মিলি রহমান।।
সব খাবার ফ্রিজে রাখলে ভালো থাকে না; বরং কিছু খাবারের স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও গঠন নষ্ট হয়ে যায়। এমন কিছু খাবার ভুল জায়গায় বা ভুল পদ্ধতিতে রাখার কারণে দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তা সে যতই ভালো মানের ফ্রিজ হোক না কেন, যদি তা উপযুক্ত জায়গা না হয়। তাই কোন খাবার কোথায় রাখবেন, তা জানা জরুরি।
ফ্রিজে খাবার রাখলেই তা অনেক দিন ভাল থাকবে— এমন ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এ যন্ত্রের ওপর সব দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আদপে কিছু খাবার ভুল জায়গায় কিংবা ভুল পদ্ধতিতে রাখার কারণেই দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে এখন বাজারের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে খাবার নষ্ট হওয়া মানেই পকেট টান।
ফ্রিজ খাবার সংরক্ষণের জন্য তৈরি হলেও, সব খাবারের জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। দুধ, ডিম, ফল, শাকসবজি কিংবা মাছ ও মাংস— প্রতিটির প্রয়োজন আলাদা। তাই কি রাখছেন? এর পাশাপাশি কোথায় রাখছেন? তাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং অভ্যাস বদলান। কারণ সামান্য ছোট কিছু অভ্যাস বদলালেই আপনার খাবার অনেক বেশি দিন টাটকা রাখা সম্ভব।
টমেটো
অনেকেই সবজি কিনেই ফ্রিজে রেখে দেন। অথচ টমেটো খুব বেশি ঠান্ডায় থাকতে থাকতে স্বাদ হারিয়ে যায়। ঘরের তাপমাত্রায় রাখলে স্বাদ ভালো থাকে। রান্নাঘরের স্ল্যাবে রাখার সময়ে শুধু খেয়াল রাখবেন যেন ডাঁটির অংশটি নিচের দিকে থাকে। আর সূর্যালোকের সংস্পর্শে যেন না আসে। অতিরিক্ত পাকলে তবেই ফ্রিজে রাখা যেতে পারে।
পাউরুটি
পাউরুটি যাতে ছত্রাক তৈরি না হয়, তাই ফ্রিজে রাখা হয়। কিন্তু ফ্রিজের ঠান্ডা তাপমাত্রা পাউরুটির স্টার্চের অণুগুলোকে দ্রুত শক্ত দানায় পরিণত করে ফেলে। ফলে পাউরুটি স্বাভাবিক তাপমাত্রার চেয়ে প্রায় তিনগুণ দ্রুত বাসি হয়ে যায়। এর পাশাপাশি শুকনো ও ঝুরঝুরে হয়ে নষ্ট হয়ে যায়। খেতে ভালো লাগে না। তার বদলে একটি বায়ুনিরোধী পাত্রে পাউরুটি রেখে ফ্রিজের বাইরে রাখুন। কিন্তু ২-৩ দিনের মধ্যে শেষ করে ফেলতে হবে সেটি, না হলে আবার পচন ধরে যেতে পারে।
অলিভ অয়েল
একস্ট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলের বোতল কিনে সোজা গ্যাস বা অভেনের পাশে রেখে দেন বাকি তেলগুলোর মতো? কিন্তু দামি এ তেল রাখার ভুলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কখনই উচ্চতাপের পাশে রাখবেন না বা গরমের আঁচ যেন না লাগে। তাপ এবং প্রচুর আলো পড়লে তেলে অক্সিডেশন ঘটে। এর ফলে স্বাদ, গন্ধ, গঠন নষ্ট হয়ে যায় অলিভ অয়েলের। তাই কালো শিশিতে তেল ভরে ঠান্ডা এবং রোদ থেকে দূরে রেখে দিন। তবে ফ্রিজ নয়, আলমারির তাকে রাখলেই হবে।
কফি
কফিতে ছিত্র থাকে। এর প্রতিটি দানায় প্রচুর ছিদ্র থাকে। স্পঞ্জের মতো আর্দ্রতা প্রবেশ করে খুব তাড়াতাড়ি। গুঁড়োও হয়ে যায় খুব দ্রুত। কফির শিশি ফ্রিজে রেখে দিলে ভেতরের অন্যান্য খাবারের গন্ধ শুষে নেয়, স্বাদও নষ্ট হয়। ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা কফির শিশি বার করে যখনই খোলা হয়, তখনই বাতাসের সংস্পর্শে এসে কফির ওপর জলীয় বাষ্প বা পানি জমে যায়। সঙ্গে সঙ্গে দলা পাকিয়ে যায় কফি। বায়ুনিরোধী পাত্রে কফি ভরে ফ্রিজের বাইরে রাখুন। প্রতিবার শুকনো চামচ দিয়ে কফি নিন। তাহলেই বেশি দিন ভালো থাকবে কফি। অবশ্যই দেখতে হবে রোদ যেন না পড়ে।
মধু
মধু কখনো নষ্ট হয় না— এমনই সুনাম আছে। কিন্তু ফ্রিজে রেখে দিলে শক্ত হয়ে যেতে পারে। হেঁশেলের তাকেই রাখুন মধু। তবে খেয়াল রাখুন, যতবারই মধু বার করবেন, তত বারই যেন আঁটসাঁট করে বন্ধ করা হয় শিশির ঢাকনা। নয়তো বাতাসের সংস্পর্শে এসে স্বাদ ও গন্ধ হারাতে পারে।











































