মেহেরপুরের বিশ্ববিখ্যাত ব্লাকবেঙ্গল ছাগল বিক্রি হবে ২১৫ কোটি টাকার
দিলরুবা খাতুন, বাসস
জেলায় এবার ব্লাক বেঙ্গল জাতের ১ লাখ ২৬ হাজার ছাগল বিক্রি হবে ২১৫ কোটি টাকায়। এমনটা আশা করছেন মেহেরপুর জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ ও খামারীরা। মেহেরপুর জেলা সদরে বারাদিতে বৃহত্তম ছাগলের হাট। সপ্তাহে দুটি হাটে ৬ হাজার ছাগল বেচাকেনা হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে হাট দুটি এখন জমজমাট। ‘গরিবের গাভী’ খ্যাত মেহেরপুরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আয়ের অন্যতম উৎস এ ব্লাকবেঙ্গল।
ছাগলের গলার রশির অপর প্রান্তে শক্তহাতে ধরে থাকা এরা কেউ বেপারী। কেউবা পারিবারিকভাবে পালিত ছাগলের মালিক। কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে মেহেরপুর জেলা সদরের চুয়াডাঙ্গা সড়কের বারাদিতে জেলা পরিষদ নিয়ন্ত্রিত ছাগলের হাটের চিত্র এটি। হাটে মানুষের চেয়ে ছাগলের সংখ্যা বেশি।
বৃহত্তর কুষ্টিয়া জেলায় এটিই সবচেয়ে বড় ছাগলের হাট। এখানে সপ্তাহের শনি ও বুধবার ছাগলের হাট বসে। দ্রুত প্রজননশীলতা, উন্নত মাংস, মাংসের ঘনত্ব ও উন্নতমানের চামড়ার জন্য ব্লাকবেঙ্গল ছাগল বিশ্ববিখ্যাত। ‘ব্ল্যাক বেঙ্গল গট’ (কালো ছাগল) জাতের ছাগল কিনতে ভিড় বেড়েছে মেহেরপুরের সদর উপজেলার বারাদি হাটে। স্বাদে-গুণে ভালো হওয়ায় এই ছাগলের কদর বাড়ছে দিন দিন। প্রতিবারের মতো দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা ব্লাক বেঙ্গল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন এই হাট থেকে। কোরবানীর পশু হিসেবে চাহিদা বেশী ব্লাক বেঙ্গলের। এবছর মেহেরপুর জেলায় ১ লাখ ২৬ হাজার কোরবানীর জন্য ব্লাক বেঙ্গল প্রস্তুত বলে জানিয়েছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ। ব্যবসায়ীরা জানান, দাম নাগালের মধ্যে থাকায় এবার এই ছাগলের চাহিদা যেমন বেড়েছে, তেমনি লাভবান হচ্ছেন তারা।
ব্লাক বেঙ্গল পালনে দেশের প্রথম স্থানে আছে মেহেরপুর জেলা। জাতিসংঘের ফুড এ্যান্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন (এফএও) ও আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তির মূল্যায়নে বাংলাদেশের ব্লাক বেঙ্গল গট বিশে^র অন্যতম সেরা জাত হিসেবে বিবেচিত। অবশ্য আন্তর্জাতিক বাজারে এ ছাগল ‘কুষ্টিয়া গ্রেড’ হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলা ব্্রান্ড হিসেবে বেছে নিয়েছে ব্লাক বেঙ্গলকে। মূলত বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও তার আশপাশের জেলায় এ ছাগলের পালন বেশি হয় বলে এ নামকরণ করা হয়।
বিভিন্ন নথি থেকে জানা যায়, বিশে^র যে পাঁচটি দেশে দ্রুত হারে ছাগল উৎপাদন বাড়ছে বাংলাদেশ তার অন্যতম। মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও আশপাশের তিন জেলায় ব্লাক বেঙ্গল পালন বেশী হয়ে থাকে। এ ছাগলগুলো স্বতন্ত্র জাতের। ঘরে ঘরে পালন হয় বিধায় এসব ছাগল টিকে আছে। বর্তমানে শংকরায়ন কারণে জাতটি হারিয়ে যাবে বলে আশংকা করছেন জেলা প্রাণি সম্পদ বিভাগ।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের স্থানীয় জাত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল মানের দিক থেকে বিশ্বসেরা হিসেবে স্বীকৃত। এবার কোরবানীর জন্য উপযোগী করা ছাগলের ৯০ শতাংশই ব্লাক বেঙ্গল জাত। জেলার প্রায় প্রতিটি পরিবারে ব্লাক বেঙ্গল পালন হয়। জেলায় ৫৩০টি খামারসহ মেহেরপুরে ১ লাখ ৬ হাজার পরিবারে ছাগল পালন হচ্ছে। এর মধ্যে এবার কোরবানীর জন্য ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ৯৫ হাজারসহ ১লাখ ২৬ হাজার ছাগল কোরবানী উপযোগী। ছাগলের চাহিদা থাকায় মেহেরপুর জেলার পশু হাট থেকে ট্রাক ভর্তি করে ছাগল রাজধানী ঢাকাসহ দেশের উত্তর-পূর্ব জেলাগুলোতে নেওয়া হয়।
