মিলি রহমান।।
শৈশব থেকেই অনেকের কাছে একটি প্রচলিত কথা হলো—গাজর খেলে চোখের দৃষ্টি ভালো হয় এবং চশমার প্রয়োজন কমে যায়। গাজর নিঃসন্দেহে পুষ্টিকর একটি সবজি, তবে এটি খাওয়ার ফলে দৃষ্টিশক্তি কতটা উন্নত হয়, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই ভুল ধারণা রয়েছে।
গাজরে থাকা বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। চোখের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ভিটামিন এ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কম আলোতে দেখার ক্ষমতা ঠিক রাখতে এটি রেটিনাকে সহায়তা করে এবং চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।
তবে এর মানে এই নয় যে, নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে গাজর খেলে কারও দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তীক্ষ্ণ হয়ে যাবে কিংবা চশমা ছাড়াই দেখা সম্ভব হবে। শরীরে ভিটামিন এ-এর ঘাটতির কারণে যে দৃষ্টিজনিত সমস্যা তৈরি হয়, তা প্রতিরোধে গাজর উপকারী হতে পারে। কিন্তু চোখের আকৃতি বা প্রতিসরণজনিত সমস্যার কারণে হওয়া ক্ষীণদৃষ্টি, দূরদৃষ্টি বা অন্য কোনো দৃষ্টিসংক্রান্ত ত্রুটি গাজর খেয়ে দূর করা যায় না।
যাদের শরীরে ভিটামিন এ-এর মাত্রা ইতোমধ্যেই পর্যাপ্ত, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গাজর খেলে চোখের ক্ষমতা আরও বেড়ে যায় না। তবে প্রতিদিনের সুষম খাদ্যতালিকায় গাজর রাখা শরীরের জন্য ভালো, কারণ এতে রয়েছে আঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও ত্বকের সুস্থতায় সহায়তা করে।
অনেক বেশি পরিমাণে দীর্ঘদিন গাজর খেলে ত্বকে হলুদ বা কমলা রঙের আভা দেখা দিতে পারে। এই অবস্থাকে ক্যারোটেনেমিয়া বলা হয়। এটি সাধারণত ক্ষতিকর নয় এবং গাজর খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যায়।
চোখের ভালো স্বাস্থ্যের জন্য শুধু গাজরের ওপর নির্ভর না করে বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার খাওয়া জরুরি। লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিনসমৃদ্ধ সবুজ শাকসবজি, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত মাছ ও আখরোট, এবং ভিটামিন সি, ভিটামিন ই ও জিঙ্কসমৃদ্ধ খাবার চোখের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অতএব, গাজর চোখের জন্য উপকারী হলেও এটি কোনো অলৌকিক খাবার নয়। এটি দৃষ্টিশক্তি বাড়িয়ে দেয় না বা চশমার প্রয়োজনীয়তা দূর করে না। চোখ সুস্থ রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত যত্ন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।











































