স্টাফ রিপোর্টার।।
আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে খুলনায় বাস্তবায়ন হচ্ছে ২ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকার সুয়ারেজ প্রকল্প। তবে উন্নয়নের সেই প্রকল্পই এখন নগরবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাইপলাইন বসানোর পর নগরীর দুই শতাধিক অলিগলি ও উপ-সড়ক মাসের পর মাস খুঁড়ে রেখে দেয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কোথাও ছয় মাস, কোথাও এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সড়ক সংস্কার না হওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক চলাচল। এ অবস্থার জন্য ওয়াসা ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়হীনতাকেই দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা।
খুলনা ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পের আওতায় নগরীর ১৫ থেকে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ২৭ হাজার বাড়িতে পয়োনিষ্কাশন সংযোগ দেয়া হবে। এ জন্য ২৫৫ কিলোমিটারের বেশি পাইপলাইন, সাড়ে ১২ হাজার ম্যানহোল, দুটি শোধনাগার ও আটটি পাম্প স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২১৫ কিলোমিটার পাইপলাইন এবং অধিকাংশ ম্যানহোলের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু পাইপ বসানোর পর অনেক অলিগলি ও উপ-সড়ক আর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়া হয়নি।
অলিগলিতে কাদা, ধুলা আর দুর্ভোগ:
নগরীর টুটপাড়া, দারোগাপাড়া, লবনচরা এলাকার বিভিন্ন সড়কে গিয়ে দেখা যায়, কোথাও ইট উঠে গেছে, কোথাও বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক কাদায় পরিণত হচ্ছে। আবার শুকনো মৌসুমে উড়ছে ধুলাবালি। এতে রিকশা, ইজিবাইক এমনকি জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে।
টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. আব্দুল করিম বলেন, এক বছর ধরে রাস্তা খোঁড়া অবস্থায় পড়ে আছে। বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান কাদা হয়। বয়স্ক মানুষ ও শিশুদের নিয়ে বের হওয়াই কষ্টকর। সড়কে রিঙ্া প্রবেশ করে না। ওয়াসার কাছে বারবার জানিয়েও কোন সমাধান মিলছে না। ফলে বাজারের ভারী ব্যাগ নিয়ে হেটেই পার হতে হচ্ছে। ভোগান্তি থেকে কবে মুক্তি মিলবে জানি না।
দারোগাপাড়া এলাকার গৃহিণী রাবেয়া খাতুন বলেন, বাসায় অসুস্থ্য শশুর আছেন। প্রায়ই তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হয়। তবে সড়কে রিঙ্া বা ইজিবাইক না চলায় আমাদের দুর্ভোগ বেড়েই চলছে।
দায় কার?
খুলনা ওয়াসার প্রকল্প পরিচালক খান মোহাম্মদ সেলিম বলেন, ‘সুয়ারেজ প্রকল্পের মূল কাজ অনেকটাই শেষ হয়েছে। তবে সড়ক পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে বরাদ্দের সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে প্রকল্প সংশোধনের (ডিপিপি) প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই অবশিষ্ট সড়ক সংস্কারের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক হয়েছে। যেসব সড়ক সিটি কর্পোরেশন করতে পারবে না, সেগুলো ওয়াসা নিজস্ব অর্থায়নে সংস্কারের উদ্যোগ নেবে। নগরবাসীর ভোগান্তি যত দ্রুত সম্ভব কমিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ্য।’
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘ওয়াসার প্রকল্পের কারণে যেসব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো সংস্কারের বিষয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় চলছে। বরাদ্দের সীমাবদ্ধতার কারণে সব সড়কের কাজ একসঙ্গে করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে প্রধান সড়কগুলোর সংস্কার শেষ হয়েছে। এখন পর্যায়ক্রমে অলিগলি ও উপ-সড়কগুলো সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ওয়াসার প্রকল্প সংশোধন অনুমোদন হলে বাকি কাজও দ্রুত এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। আমাদের লক্ষ্য, নাগরিকদের দুর্ভোগ যত দ্রুত সম্ভব দূর করা।
মেয়াদ শেষেও পেরিয়ে গেছে দুই বছর
খুলনা ওয়াসার সুয়ারেজ প্রকল্পটি ২০২৫ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে কাজের ধীরগতি ও বিভিন্ন জটিলতায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু নগরবাসীর প্রশ্ন, প্রকল্প শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত আর কতদিন ভাঙা সড়কের দুর্ভোগ পোহাতে হবে তাদের।









