সরেজমিনে সদর উপজেলার বারাদী ছাগলের হাটে গিয়ে দেখা যায়, বিশাল জায়গাজুড়ে কালো ও ধূসর রঙের ছাগলের বাহার। এর মধ্যে মাথায় শিংহীন মাঝারি আকারের ছাগলের সংখ্যা বেশি। কয়েক হাজার ছাগল হাটে উঠেছে। শত শত বেপারি বাইরে থেকে ছাগল কিনতে গেছেন। অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের ছাগলগুলোর ডাকচিৎকারও কম। এ কারণে ৫০টি ছাগলের দড়ির বাঁধন নিয়ন্ত্রণ করছেন একজনই।
বাজারে ছাগল বিক্রি করতে আসা গৃহস্থ ও ব্যবসায়িরা জানান, মেহেরপুরের ব্লাক বেঙ্গলের মাংস যেমন ঘনত্ব, তেমনি সুস্বাদু ও এই ছাগলের চামড়া ও হাড় হয় বড়ই উন্নত মানের। চামড়া দিয়ে ব্যবহার্য্য দামি পণ্য তৈরি হয়। তাই চামড়াও বিক্রি হয় চড়া দামে। তারা জানান, এ ছাগল খাদ্য হিসেবে নেপিয়ার ঘাস, ধান গমের গুঁড়ো, কাঁঠালপাতা খেয়ে থাকে।
বৃহৎ বারাদি হাটসহ ছোট-বড় মিলিয়ে ২৭টি ছাগলের হাট রয়েছে এ জেলায়। কোরবানীর সময় ২০ হাজার থেকে ৪০-৫০ হাজার টাকা দামেরও ছাগল পাওয়া যায় এ সমস্ত হাটে। ছাগল বিক্রি করতে আসা সদর উপজেলার আমঝুপি গ্রামের জাহিদ হোসেন জানান, এবার ২০টা ছাগল বিক্রি করবেন হাটে। প্রতি ঈদে তিনি নিজ বাড়িতে পালন করা ছাগল বিক্রি করেন।
চট্টগ্রাম থেকে ছাগল কিনতে আসা ব্যাপারী রফিকুল হক জানান, এ জেলার ছাগলের মাংসের স্বাদ এবং গন্ধ একেবারেই ভিন্ন। তাই চাহিদাও বেশি। লাভও ভালো হয়। এবার ব্লাক বেঙ্গল জাতের এক হাজার ছাগল কেনার ইচ্ছের কথা জানান তিনি। হাটে ব্যতিক্রম দেখা গেল অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছে ভেড়া। কিন্তু গলায় কোন রশি নেই। একদল ভেড়ার মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বড় ভেড়াটিকে ধরে রাখলেই তাকে ঘিরে থাকে অন্য ভেড়ারা। তিনি হারিয়ে গেলেও ভেড়ারা রশির ভেড়াকে ঘিরে অবস্থান করবে। এটা ভেড়ার সহজাত ধর্ম।
বারাদি হাটের ইজারাদার ইস্রাফিল হোসেন জানান, ঈদ সামনে রেখে শুধু এই হাট থেকেই এবার ৬০ হাজার ছাগল বিক্রির টার্গেট রয়েছে। প্রতি হাটে অন্তত ৩ হাজার ছাগল বিক্রি হয়।
আলমপুর গ্রামের ছাগলের বেপারী কমর উদ্দিন ৪০ কেজি করে দুটিতে দুইমণ মাংস হবে এমন খয়েরি রংয়ের দুটি ছাগল হাটে তুলেছেন। ছাগল দুটি ঢাকার বেপারী রুহুল আমীনের কাছে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। ওই ব্যাপারী জানান- মাংসের হিসেব করে ছাগল দুটি কেনা হয়নি। কোরবানীতে এমন ছাগলের চাহিদার কারণেই তিনি কিনেছেন। একেকটি ছাগল চিটাগাং বাজারে অন্তত ৪২ থেকে ৪৫ হাজার টাকা করে বিক্রির আশা প্রকাশ করছেন তিনি।
জেলা প্রাণিীসম্পদ কর্মকর্তা মো; সাইদুর রহমান জানান- প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ব্লাক বেঙ্গল জাতের ছাগল পালনকে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ ছাগল দুই বছরে ৩ বার বাচ্চা প্রসব করে। একেকবার ৪টি পর্যন্ত বাচ্চা প্রসব করে। জেলায় ছোট বড় মিলে ৫৩০টি খামার বাণিজ্যিকভিত্তিতে ছাগল পালন করছে। মেহেরপুরের শতকরা ৪৫ ভাগ পরিবার ১টি করে ছাগল পালন করে নিজেদের দুঃসময়ে আপদকালীন অর্থনৈতিক সমস্যা চাহিদা মেটাতে ছাগল পালন করে। এ কর্মকর্তা আরও জানান- এবার ১ লাখ ২৬ হাজার ছাগল কোরবানীর পশু হিসেবে প্রতিটি ১৭ হাজার টাকা করে হলেও ২১৫ কোটি টাকার বেচা কেনা হবে।
শার্শা সীমান্তে ১৮ কেজি রুপা উদ্ধার করেছে বিজিবি
বেনাপোল প্রতিনিধি
যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা সীমান্ত থেকে ১৮ কেজি রুপা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। এ সময় কোন চোরাকারবারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বুধবার (৬ জুলাই ) সকালে গোগা গ্রামের গাজীপাড়া থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় এই রুপা উদ্ধার করা হয়।
২১ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্ণেল তানভীর রহমান পিএসসি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি পাচারকারীরা ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ রুপার একটি চালান এনে গোগা গ্রামের গাজীপাড়া সীমান্ত পিলার এস ১৭/৭ এবং আর পিলার ৪০ এর নিকটবর্তী একটি কোচিং সেন্টারের পাশে অবস্থান করছে। এমন একটি সংবাদের ভিত্তিতে গোগা ক্যাম্পের কমান্ডার সংগীয় ফোর্স নিয়ে সেখানে অভিযান চালালে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা একটি মোটরসাইকেল ও একটি ব্যাগ ফেলে পালিয়ে যায়। এ সময় উক্ত ব্যাগ থেকে ১৮ কেজি রুপা উদ্ধার করা হয়। যাঁর সিজার মূল্য ২৫ লক্ষ টাকা। উদ্ধারকৃত রুপার চালানটি শার্শা থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
কেশবপুরে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতির বিতরণ করা হয়েছে
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের কেশবপুরে বুধবার (৬ জুলাই) দুপুরে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় ও প্রতাপুর সিআইজি সমবায় সমিতির বাস্তবায়নে প্রতাপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ওই কৃষি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর করা হয়।
প্রতাপুর সিআইজি সমবায় সমিতির সভাপতি চাঁদ মোড়লের সভাপতিত্বে কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ঋতুরাজ সরকার। সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনির হোসেন, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন, উপজেলা রেফারি সমিতির সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান ও সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ গাজী।
কৃষকদের মাঝে কৃষি যন্ত্রপাতি হিসেবে ২টি পাওয়ার টিলার, ৩টি ভ্যান, ৮টি স্প্রে মেশিন ও ৪০টি পণ্য রাখা ক্যারেট দেওয়া হয়েছে।
ঝিনাইদহে ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক সাংবাদিক লাঞ্ছিত
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক সাংবাদিক লাঞ্ছিতর ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকাল ১১ টায় সদর উপজেলার ৪ নং হলিধানি ইউনিয়নে ভি জি এফ চাউল বিতরণের সংবাদ সংগ্রহ করতে যান জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য দৈনিক সত্য পাঠ ও দৈনিক রুপালী দেশের ঝিনাইদহ প্রতিনিধি সাহিদুল এনাম পল্লব। এই সময়ে সে ইউনিয়ন পরিষদে থাকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এনামুল হক নিলু কতৃক লাঞ্ছনার শিকার হয়। সাংবাদিক সাহিদুল এনাম পল্লব জানান, বুধবার সকাল ১১ টার দিকে ভিজিএফ চাউল বিতরণের সংবাদ সংগ্রহের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তাকে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ করতে বাঁধা দেয় গ্রাম পুলিশ। তিনি বলেন বাইরের কোন লোক ইউনিয়ন পরিষদে ঢোকা যাবে না। চেয়ারম্যানের নিষেধ আছে। তার বাঁধা উপেক্ষা করে সে ইউনিয়ন পরিষদে প্রবেশ করে। ভিতরে গেলে চেয়ারম্যান প্রথমেই তাকে বলে যে আপনার ক্যামেরা বন্ধ করেন। প্রতিউত্তরে সাংবাদিক জানাই আমার ক্যামেরা বন্ধ আছে। তখন চেয়ারম্যান সাংবাদিক কে প্রশ্ন করে আপনাকে ভিজিএফ চাউল বিতরণে এখানে আসতে কে পাঠিয়েছে। ভিজিএফ চাউল সঠিকভাবে বন্টন হচ্ছে কিনা সেটা দেখার জন্য পিআইও, ট্যাগ অফিসার সহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আছে। এই কথা বলে কে আপনার পারমিশন দিয়েছে তার কোন কাগজ থাকলে তাকে দেখানোর জন্য বলেন। সে সময় সাংবাদিকের উপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বলে যে আপনাকে এ রুমে আটকে রাখা হবে দেখি আপনি কি করতে পারেন। তিনি আরো বলেছে আমি কি চাউল মেরে খাওয়ার জন্য এখানে বসে আছি সকাল থেকে ১৪ জন সাংবাদিক এসেছে আমি তাদের কাছে শুধু কৈফত দেব। আপনি কি মনে করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি বলা শুরু করেন। তখন সাংবাদিক তাকে বলেন আপনি গত ঈদুল ফিতরের চাউল দেয়ার সময় আপনি দরিদ্র মানুষের চাউল কম দিয়েছিলেন যা আমি বিভিন্ন স্পটে মেপে পেয়েছিলাম। এই কথা বলার পর সে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে অন্য একজনকে দিয়ে দরজা বন্ধ করতে গেলে সাংবাদিক দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসেন। সাংবাদিক বাইরে বেরিয়ে আসলে তখন সে পরিষদের উপস্থিত ব্যক্তিদের বলেন যে এই সাংবাদিককে আটক করে রাখো এবং সে যেন বাইরে যেতে না পারে। এই অবস্থায় পরিষদ থেকে বেরিয়ে আসেন সাংবাদিক সাহিদুল এনাম পল্লব।
ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কর্তৃক সাংবাদিক লাঞ্ছিতের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজ।
উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এই চেয়ারম্যানের যে সমস্ত দুর্নীতি অন্যায় এবং দখলবাজের সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট দাবি করেন।
জগন্নাথদেবের দর্শনে আর্য ধর্মসভা মন্দির অঙ্গণে দর্শনার্থী’দের জনস্রোত
খবর বিজ্ঞপ্তি
শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের দর্শনে আর্য ধর্মসভা মন্দির অঙ্গণে দর্শনার্থী’দের জনস্রোতে মুখরিত হয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে চলমান উৎসব শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা অনুষ্ঠান, ৬ষ্ঠ দিন বুধবার মতুয়া মহাসংঘ কর্তৃক ধর্মিয় আলোচনা , সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গোপাল সেবাশ্রম সংঘ- দক্ষিণ টুটপাড়া কর্তৃক- নিত্য-পূজা’সহ ধর্মীয় রীতি আর নানা আনুষ্ঠানিকতায়, আর্য ধর্মসভা মন্দির প্রাঙ্গণে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে সাড়ম্ভড়ে রথযাত্রা অনুষ্ঠান উদযাপিত হচ্ছে এবং ভক্তবৃন্দের আগমনে উৎসবের প্রতিদিন নিত্য-পূজা, নিত্য-সেবার পাশাপাশি সন্ধ্যারতি কীর্তন এবং শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ’সহ অনুষ্ঠান শেষে দুপুর ও রাতে হাজারো হাজারো ভক্তশ্রোতার মাঝে শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের মহা-প্রসাদ বিতরন করা হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন মন্দির কমিটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন সাহা । উক্ত অনুষ্ঠানের মূখ্য আলোচক বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব সাগর সাধু ঠাকুর, অধ্যাপক সুশিল কুমার মন্ডল, তুলশী দাস মালাকার, জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অনুপম টিকাদার, ক্ষিতীশ কুমার মন্ডল, শিবপদ বিশ্বাস, হরিদাস সরকার, শ্যামল রায়, অধ্যাপক তাপস কুমার সমাদ্দার, প্রবীর রায়, সঞ্জয় রানা, উত্তম গোলদার, পরিমল মল্লিক, ধ্রুব রঞ্জন বৈরাগী,কৃষিবিদ নিভানন রায়, ডাঃ সুদেব মন্ডল। আজকের অনুষ্ঠান পৃষ্ঠপোষক- বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ও সাবেক সচিব ড. প্রশান্ত কুমার রায়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সমর কুমার কুন্ডু। অতিথী হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ খুলনা জেলা শাখার সভাপতি বিমান বিহারী