Home স্বাস্থ্য আসল দারুচিনি চেনার উপায়

আসল দারুচিনি চেনার উপায়

0

মিলি রহমান।।

রান্নায় স্বাত বাড়াতে দারুচিনির তুলনা নেই। মাংস হোক কিংবা মিষ্টি জাতীয় খাবার, একটু দারুচিনি না দিলে যেন স্বাদ অপুর্ণ থেকে যায়। আজকাল বাজারে দারুচিনির বদলে ‘ক্যাসিয়া’নামের এক ধরনের গাছের ছাল মিলছে। দেখতে প্রায় একই রকম হলেও, এই নকল মসলা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

টিভি নাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণা বলছে, নকল দারচিনি বা ক্যাসিয়াতে ‘কুমারিন’নামের এক ধরনের উপাদান অনেক বেশি মাত্রায় থাকে। রান্নায় বা চায়ে নিয়মত এই নকল ছাল ব্যবহার করা হলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। আসল দারচিনি, যেটাকে‘সিলন দারচিনি’বলা হয়, তাতে এই কুমারিনের পরিমাণ থাকে খুবই কম।

এ কারণে শরীর সুস্থ রাখতে দারুচিনি আসল না নকল তা বোঝা দরকার। দারুচিনি কেনার সময় কিছু জিনিস লক্ষ্য রাখুন। যেমন-——————————–

স্তর ও পুরুত্ব: আসল দারচিনির ছাল খুব পাতলা হয়। ভালো করে দেখলে বুঝবেন, এর ভিতরে অনেকগুলো পাতলা স্তর গোল করে পেঁচানো থাকে। অন্যদিকে, নকল বা ক্যাসিয়ার ছাল বেশ মোটা, শক্ত এবং খসখসে হয়। এতে এত সূক্ষ্ম স্তর থাকে না।

ভাঙার উপায়: আসল মসলা হাত দিয়ে খুব সহজেই ভেঙে ফেলা যায়। এটি ওজনেও অনেক হালকা হয়। কিন্তু নকল মসলা ভাঙতে বেশ কষ্ট হয়। এটি বেশ ভারীও হয়।

স্বাদ ও গন্ধ: আসল মসলার গন্ধ খুব মিষ্টি আর সুন্দর হয়। চায়ে দিলে হালকা মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়। কিন্তু নকল মসলার গন্ধ বেশ কড়া বা ঝাঁঝালো হয়।

গুঁড়ো মসলা এড়িয়ে চলুন

আজকাল অনেকেই বাজার থেকে আগে থেকে প্যাকেট করা গুঁড়ো দারুচিনি কেনেন। এ ধরনের গুঁড়া না কেনাই ভালো। কারণ, গুঁড়ো করা থাকলে তার মধ্যে কোনও ভেজাল বা ক্যাসিয়া মেশানো আছে কি না, তা খালি চোখে ধরা প্রায় অসম্ভব। তাই সব সময় গোটা মসলা কেনার চেষ্টা করুন। প্রয়োজন মতো বাড়িতেই তা গুঁড়ো করে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।

কীভাবে রাখবেন?

মশলার গুণমান ঠিক রাখতে একটি পরিষ্কার এয়ারটাইট কৌটোয় আস্ত মসলাগুলো ভরে রাখুন। কৌটো কখনও স্যাঁতসেঁতে জায়গায়, পানির বেসিনের কাছে বা গ্যাসের চুলার আশেপাশে রাখবেন না। কারণ আর্দ্রতা লাগলে মসলার গুণ নষ্ট হয়ে যায়। মসলা বের করার সাথে সাথে কৌটোর মুখ শক্ত করে আটকে দিন।