Home স্বাস্থ্য হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া যেসব মারাত্মক রোগের ইঙ্গিত দেয়

হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া যেসব মারাত্মক রোগের ইঙ্গিত দেয়

0

মিলি রহমান।।

খাদ্যাভ্যাস বা ব্যায়ামে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না থাকলেও যদি ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে শরীরের মোট ওজনের ৫ শতাংশ বা তার বেশি কমে যায়, তাহলে বিষয়টিকে স্বাভাবিক ধরে নেওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকদের মতে, এমন অকারণ ওজন হ্রাস বিভিন্ন গুরুতর রোগের প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে।

ক্যানসারের লক্ষণও হতে পারে

হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া ফুসফুস, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়, কোলন কিংবা রক্তের ক্যানসারসহ বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের একটি পরিচিত উপসর্গ। এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা বা অস্বাভাবিক ব্যথা দেখা দিতে পারে।

ডায়াবেটিসের কারণে ওজন কমতে পারে

বিশেষ করে টাইপ–১ বা নিয়ন্ত্রণহীন টাইপ–২ ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে গেলে শরীর শক্তির চাহিদা পূরণে চর্বি ও পেশি ভাঙতে শুরু করে। ফলে দ্রুত ওজন কমে যায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত পিপাসা, ঘন ঘন প্রস্রাব ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা

হাইপারথাইরয়েডিজমে থাইরয়েড হরমোন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উৎপন্ন হয়। এতে শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খাবার খেলেও ওজন কমতে পারে। এ অবস্থায় হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, হাত কাঁপা এবং অতিরিক্ত ঘামের মতো লক্ষণও দেখা যায়।

যক্ষ্মা (টিবি)

দীর্ঘদিন কাশি, জ্বর, রাতে অতিরিক্ত ঘাম এবং ওজন কমে যাওয়া—এগুলো যক্ষ্মার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।

পরিপাকতন্ত্রের রোগ

সিলিয়াক ডিজিজ, ক্রোনস ডিজিজ বা দীর্ঘদিনের অন্ত্রের সমস্যায় শরীর খাবারের পুষ্টি সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না। এর ফলে ধীরে ধীরে ওজন কমতে থাকে।

দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ

এইচআইভি, দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ কিংবা কিছু প্রদাহজনিত রোগের কারণেও অকারণে ওজন কমে যেতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যজনিত কারণ

বিষণ্নতা, উদ্বেগ, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা খাওয়াদাওয়া-সংক্রান্ত মানসিক ব্যাধি (ইটিং ডিসঅর্ডার) ক্ষুধা কমিয়ে দেয়। এর ফলে দ্রুত ওজন হ্রাস পেতে পারে।

কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?

নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—

• কোনো চেষ্টা ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাচ্ছে।

• ওজন কমার সঙ্গে দীর্ঘদিন জ্বর, কাশি বা রক্তপাত রয়েছে।

• ক্ষুধা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

• অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভূত হচ্ছে।

• পেটব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া বা খাবার গিলতে সমস্যা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, অকারণে ওজন কমে গেলে সেটিকে অবহেলা না করে দ্রুত কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো রোগ শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব।