ঢাকা অফিস।।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশে আবারো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নির্বাচন আয়োজন নিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকলেও প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। বলেন, দীর্ঘদিন পর এমন নির্বাচন হওয়ায় নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের অভিজ্ঞতা সীমিত। তবে সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, মহড়া ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে।
গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ দপ্তরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিইসি। নির্বাচনকে সামনে রেখে কমিশনের সর্বশেষ প্রস্তুতি, ভোটগ্রহণের পদ্ধতি, ব্যালটের স্বচ্ছতা, সরাসরি সমপ্রচার, প্রচারণা এবং ফলাফল ঘোষণা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।
সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালের পর আবারো প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না হওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক কিছু ঘাটতি রয়েছে। নির্বাচন কমিশন কিংবা সংসদ সচিবালয়-কেউই দীর্ঘ সময় ধরে এ ধরনের নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ পায়নি। ফলে অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে সেই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। তবে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই জানিয়ে সিইসি বলেন, সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায়ও কোনো ঘাটতি যেন না থাকে, সে ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সব অংশীজনের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন একটি সুন্দর ও সুষ্ঠু প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজন করতে আত্মবিশ্বাসী।
দীর্ঘদিন পর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ায় এবারের নির্বাচনকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছেন সিইসি। সাবেক প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ এবং নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এ নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ২৪শে জুলাই সাবেক প্রেসিডেন্ট পদত্যাগ করার পর সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ায় নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করে নির্বাচন কমিশন।
এর আগে ৬ই আগস্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী ১৩ই আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা, ১৬ই আগস্ট যাচাই-বাছাই এবং ১৮ই আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়। একাধিক প্রার্থী থাকায় আজ ২০শে আগস্ট সংসদ ভবনে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সেখানেই ভোট গণনা করা হবে। এ জন্য সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করে ভোট দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সংসদ কক্ষে প্রবেশের সময় সংসদ সচিবালয়ের সরবরাহ করা পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। নিজ আসনে বসার পর সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে নিজের নাম ও নির্বাচনী সংখ্যাযুক্ত ব্যালট সংগ্রহ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে ফেরত দিতে হবে। পছন্দের প্রার্থীর নামের বিপরীতে নির্ধারিত স্থানে নিজের পূর্ণ নাম লিখে ভোট দিতে হবে। ভোট দেয়া শেষে ব্যালট নির্দিষ্ট ব্যালট বাক্সে রাখতে হবে। ব্যালট লেখার সময় কোনো ভুল হলে তা বাক্সে রাখার আগে নির্বাচনী কর্মকর্তার কাছে যেতে হবে।
ওপেন ব্যালটে ভোট: এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হচ্ছে ভোটের স্বচ্ছতা। সিইসি’র বক্তব্য অনুযায়ী, ব্যালটের ক্ষেত্রে গোপনীয়তার পরিবর্তে স্বচ্ছতাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট সাধারণ নির্বাচনের গোপন ব্যালটের মতো নয়; আইন অনুযায়ী এটি প্রকাশ্য ভোট। ব্যালটে ভোটদাতার পরিচয় নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। সিইসি জানিয়েছেন, ব্যালটের ওপর ভোটারের নাম এবং প্রার্থীর নাম থাকবে। ফলে ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণযোগ্য থাকবে। তবে ফলাফল ঘোষণার সময় কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা আলাদাভাবে ঘোষণা করা হবে না। অর্থাৎ ভোটের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা থাকবে, কিন্তু ফলাফল ঘোষণার সময় প্রত্যেক সংসদ সদস্যের ভোট আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে না। প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেয়ার দৃশ্য সরাসরি সমপ্রচার করা হবে বলে জানিয়েছেন সিইসি। ভোট গণনার সময়ও সরাসরি সমপ্রচার চালু থাকবে। ফলে দেশের মানুষ ভোটগ্রহণ ও গণনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরাসরি দেখতে পারবেন।সরকারি নির্বাহী তথ্য অনুসন্ধান করা
সংসদ কক্ষে প্রচারণা নিষিদ্ধ: ভোটগ্রহণের সময় সংসদ অধিবেশন কক্ষে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। কোনো প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য বক্তব্য বা প্রস্তাব দেয়ার সুযোগও থাকবে না। নির্বাচন কমিশনের ৯ দফা নির্দেশনায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে। তবে সংসদ ভবনের বাইরে প্রচারণার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-সংক্রান্ত আইনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই বলে জানিয়েছেন সিইসি। নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ভোট প্রদানের সময় কোনো রাজনৈতিক সমস্যা দেখা দিলে চিফ হুইপ ও বিরোধী দলের চিফ হুইপের পরামর্শ নেয়া যাবে।
বৈঠক করেছে সরকারি দল: গতকাল বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিএনপি’র সংসদীয় দলের সভা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি। সংসদীয় দলের এই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও উপস্থিত ছিলেন।
এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিএনপি ও সমমনা দলের মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি’র মহাসচিব, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অপর প্রার্থী জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য জোটের অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমেদ। নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ই অক্টোবর সংসদ সভাকক্ষে ১১তম প্রেসিডেন্ট পদে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। ওই সময়ে বিএনপি’র প্রার্থী হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন বদরুল হায়দার চৌধুরী। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বদরুল হায়দার চৌধুরীকে (৯২ ভোট) পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন আব্দুর রহমান বিশ্বাস। তিনি ভোট পেয়েছিলেন ১৭২।











































