স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা মহানগরীর জাতিসংঘ শিশুপার্ক এলাকায় সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে অতর্কিত গুলিবর্ষণ ও একজনকে আহত করার ঘটনায় অবশেষে খুলনা সদর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩২৬ ও ৩০৭ ধারায় অজ্ঞাতনামা দুই আসামির বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, খুলনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই/নিঃ) মো. তানজির রহমান বাদী হয়ে এই এজাহার দায়ের করেন। পরে সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম, বিপিএম-এর নির্দেশে ১৫ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাত ২১:০০ ঘটিকায় মামলাটি দালিলিকভাবে রুজু করা হয় (মামলা নং- ২১)।
পুলিশের দায়ের করা মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাতে এসআই মো. তানজির রহমান তাঁর সঙ্গীয় ফোর্সসহ খুলনা সদর থানা এলাকায় রাত্রিকালীন মোবাইল-১২ ডিউটিতে নিয়োজিত ছিলেন। ১৫ জুলাই রাত আনুমানিক সোয়া ১২টায় বেতার যন্ত্রের (ওয়ারলেস) মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন যে, সদর থানাধীন জাতিসংঘ পার্কের পশ্চিম দিকে রাস্তার ওপর আবদুল জলিল শেখের পানের দোকানের সামনে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফোর্সসহ তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক ও স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জানা যায়, ১৫ জুলাই রাত আনুমানিক ১২:০৫টা থেকে ১২:১০টার মধ্যে উক্ত চায়ের দোকানের সামনে বসে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছিলেন: আওয়াল শেখ (সাংবাদিক), সৈয়দ হুমায়ুন কবির রানা (সাংবাদিক), রকিবুল ইসলাম মতি (সাংবাদিক), রফিউল ইসলাম টুটুল (সাংবাদিক) ও লেলিন (দপ্তর সম্পাদক, খুলনা সদর থানা বিএনপি)।
এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে অজ্ঞাতনামা দুজন ব্যক্তি সাতরাস্তার মোড়ের দিক থেকে এসে তাঁদেরকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করে। ছোঁড়া গুলিটি সাংবাদিক রকিবুল ইসলাম মতির বসে থাকা টুলে (চেয়ারে) আঘাত করে। এরপর গুলিটি সরাসরি শরীরে বিদ্ধ না হলেও সাংবাদিক আওয়াল শেখের বুকের ডান পাশে স্পর্শ করে পাশ কেটে চলে যায়। এতে তিনি বুকের ডান পাশে জখমপ্রাপ্ত হন।
গুলিবর্ষণের পরপরই অজ্ঞাতনামা আসামিরা মোটরসাইকেলযোগে দ্রুতগতিতে শান্তিধাম মোড়ের দিকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে আশপাশের লোকজন গুরুতর আহত সাংবাদিক আওয়াল শেখকে চিকিৎসার জন্য নগরীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, খুলনায় নিয়ে যান এবং সেখান থেকে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
মামলার এজাহারে এসআই মো. তানজির রহমান উল্লেখ করেন, ঘটনার পর ভিকটিম ও উপস্থিত সাংবাদিকরা আকস্মিক এই হামলায় চরম ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিষয়ে ভিকটিমের পক্ষ থেকে কিছুটা অনিহা প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও ধর্তব্য অপরাধ হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে বিস্তারিত আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর থানায় এসে এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়। খুলনা সদর থানার পুলিশ জানায়, সাংবাদিকদের ওপর হামলার এই ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত পিস্তলের গুলির খোসা ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারী অজ্ঞাতনামা দুই সন্ত্রাসীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।










































