খবর বিজ্ঞপ্তি।।
খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার কর্তৃক বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, স্থানীয় সরকার প্রশাসন ও বিএনপির স্লোগান নিয়ে দেওয়া আপত্তিকর বক্তব্যের সমূচিত ও তীব্র জবাব দিয়েছে খুলনা মহানগর বিএনপি। জামায়াত নেতার বক্তব্যকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, মনগড়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক দূরভিসন্ধিমূলক আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) প্রদত্ত যৌথ বিবৃতিতে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কেডিএ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা এবং সাধারণ সম্পাদক ও বিসিবি পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন জামায়াতের অতীত ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে এক বিস্ফোরক ও শক্ত বক্তব্য প্রদান করেন। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার সস্তা রাজনৈতিক হাততালি পাওয়ার জন্য অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণভাবে বিএনপির স্লোগান পরিবর্তনের ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই- ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ কেবল একটি স্লোগান নয়, এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের জাতীয়তাবাদী চেতনা এবং আমাদের অস্তিত্বের প্রতীক। এই স্লোগান পরিবর্তনের উপদেশ দেওয়া জামায়াতের মতো দলের মুখে মানায় না। যারা সবসময় নিজেদের সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থকে দেশের চেয়ে বড় করে দেখেছে, তাদের কাছ থেকে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে রাজনীতির পাঠ নিতে হবে না। দীর্ঘ স্বৈরাচারী শাসনের পর যখন দেশ এক নতুন গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন এই ধরণের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য জনগণের ঐক্য বিনষ্ট করার অপচেষ্টা মাত্র। জামায়াতকে কাঠগড়ায় তুলে বিএনপি নেতারা সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, টাকার বিনিময়ে কারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে দীর্ঘ সময় আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় দিয়েছিলেন? অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় কারা দখলে নিয়েছিলেন?
ব্যাংক-বীমা-হাসপাতাল কারা দখল করেছিল? আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে পুনরুদ্ধারের নামে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ‘ছায়া সরকার’ হিসেবে কারা দেশ পরিচালনা করেছে, তাহা দেশের মানুষ ভুলে যায়নি। এমনকি পুলিশ প্রশাসনকে কারা পোস্টিং দিয়েছেন, সব তথ্যই আজ দেশের মানুষের জানা।” নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের অবর্ণনীয় নির্যাতন, মামলা-হামলা মাথায় নিয়ে ফেরারি জীবনযাপন করলেও বিএনপির একটি কর্মীও দল ছেড়ে যায়নি বা আদর্শ বিসর্জন দেয়নি। অন্য কোনো দলের মধ্যে ‘গুপ্ত’ হিসেবে তারা আশ্রয় নেয়নি। যারা নিজেদের আদর্শ বিসর্জন দিয়ে অন্য দলের ভেতর ঢ়ুকে নিরাপদে ছিলেন, তাদের মুখে আজ বড় বড় কথা মানায় না। সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ ও কেডিএ’তে প্রশাসক বসিয়ে বিএনপির ‘দলীয়করণ’ করার যে অভিযোগ জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল করেছেন, তাকে ‘শতাব্দীর সেরা কৌতুক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেন, নির্বাচিত বর্তমান জনবান্ধব সরকারের মেয়াদ মাত্র চার মাস হলো। এর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করেছে। এই ক্রান্তিকালে রাষ্ট্রের শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং জনস্বার্থে স্থানীয় সরকার বিভাগ আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এখানে বিএনপির একক কোনো সিদ্ধান্ত বা দলীয়করণের সুযোগ নেই।
অথচ জামায়াত নেতা অতীতের স্বৈরাচারী আমলের দলীয়করণের সাথে এর তুলনা করে মূলত বর্তমান জনবান্ধব প্রক্রিয়ার ওপরই আঘাত হানার চেষ্টা করছেন। খুলনা মহানগর বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের চেতনাকে সমুন্নত রেখে বিএনপি সর্বদা সহনশীল ও দায়িত্বশীল রাজনীতি করে আসছে। জামায়াতে ইসলামীকে এই ধরণের উসকানিমূলক, একতরফা ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য থেকে অবিলম্বে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, নিজেদের সস্তা রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে দয়া করে দেশের ৭০ ভাগ মানুষের দোহাই দিয়ে মিথ্যাচার করবেন না। খুলনার শান্তিপ্রিয় জনগণকে সাথে নিয়ে যেকোনো অপপ্রচারের বিরুদ্ধে রাজপথে ও রাজনৈতিকভাবে কড়া জবাব দিতে খুলনা মহানগর বিএনপি সদা প্রস্তুত রয়েছে।











































