ঢাকা অফিস।।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে একটি রেস্টুরেন্টে সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠকের অভিযোগে ছাত্রজনতার তোপের মুখে পড়েছিলেন ‘আওয়ামী লীগপন্থী’ বলে পরিচিত কয়েকজন সাংবাদিক। বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে তেজগাঁও ইমপালস হাসপাতাল সংলগ্ন আল মদিনা রেস্টুরেন্টে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের দাবি, ওই রাতে সাংবাদিক জ ই মামুন, মুন্নি সাহা ও প্রভাষ আমিনসহ কয়েকজন সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন প্রয়াত লেখক হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী এবং সাম্প্রতিক সময়ে জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করে সমালোচিত হওয়া মেহের আফরোজ শাওন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈঠকটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে উপস্থিত কয়েকজন তাদের ঘিরে ধরেন। এরপর তাদেরকে পুলিশে দিতে চাইলে জনতার কাছে মাফ চান তারা। এতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে পুলিশে ফোন দেন এই সাংবাদিকরা। এক পর্যায়ে ছাত্রজনতাকে বুঝিয়ে এবং অভিযুক্তদের দুঃখ প্রকাশ ও মৌখিক মুচলেকা নিয়ে তাদেরকে চলে যেতে দেয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ঘটনার সময় মেহের আফরোজ শাওন জ ই মামুনের পাশে বসা ছিলেন। তবে ক্যামেরার বিপরীত দিকে মুখ লুকিয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে বের হওয়ার সময় শাওন চুল দিয়ে তার মুখ ঢেকে রেখেছিলেন।
রেস্টুরেন্টের মালিক ও প্রোভাইডার জিয়াউর রহমান খোকন জানান, রাত আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে শাওন, মুন্নি সাহা, জ ই মামুনসহ কয়েকজন রেস্টুরেন্টে খাবার খেতে আসেন। তারা এর আগেও সেখানে এসেছেন। ঘটনার সময় রেস্টুরেন্টে ৪০ থেকে ৪৫ জন গ্রাহক ছিলেন।
তিনি আরও জানান, খাওয়ার সময় কয়েকজন গ্রাহকের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। পরে আরও কিছু লোক জড়ো হন। তারা রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন তোলেন, কেন এ ধরনের গ্রাহকদের সেখানে বসতে দেয়া হয়েছে।
এক পর্যায়ে রেস্টুরেন্টের সামনে ২০০ থেকে ৩০০ লোক জড়ো হলে পরিস্থিতি থমথমে হয়ে ওঠে। এ সময় এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে তারা সেখান থেকে চলে যান।
তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসলাম হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। তবে সেখানে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কাউকে পাওয়া যায়নি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।
এ বিষয়ে সাংবাদিক জ ই মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।









































