।

সেল মেটাবলিজম সাময়িকীতে ২০২২ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর রাতে খাবার খেলে ক্ষুধা বাড়তে পারে এবং লেপটিন নামের সেই হরমোনের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা আমাদের পরিপূর্ণতার অনুভূতি দেয়। এর ফলে স্থূলতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ইনোভেশন ইন এজিং সাময়িকীতে ২০২০ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত খাবার বাদ দেন, বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তিরা, তাদের মধ্যে বিষণ্নতা, উদ্বেগ এবং অনিদ্রার লক্ষণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।

মাঝে মধ্যে একদিন রাতের খাবার বাদ পড়তেই পারে। তবে সেটি যেন নিয়মিত না হয় সে দিকে নজর রাখতে হবে। কারণ আতের খাবার বাদ দিলে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। যদি ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে চান সে ক্ষেত্রেও রাতের খাবার বাদ দেওয়া যাবে না বরং স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে।