মিলি রহমান।।
ফুসফুসের ক্যান্সার বর্তমান বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক ব্যাধি। মারাত্মক হলেও প্রাথমিক অবস্থায় এই রোগের স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা যায় না।
সাধারণ কাশি, হালকা শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা কিংবা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণগুলো যখন প্রকাশ পায়, ততক্ষণে রোগটি অনেকটাই ছড়িয়ে পড়ে। তাই চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক পর্যায়ে এই ব্যাধি শনাক্ত করে প্রাণ বাঁচাতে বড় অস্ত্র হতে পারে ‘লো-ডোজ সিটি স্ক্যান’ (এলডিসিটি) স্ক্রিনিং।
কাদের জন্য স্ক্রিনিং জরুরি: চিকিৎসকদের মতে, ফুসফুস ক্যান্সারের স্ক্রিনিং সবার জন্য প্রয়োজন নেই। মূলত ৫০ থেকে ৮০ বছর বয়সের ব্যক্তি, যাদের অন্তত ‘২০ প্যাক-ইয়ার’ ধূমপানের ইতিহাস রয়েছে—তাদের বছরে অন্তত একবার লো-ডোজ সিটি স্ক্যান করানো উচিত।
ধূমপানের মাত্রা পরিমাপের হিসাব অনুযায়ী, ২০ বছর ধরে দিনে ১ প্যাকেট বা ১০ বছর ধরে দিনে ২ প্যাকেট সিগারেট খেলে তা ‘২০ প্যাক-ইয়ার’ হিসেবে গণ্য হয়। যারা বর্তমানে ধূমপায়ী বা গত ১৫ বছরের মধ্যে ধূমপান ছেড়েছেন, তারা এই ঝুঁকির আওতায় পড়েন।
কেন লো-ডোজ সিটি স্ক্যান: সাধারণ বুকের এক্স-রে দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের ছোট টিউমার শনাক্ত করা কঠিন। সেখানে লো-ডোজ সিটি স্ক্যান খুব কম তেজস্ক্রিয়তা ব্যবহার করে ফুসফুসের স্পষ্ট ছবি তুলে ধরে। ফলে কোনো লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই ছোট আকারের টিউমার ধরা পড়ে এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়।
অধূমপায়ীদের ঝুঁকি: ফুসফুসের ক্যান্সার কেবল ধূমপায়ীদেরই হয়—এই ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। বায়ুদূষণ, কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা ও বংশগত কারণে ধূমপান না করা ব্যক্তিদের মধ্যেও ইদানীং ক্যান্সারের প্রবণতা বাড়ছে। তবে অধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে সচরাচর এই স্ক্রিনিং করানোর প্রয়োজন পড়ে না।









































