Home আঞ্চলিক খুলনায় পৃথক রায়ে জোড়া হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন ও স্ত্রী হত্যার...

খুলনায় পৃথক রায়ে জোড়া হত্যা মামলায় ৮ জনের যাবজ্জীবন ও স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

0


স্টাফ রিপোর্টার।।

খুলনার আদালত আজ বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) পৃথক দুটি হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে সোনাডাঙ্গার বহুল আলোচিত জোড়া খুনের মামলায় ৮ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বটিয়াঘাটায় স্ত্রীকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার দায়ে এক স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বটিয়াঘাটায় স্ত্রীকে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড: খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী হেনা বেগমকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যার দায়ে স্বামী মো. মুকুল কাগজীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুকুল সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ১০ নম্বর সোরা গ্রামের রাজ্জাক কাগজীর ছেলে।

আজ বুধবার খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক মো. খুরশীদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল না।

ঘটনার বিবরণ: আদালত সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে বটিয়াঘাটা উপজেলার দারোগার ভিটার বাসিন্দা মো. বিল্লাল হোসেন মল্লিকের মেয়ে হেনা বেগমের সঙ্গে মুকুল কাগজীর বিয়ে হয়। তাঁদের ঘরে একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই হেনার ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাত মুকুল। ২০১৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে শান্তিনগরের বাড়িতে হেনাকে মারধর করা হলে তিনি ফুফুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথিমধ্যে আশিকের ভিটায় পৌঁছালে পেছন থেকে মুকুল ইট দিয়ে হেনার মাথায় সজোরে আঘাত করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহত হেনার বাবা বাদী হয়ে পরদিন বটিয়াঘাটা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৩১ অক্টোবর বটিয়াঘাটা থানার এসআই বোধন চন্দ্র বিশ্বাস আসামি মুকুল কাগজীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

সোনাডাঙ্গায় চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যা মামলায় ৮ আসামির যাবজ্জীবন: খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গায় ২০১০ সালে সংঘটিত বহুল আলোচিত জোড়া খুনের মামলায় ৮ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাজাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে খুলনার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নুসরাত জাবিন এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী শুভেন্দু রায় চৌধুরী।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন: বাগেরহাটের কচুয়ার ফারুক শেখ ওরফে গাড়ি ফারুক, খুলনার বটিয়াঘাটার নুরুদ্দিন মো. রাজু ওরফে ইন্ডিয়ান রাজু, সোনাডাঙ্গার জাহাঙ্গীর হোসেন, সোহেল শিকদার, কালু শেখ ওরফে রাজিব, বটিয়াঘাটার সিদ্দিক, গল্লামারীর ওয়াসিম ওরফে দাদা ওয়াসিম এবং রূপসার জব্বার। রায় ঘোষণার সময় কেবল আসামি ‘গাড়ি ফারুক’ আদালতে উপস্থিত ছিলেন; বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ: মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, রূপসার খান মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. হায়দার ওরফে কানা হায়দার সোনাডাঙ্গার বানরগাতি মাটিয়াপুল এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন। পূর্বশত্রুতার জেরে ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টার দিকে রামদা ও ছুরিসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে আসামিরা হায়দারের ঘরে ঢুকে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। হায়দারের চিৎকারে তাঁর শ্যালক তরিকুল ইসলাম পিকু এবং স্ত্রী মর্জিনা খাতুন বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁদেরও কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে হায়দার ও শ্যালক পিকু মারা যান।

এ ঘটনায় নিহত হায়দারের ভাই তৈয়ব আলী বাদী হয়ে সোনাডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১৩ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৭ জন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছিলেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।