মোরেলগঞ্জ (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।।
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে জনগুরুত্বপূর্ণ ছোলমবাড়ীয়া খেয়া পারাপারে ল্যান্ডিং ঘাট নির্মিত না হওয়ায় পারাপারে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার যাত্রী। জেলা পরিষদের অর্থায়নে ল্যান্ডিং ঘাটটি নির্মাণের কথা থাকলেও দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এ ভোগান্তি দিন দিন আরও বাড়ছে। সরজমিন জানা গেছে, এ উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের বসবাস। পশ্চিম পাড়ে ১০ ইউনিয়ন ও পূর্ব পাড়ে ৬ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভা রয়েছে। সর্বদক্ষিণের উপজেলা শরণখোলাকে সংযুক্ত করেছে এ খেয়া। প্রমত্তা পানগুছি নদীতে দুই উপজেলা ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের পারাপারের জন্য রয়েছে বারইখালী-ছোলমবাড়ীয়া খেয়াখাট। এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ পারাপার করে। এ ঘাটটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে বছরের পর বছর। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, ১৬ ইউনিয়নের উপজেলা সদরগামী মানুষসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার মানুষ এ ঘাট থেকে ট্রলারযোগে পারাপার হচ্ছে। এ ছাড়াও প্রতিমাসে পূর্ণিমার জোয়ারের পানি ও বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগের অন্ত থাকে না পারাপারের যাত্রীসহ জনসাধারণের।
২০১৮ সালে এ ঘাট থেকে যাত্রী পারাপারের সময় ট্রলার ডুবে নারী পুরুষসহ ১৯ জন যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে এ ঘাটের সরকারি রাজস্ব আদায় হয়েছে ১১ লাখ টাকা। জাকির শেখ, জহুর খান ও মহিদুল ইসলামসহ একাধিক খেয়া মাঝি বলেন, ভোর থেকে রাত পর্যন্ত মানুষকে পারাপার করতে হয়। রোগী, বৃদ্ধ ও শিশু শিক্ষার্থীদের হাত ধরে ট্রলারে উঠাতে হয়। তারপরেও অনেকে বিভিন্ন সময়ে খেয়ায় উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। একাধিকবার শুনেছি এইতো কাজ শুরু হচ্ছে। এর শেষ কোথায়? কবে হবে ঘাটটি? বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা একেএম জাকির হোসেন বলেন, ছোলমবাড়ীয়া খেয়াঘাটের ল্যান্ডিং ঘাট সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যে বরাদ্দ হয়েছে। গত আগস্ট মাসে কাজটি শুরু হবার কথা ছিল। মোরেলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মোজাম ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এ কাজটি পেয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ছোলমবাড়ীয়া খেয়াঘাটটি জেলা পরিষদের মাধ্যমে সংস্কার কাজের প্রকল্প বরাদ্দ হয়েছে। আসন্ন জেলা পরিষদের নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজটি শুরু করতে পারছেন না। তবে, খেয়া পারাপারের জনভোগান্তির বিষয়ে ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে অবহিত করা হয়েছে।











































