স্টাফ রিপোর্টার।।
সম্প্রতি খুলনা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইনে আমার বিরুদ্ধে ‘হুইপের কন্ঠ নকল করে পুলিশ সুপারকে বদলীর প্রলোভন: খুলনায় দুজনের মুচলেকা’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিধায় এই প্রতিবেদনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রিপোর্টে বিসিএস উত্তীর্ণ একজন পুলিশ সুপারকে ভালো পোস্টিং দেয়ার আশ্বাসে অর্থ দাবি করার যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার সাথে বাস্তবতার কোন সম্পর্ক নেই। বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে দুঢ়চেতা ও অনমনীয় ভূমিকা পালন করে আজকের অবস্থানে পৌঁছেছি। ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত খুলনা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছি। এর আগে ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ শাখার সভাপতি ছিলাম।
জাতীয়তাবাদী রাজনীতির ধারক বাহক হিসেবে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে সখ্যতা ও হৃদ্যতা গড়ে উঠেছে। রাজনীতির মাধ্যমে জনসেবার প্রচলিত ধারায় আমার অবস্থান। জনমানুষের কল্যাণে আমার সুনাম ও পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে তাদের জন্য কাজ করে চলেছি। ফলে চব্বিশের গণঅভূত্থান পরবর্তী সময়ে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ তাদের নানা কাজে ও সমস্যা সংকটের সমাধানে আমার কাছে আসে। আমিও বিভিন্ন দপ্তরে বা সংস্থায় যোগাযোগ করে তাদের সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রেখে চলেছি। আলোচিত ঘটনাতেও একইভাবে আমার কাছে সহযোগিতা চাওয়ায় আমি যোগসূত্র তৈরি করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্ত হঠাৎ করেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা শুরু করা হয় এবং প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে হয়রানিমূলক কার্যক্রম চালানো হয়।
খুলনা বিএনপির রাজনীতিতে অভিভাবক হিসেবে রয়েছেন জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল ভাই। তার সুদৃঢ় নেতৃত্ব ও সুদূরপ্রসারী নির্দেশনায় দল সংগঠিত ও পরিচালিত হচ্ছে। তার কন্ঠস্বর নকল করার মতো জালিয়াতিপূর্ণ কর্মকান্ড কোন সুস্থ মস্তিস্কের রাজনৈতিক কর্মীর পক্ষে করা সম্ভব না। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, এ ধরনের কোন কাজ আমি করিনি, করা সম্ভব নয়। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আমার বিরুদ্ধে ৪২ টি মামলা হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে আমাকে ৯ বার কারাবন্দী থাকতে হয়েছে। তার মধ্যে ২০১৪ সালে টানা সাড়ে চার মাস কারাগারে ছিলাম। সময়ের মানদন্ডে নৈতিকতার কষ্টিপাথরে আমি জাতীয়তাবাদী দলের একজন পরীক্ষিত কর্মী। শত প্রতিকূলতাতেও যে নীতিভ্রষ্ট বা দলত্যাগী হইনি। আমি মনে করি আগামী দিনে রাজনৈতিক পদ পদবী লাভের ক্ষেত্রে আমাকে বিতর্কিত করতে ও পেছনে ফেলতে দলের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা কুচক্রী প্রতিপক্ষ এই মিথ্যা প্রোপাগান্ডায় মেতেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। যারা এই কাজ করছেন তাদেরকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি। সেই সাথে মিডিয়ার বন্ধুদেরকে যে কোন অভিযোগের সত্যাসত্য যথাযথভাবে যাচাইয়ের পরে প্রতিবেদন প্রকাশের অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় বিভ্রান্তিকর অভিযোগে প্রকাশিত সংবাদের কারণে ঘটে যাওয়া সুনাম ও মর্যাদাহানির প্রতিকার পেতে ভুক্তভোগীদের আইনের আশ্রয় নেওয়ার কোন বিকল্প নেই।
প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে প্রতিবেদকের বক্তব্য:
প্রকাশিত সংবাদটি কোনোভাবেই কাল্পনিক, মনগড়া কিংবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয়। সংবাদটি সম্পূর্ণ বস্তুনিষ্ঠ এবং অভিযুক্তদের নিজস্ব হস্তাক্ষরে দেওয়া লিখিত জবানবন্দী ও অকাট্য দালিলিক প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই পরিবেশন করা হয়েছে। পাঠকদের প্রকৃত সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য জানার সুবিধার্থে প্রতিবেদকের বক্তব্য নিচে তুলে ধরা হলো-
হস্তলিখিত মুচলেকার অকাট্য প্রমাণ: প্রতিবাদকারী শরিফুল ইসলাম বাবু তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করলেও, আমাদের নিকট শরিফুল ইসলাম বাবু ও তাঁর সহযোগী মো: হাবিবুর রহমানের নিজস্ব হস্তাক্ষরে লেখা ও স্বাক্ষর করা দুটি পৃথক ‘মুচলেকা’র মূল কপি সংরক্ষিত রয়েছে। যেখানে শরিফুল ইসলাম বাবু নিজে লিখে স্বাক্ষর করেছেন যে, তিনি এবং মো: হাবিবুর রহমান আর্থিক লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ২৫তম বিসিএস-এর একজন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে জেলায় পদায়নের প্রলোভন দেখিয়ে মাননীয় হুইপ মহোদয়ের কণ্ঠ নকল করে বিভিন্ন জায়গায় কথা বলেন।
প্রকাশ্য অপরাধ স্বীকারোক্তি: অভিযুক্তরা মুচলেকায় স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, তারা উক্ত কাজের জন্য অনুতপ্ত এবং ভবিষ্যতে এহেন কার্যক্রমে জড়াবেন না মর্মে অঙ্গীকার প্রদান করছেন। সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ও সুনির্দিষ্ট তারিখে দেওয়া এমন লিখিত জবানবন্দীর পর একে “মিথ্যা প্রোপাগান্ডা” কিংবা “প্রশাসনকে ভুল বুঝানো” বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা সম্পূর্ণ নিরর্থক।










































