খুলনাঞ্চল ডেস্ক।।
ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত (৪০), তার স্ত্রী আফশানা শিম্মিন (২৫), তিন বছরের ছেলে শর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর মো. আকরাম আলী (৬৪) নিহত হয়েছেন। নিহতদের বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকায়।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে এ খবর কুষ্টিয়ায় পৌঁছালে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত দেবাশীষ দত্ত আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও চ্যানেল নাইনের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। এর আগে তিনি এশিয়ান টেলিভিশন, নাগরিক টিভিসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন।
দৈনিক আজকের আলো পত্রিকার সম্পাদক গাজী মাহবুব রহমান দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ আগস্ট দেবাশীষ দত্ত স্ত্রী, ছেলে ও শ্বশুরকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ভারতের বেঙ্গালুরু যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তারা কলকাতায় ফেরেন এবং একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন। ওই রাতেই হোটেলটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দেবাশীষ দত্তের শ্বশুর মো. আকরাম আলীসহ পরিবারের চারজন নিহত হন। তাদের ১৯ আগস্ট বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল।
দেবাশীষ দত্তের আট বছর বয়সী মেয়ে পাখি কুষ্টিয়ার বাড়িতেই ছিল। ফলে অগ্নিকাণ্ডের সময় সে পরিবারের সঙ্গে ভারতে ছিল না।
ভারতের পিটিআই, এনডিটিভিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমও অগ্নিকাণ্ডে আট বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছে।
জানা গেছে, নিহত বাংলাদেশিরা বেঙ্গালুরুর নারায়ণা হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে ১৮ আগস্ট মঙ্গলবার কলকাতায় ফেরেন। পরে তারা কলকাতার ওই আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন।
এদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। নিহতদের মধ্যে চারজন একই পরিবারের সদস্য।
তবে বাকি চারজন নিহতের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। তাদের পরিচয় শনাক্তে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।
এ ঘটনায় আহত ছয় বাংলাদেশি নাগরিককে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশিদের বিষয়ে সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তারা হাসপাতাল ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে। ইতোমধ্যেই উপ-হাইকমিশন একটি সার্বক্ষণিক হেল্প লাইন চালু করেছে।
পরিস্থিতি সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে।











































