Home খেলাধুলা নিম্নাঙ্গ দেখিয়ে ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে হয়েছিল তাদের!

নিম্নাঙ্গ দেখিয়ে ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে হয়েছিল তাদের!

14

স্পোর্টস ডেস্ক।।

বিশ্বকাপে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন কার না থাকে। এ জন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হয়ে খেলোয়াড়দের। তবুও নানা কারণে অনেকে সুযোগ পান না। কিন্তু দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পেতে যদি লজ্জা বিসর্জন দিতে হয়, কেমন হবে ব্যাপারটা?
বিস্ময়কর হলেও এমনটাই হয়েছিল সুইডেনের মেয়েদের সঙ্গে। দলের ফুটবলার ছেলে, মেয়ে নাকি তৃতীয় লিঙ্গের তা পরীক্ষা করা হয়েছিল নিম্নাঙ্গ দেখার মাধ্যমে!

সুইডেনের মহিলা ফুটবলার নিলা ফিশার জানিয়েছেন, ২০১১ সালের বিশ্বকাপের আগে এমনটাই ঘটেছিল তাদের দলে। ফিশার একটি বই লিখেছেন। সেখানেই তিনি উল্লেখ করেছেন ২০১১ সালের সে ঘটনার কথা।

ফিশারের ‘আই ডোন্ট ইভেন সে হাফ অফ ইট’ বইটিতে তিনি জানিয়েছেন, তাদের নিম্নাঙ্গ দেখে লিঙ্গ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাদের দলে একজন পুরুষ চিকিৎসক ছিলেন। তিনি নিজে মেয়েদের নিম্নাঙ্গ না দেখলেও তার উপস্থিতিতেই দলের মহিলা ফিজিও ফুটবলারদের ঘরে যান। সেখানে ফুটবলারদের প্যান্ট এবং নিম্নাঙ্গের অন্তর্বাস খুলতে বলা হয়।

ফিশার লিখেছেন, আমাদের বলা হয়েছিল নিম্নাঙ্গের চুল না কাটতে। সেই সঙ্গে চিকিৎসক এসে আমাদের দেখবেন বলেও জানানো হয়েছিল। আমরা কেউ বুঝিনি কেন চুল কাটতে পারব না। কিন্তু আমরা সকলেই নিয়ম পালন করেছিলাম।

এরপর তিনি লেখেন, আমাদের মনে হয়েছিল লিঙ্গ নির্ধারণ করার নিশ্চয়ই অন্য কোনো উপায় থাকবে। কিন্তু আমরা বাধ্য হয়েছিলাম নিয়ম মানতে। কী করব? সামনে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ। আমরা চাইছিলাম এই অস্বস্তিকর এবং অপমানকর কাজটা যত তাড়াতাড়ি হয়ে যায়।

জার্মানিতে ২০১১ সালের বিশ্বকাপের আগে এভাবেই সুইডেন দলের সব মহিলা ফুটবলারকে পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেবার এক দেশের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তাদের দলে পুরুষ ফুটবলার রয়েছে। ইকুয়েটোরিয়াল গিনির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেছিল নাইজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ঘানা।

এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিশার বলেন, আমি একটা জিনিসই বুঝেছিলাম। আমাকে দ্রুত প্যান্ট এবং অন্তর্বাস একসঙ্গে নামাতে হবে। ফিজিও দেখবেন এবং মাথা নেড়ে ‘হ্যাঁ’ বলবেন। দলের চিকিৎসক তখন দরজার বাইরে আমার ঘরের দিকে পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। সেই চিকিৎসক খাতায় নোট নেন এবং পাশের ঘরে চলে যান।

সেবার সুইডেন দলের সকলের সঙ্গে এটা করা হয়েছিল। ফিশার বলেন, দলের সকলের পরীক্ষা করার পর, বলা ভাল নিম্নাঙ্গ দেখার পর দলের চিকিৎসক জানান যে দলে সকলে মহিলা রয়েছে। দলে খুবই ভাল পরিবেশ ছিল সেবার। সেজন্যই বোধ হয় এটা করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু খুবই অস্বাভাবিক একটা ঘটনা ছিল ওটা। সকলেই খুব অস্বস্তির মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম।

২০১১ সালে মেয়েদের বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার দু’সপ্তাহ আগে ফিফা জানিয়েছিল যে, অংশগ্রহণকারী দলের সকলের লিঙ্গ সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে।