Home আঞ্চলিক দাকোপে ভয়াবহ নদী ভাঙনে কয়েকটি স্থান মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ

দাকোপে ভয়াবহ নদী ভাঙনে কয়েকটি স্থান মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ

7

মোঃ জাহিদুর রহমান সোহাগ দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি।।
অব্যাহত ভয়াবহ নদী ভাঙনে খুলনার দাকোপে পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিনটি পোল্ডারে ওয়াপদা বেড়িবাঁধের কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক থেকে নেওয়া ১৫০ কোটি টাকা ঋণে নির্মিত দুইটি পোল্ডারের বেড়িবাঁধও রয়েছে। ধারাবাহিক ভাঙনের কারনে দিন দিন ছোট হয়ে আসছে এ সব নদী পাড়ের জনবসতীর মানচিত্র। অতি দ্রুত ঐ মারাত্মক ঝঁকিপূর্ণ স্থানগুলি মেরামত না করলে বেড়িবাঁধ নদী গর্ভে বিলিন হতে পারে। আর এতে আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশংকায় ভাঙনের কবলে পড়া এলাকার হাজারো লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

এলাকাবাসি সূত্রে জানা গেছে, ভৌগলিক অবস্থানের কারনে তিনটি পৃথক দ্বীপের সমন্বয় দাকোপ উপজেলা গঠিত। এখানে সারা বছর ধরে চলে ভয়াবহ নদী ভাঙন। প্রতিনিয়ত এখানকার স্থানীয় বাসিনন্দারা ভাঙনের কবলে পড়ে তাদের সহায় সম্পত্তি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। শধুমাত্র নদী ভাঙনের কারনে অসহায় ছিন্নমুল হয়ে পড়েছে এমন লোক গোটা উপজেলায় অনেক রয়েছে। আবার অনেকে সর্বস্ব হারিয়ে ভিন্ন দেশে চলেও গেছে। উপকূলিয় এই উপজেলার চারপাশ জুড়ে থাকা অসংখ্য নদ-নদীর মধ্যে রাক্ষুসী শিবসা, ঢাকী, চুনকুড়ি, পশুর, ঝপঝপিয়া ও মাঙ্গা নদীর ভাঙন এখনও পর্যন্ত অপ্রতিরোধ্য। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তিনটি পোল্ডারের ৩১ নম্বর পোল্ডার ও দ্বীপে রয়েছে চালনা পৌরসভা, পানখালী ও তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন। ৩২ নম্বর পোল্ডার ও দ্বীপে কামার খোলা ও সুতার খালী ইউনিয়ন। ৩৩ নম্বর পোল্ডার ও দ্বীপে বাজুয়া, দাকোপ, কৈলাশগঞ্জ, লাউডোব ও বানিশান্তা ইউনিয়ন। এর মধ্যে ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারে বিশ্বব্যাংক থেকে নেওয়া ১৫০ কোটি টাকা ঋণে নির্মিত হয়েছে টেকসই নতুন ওয়াপদা বেড়িবাঁধ। চায়না ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন। যা এখনো পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। কিন্তু তার আগেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাংক থেকে নেওয়া ১৫০ কোটি টাকা ঋণে নির্মিত বেড়িবাঁধ কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়নবাসীর কোনো কাজেই আসেনি। বরং মেগা প্রকল্পের নামে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হয়েছে। এছাড়া ৩১ নম্বর পোল্ডারেও বেশ কয়েটি স্থানে একই অবস্থা বিরাজমান। ফলে এলাকার হাজারো লোকজন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

গুনারী এলাকার সন্তোষ সরদার জানান, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে টেকসই ওয়াপদা বেড়িবাঁধ নির্মান হচ্ছে না। যে কারণে সদ্য নির্মিত বেড়িবাঁধের গুনারী কালিবাড়িসহ কয়েকটি স্থানে আবারও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। তাছাড়া ওয়াপদা বেড়িবাঁধ ভাঙনের কবলে পড়লে স্থানীয় কিছু জনপ্রতিনিধি, টিকাদার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটে। এ জন্য দায়সারা মেরামত কাজেও অনেক বিলম্ব হয়। অতিদ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো মেরামত না করলে যে কোন সময়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হতে পারে। আর এতে আমন ফসলসহ এলাকার লোকজনের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে তিনি মনে করেন। তার মত একই অভিমত ব্যাক্ত করেন চুনকুড়ি এলাকার শচিন্দ্রনাথ মন্ডল, বটবুনিয়ার প্রনব কবিরাজ, পানখালীর ফাল্গুণী হালদারসহ আরো অনেকে। ৩২ নম্বর পোল্ডারের সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বলেন, বেশ কয়কটি স্থানে বালির বস্তা ফেলে ওয়াপদা বেড়িবাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। কিন্তু এতে কোন লাভ হবে না। কারণ ব্লক না ফেললে ভাঙন রোধ করা যাবে না। এতে শুধু দায়সারা কাজ করা হচ্ছে। টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে মানববন্ধন করেও কোন লাভ হলো না।

এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, সকল ঝুঁকিপূর্ণ স্থান মিলে মোট ৬ কিলোমিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ। এসব স্থানে ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলে ডাম্পিং করা এবং বিকল্প বাঁধ নির্মান কাজ চলমান রয়েছে।