Home জাতীয় সিদ্ধান্ত বাতিল, কমনো হচ্ছে না সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ

সিদ্ধান্ত বাতিল, কমনো হচ্ছে না সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ

0

ঢাকা অফিস।।

উপসচিব থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের মাসিক গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তা থেকে সরে এসেছে সরকার। ফলে কর্মকর্তাদের গাড়ির মাসিক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ আগের মতোই ৫০ হাজার টাকা বহাল থাকছে।

শুধু বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তাই নন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তারাও এই সুবিধা পেয়ে আসছেন।

জানা গেছে, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমানোর বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে চিঠি চালাচালি হয়েছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনেকের মধ্যেই একধরনের অসন্তোষ দেখা দেয়।

গত ৯ জুলাই গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেই বিষয়ে কোনো কার্যক্রম গ্রহণ না করার জন্য বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে অর্থ বিভাগ।

এর মধ্য দিয়ে এই খরচ ৫০ হাজার টাকাই বহাল রইল। এদিকে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বেলা সাড়ে তিনটায় সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এ বিষয়ে একটি আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।

প্রাধিকারভুক্ত সরকারি কর্মকর্তারা গাড়ি কেনার জন্য ৩০ লাখ টাকা করে সুদমুক্ত ঋণ পেয়ে আসছিলেন।

তবে গত ৯ জুলাই এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই ঋণ সুবিধা বন্ধ করে দেয় সরকার। সুদমুক্ত ঋণের টাকায় কেনা গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ প্রতি মাসে কর্মকর্তাদের ৫০ হাজার টাকা দেয় সরকার। এটি কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে গত ১৩ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয় অর্থ বিভাগ। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় কীভাবে কমানো যায়, তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওপরই ছেড়ে দিয়েছিল অর্থ বিভাগ।

ব্যয় কমানোর পক্ষে যুক্তি দিয়ে অর্থ বিভাগের পাঠানো চিঠিতে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছিল, সীমিত সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা, মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে আনা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত কর্মকর্তাদের অসন্তোষ ও উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটল সরকার।