Home স্বাস্থ্য কাশি সারাতে লবঙ্গ কতটা উপকারী

কাশি সারাতে লবঙ্গ কতটা উপকারী

0

মিলি রহমান।।

সর্দি, অ্যালার্জি কিংবা শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে হওয়া কাশি অনেক সময় বেশ ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ঘুমেরও সমস্যা দেখা দেয়। এমন পরিস্থিতিতে ঘরোয়া উপাদান হিসেবে লবঙ্গ কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। এর প্রদাহরোধী, জীবাণুনাশক এবং প্রশান্তিদায়ক উপাদান কাশি ও গলার অস্বস্তি কমাতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। এছাড়া লবঙ্গে থাকা কিছু প্রাকৃতিক যৌগ শ্বাসতন্ত্রের জটিলতা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রদাহ কমাতে সহায়ক

লবঙ্গের অন্যতম গুণ হলো এর প্রদাহরোধী বৈশিষ্ট্য। এটি শ্বাসনালীর প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে, যা কাশি ও গলার অস্বস্তি হ্রাসে ভূমিকা রাখে।

ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর

লবঙ্গে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। ফলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে হওয়া কাশির তীব্রতা কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে।

কফ বের হতে সহায়তা করে

লবঙ্গ প্রাকৃতিক কফ নিঃসারক হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি শ্লেষ্মা পাতলা করে সহজে বের হতে সাহায্য করে। তাই যাদের কফযুক্ত কাশি রয়েছে, তাদের জন্য এটি উপকারী হতে পারে।

কাশি প্রশমনে ভূমিকা

প্রাকৃতিক কাশি প্রশমক হিসেবেও লবঙ্গ পরিচিত। এটি কাশির প্রবণতা কমিয়ে গলার অস্বস্তি হ্রাস করতে পারে, ফলে রাতে ভালো ঘুম ও স্বাভাবিক কাজকর্মে স্বস্তি পাওয়া যায়।

যেভাবে ব্যবহার করতে পারেন

লবঙ্গের চা: এক কাপ ফুটন্ত পানিতে ১ থেকে ২টি লবঙ্গ দিয়ে ৫ থেকে ১০ মিনিট ঢেকে রাখুন। এরপর ছেঁকে গরম অবস্থায় পান করুন। স্বাদ বাড়াতে চাইলে এতে মধু বা লেবুর রস মেশানো যেতে পারে।

লবঙ্গ তেলের বাষ্প : নাক বন্ধ থাকা বা কাশি কমাতে লবঙ্গ তেলের বাষ্প গ্রহণ করা যেতে পারে। মাল্টিডিসিপ্লিনারি ডিজিটাল পাবলিশিং ইনস্টিটিউট (এমডিপিআই)-এর তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ তেল সর্দি, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি ও শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন সমস্যায় কফ বের করতে সহায়তা করতে পারে।

লবঙ্গ-মধুর মিশ্রণ: দুই-একটি লবঙ্গ গুঁড়া বা থেঁতো করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে কয়েক ঘণ্টা রেখে দিন। প্রয়োজন অনুযায়ী এক চা-চামচ করে এই মিশ্রণ খেলে কাশির অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।

আদা-লবঙ্গের পেস্ট: আদা ও লবঙ্গ একসঙ্গে বেটে অল্প পরিমাণে খাওয়া যেতে পারে। এই মিশ্রণ গলার জ্বালাপোড়া ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে কাশি দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, বুকে ব্যথা বা রক্তসহ কাশি হলে ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।