রাজধানীসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যে অবনতিশীল তা সবাই জানে। পথেঘাটে, দোকানপাটে, পরিবহনে চাঁদাবাজি চলছে বেশুমার। প্রতিটি জেলা, উপজেলা সদর ও রাজধানীর একেকটি এলাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়ে প্রভাবশালী চাঁদাবাজ চক্র প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার চাঁদা আদায় করছে। চক্রগুলো এতটাই প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর যে, ভুক্তভোগীরা টুঁ শব্দ করারও সাহস পান না। এর আরেকটি কারণ, চাঁদার ভাগ নিয়মিত পান যারা এসব অপরাধ রোধ করবেন সেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। সুতরাং অভিযোগ করলে প্রতিকারের বদলে নিজে ফেঁসে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই সবাই চুপ থাকেন। তবে হঠাৎ কখনো ওই চক্রের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ বা খুনের মতো দুর্ঘটনা ঘটে গেলে গণমাধ্যম সক্রিয় হয়ে ওঠে। তখন টুকরোটাকরা ভেতরের খবর প্রকাশ পায়। গত বছর মার্চে রাজধানীর শাহজাহানপুরে এমন এক জোড়া খুনের ঘটনার পর জানা গিয়েছিল, কিভাবে সারা শহরে অপরাধের নেটওয়ার্ক কাজ করে।
কিন্তু পরিস্থিতির যে কতটা অবনতি ঘটেছে তা পরিমাপ করা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব। তবে কিছুটা আঁচ করা যায় যখন দেখা যায়, কোনো প্রত্যন্ত এলাকায় নয়, খোদ রাজধানীতে থানার ওসি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছেন অবাধে। এমন এক অপরাধের চিত্র উঠে এসেছে সহযোগী এক দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে। গত সোমবার প্রকাশিত ওই রিপোর্টের শিরোনাম- ‘চায়ের দাওয়াত দিয়ে স্বামীকে থানায় নিয়ে অস্ত্র মামলার ভয়/ব্যবসায়ীর স্ত্রীর ১৫ লাখ টাকা নিলেন ওসি!’ শিরোনামে ঘটনা স্পষ্ট। ঘটনাটি চকবাজার থানার। রাত ১টায় কোনোরকম ওয়ারেন্ট ছাড়া পরিবহন ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেনের বাড়ির দারোয়ানকে ভয় দেখিয়ে গেট খুলতে বাধ্য করে পুলিশ। ঘুমন্ত পরিবারটিকে ডেকে তুলে মোক্তার হোসেনকে ‘চায়ের দাওয়াতের নাম করে’ কার্যত তুলে নিয়ে যায় থানায়। সেখানে তাকে কোনোরকম অভিযোগ বা মামলা ছাড়াই দু’দিন আটকে রেখে শারীরিক মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। ভয়-ভীতি দেখিয়ে ১৫ লাখ টাকা দিতে বাধ্য করা হয় তার স্ত্রীকে।
ওসির এমন আচরণ অপরাধমূলক কাজ। ব্যবসায়ী মোক্তারের বিরুদ্ধে কারো কোনো অভিযোগ নিশ্চয় ছিল ওসি আবদুল কাইয়ুমের কাছে। কিন্তু আইনগতভাবে সেই অভিযোগের নিষ্পত্তির দিকে না গিয়ে ওসি সেটিকে চাঁদাবাজির সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন।
ঘটনা ঘটে গত ২৬ জানুয়ারি থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে। সেটিকে নানা সত্য-মিথ্যায় জড়িয়ে ওসি আবদুল কাইয়ুম চাঁদাবাজির টাকা হজম করার চেষ্টা করেছেন। গোটা বিষয় নিয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইজিপির কাছে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন। আর পত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশ পায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর। এর মধ্যে আইজিপি এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিয়েছেন বলে জানা যায়নি।
পুলিশের অপরাধে জড়ানোর প্রবণতা সম্প্রতি ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তাদের শাস্তিও তেমন একটা হয় না। বেশির ভাগ অপরাধী পুলিশ সদস্য শেষ পর্যন্ত রেহাই পেয়ে যান বা লঘুদণ্ড দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়।
কিন্তু চকবাজার থানার ওসি যে অপকর্ম করেছেন সেটি আমলে নেয়া না হলে পুরো পুলিশ বাহিনীতে বিরূপ প্রভাব পড়বে। কুখ্যাত ওসি প্রদীপের কর্মকাণ্ড মানুষ সম্ভবত এখনো ভুলে যায়নি। কাইয়ুমদের অপকর্ম চালিয়ে যেতে দেয়া হলে সারা দেশে প্রদীপের মতো খুনে ওসির সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাবে।
চকবাজার থানার ওসি আবদুল কাইয়ুমের ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে তদন্ত ও বিচারের ব্যবস্থা করা হোক। এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।










