রায় অমিত, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শ্যামল দাস, বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শংকর কর্মকার। আগামীদিনের সকল অনুষ্ঠানে ভক্তবৃন্দ’দেরকে অংশগ্রনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী চিত্ত রঞ্জন সাহা ও সাধারণ সম্পাদক শ্রী সমর কুন্ডু এবং রথযাত্রা উৎসব উদযাপন কমিটির আহবায়ক সুদিপ মজুমদার অপু ও সদস্য সচিব নিতাই বিশ্বাস। উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বীরেন্দ্র নাথ ঘোষ, রনজিত কুমার ঘোষ, সুদিপ মজুমদার অপু, রতন মিত্র, বিপুল পোদ্দার, পবিত্র সাহা, গোবিন্দ চক্রবর্তী, দেবাশীষ কর্মকার, সঞ্জিব দাস, অশোক কুমার সাহা, উত্তম রায়, প্রবির পাল, খোকন কুমার দাস, নিতাই বিশ্বাস, আশিষ মুর্খাজী, জয় বিশ্বাস, অসীম কুমার সোম, মানস কুমার ঘোষ, সঞ্জয় কর্মকার, কিংকর সাহা, শিব শংকর পোদ্দার, সঞ্জয় চন্দ্র রানা, উত্তম বিশ্বাস, সুভাষ চন্দ্র বৈরাগী, সঞ্জয় দেবনাথ, হিরন কুমার বনিক, প্রভাত চন্দ্র দে, অসিম পাল, প্রবির রায়, খোকন শীল কুটি, শুভজিত কুন্ডু, সৌরভ ঘোষ সনি, সনত কুমার নন্দি, প্রবাল ঘোষ অন্তু, অরুনাভ মজুমদার রোমেল, বিপ্লব কুমার রায়, মানস কুমার রায় মানু, সুদিপ্ত ঘোষ চৌধরী, মৃত্যঞ্জয় দাস, শ্যামল সরকার সহ খুলনার আপামর সনাতন ভক্তবৃন্দ প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু: বিভিন্ন সংগঠনের শোক
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় বড় বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও কালিবাড়ি রোডের মেসার্স ইউসুফ এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ¦ মো. ইউসুফ হোসেন মৃত্যু বরণ করেন। তিনি মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় হরিণটানা থানার আদূরে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু বরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৫বছর। তিনি স্ত্রী, ২পুত্র ও ১কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে যান। বুধবার জোহরবাদ নিরালা তাবলিক মসজিদ চত্বরে নামাজে জানাযা শেষে নিরালা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ব্যবসায়ী আলহাজ¦ ইউসুফ হোসেনের মৃত্যুতে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন।
খুলনা বাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতি: খুলনা বাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও সমাজ সেবক আলহাজ্ব মোঃ ইউসুফ হোসেন তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা বাজার ব্যবসায়ী মালিক সমিতির কর্মকর্তাবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন সমিতির প্রধান উপদেষ্ঠা ও খুলনা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজী আমিনুল হক, সভাপতি শ্যামল হালদার, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহাগ দেওয়ান, এম. এ মতিন পান্না, অনিল পোদ্দার, রফি আহমেদ বাবলা, আলহাজ্ব মোঃ হায়দার আলী, এমদাদুল হক খালাসী, আলহাজ্ব মোঃ আমিন, অরবিন্দ কুমার সাহা, গৌর সুন্দর মন্ডল, আলহাজ্ব মোঃ সিরাজুল হক, মোঃ রফিকুল ইসলাম টিপু, মোঃ জামিরুল হুদা জহর, সৈয়দ বোরহান উজ্জামান, আলহাজ্ব মোঃ সেলিম, মোঃ গোলাম আক্কাছ স্বাধীন, তরুন রায় শিবু, স্বপন কুমার সাহা, দিলীপ কুমার সাহা, এ. কবীর আহমেদ, মোঃ ঝুনু মোল্লা, তপন সাহা, আবু বকর সিদ্দিক, সত্যপ্রিয় সোম বলাই, অসিত বিশ্বাস, বেগ সাব্বির মাহমুদ, গোপাল সাহা, ওয়াহিদুজ্জামান বিপ্লব, মোঃ জাহিদুল ইসলাম, আলহাজ্ব মোঃ জাকির হোসেন ঝন্টু, উজ্জ্বল ব্যানার্জি, মোঃ আলী দেওয়ান ও মোঃ লাভলু খান।
খুলনা বড় বাজার ঐক্য সমন্বয় পরিষদ: খুলনা বড় বাজার ঐক্য সমন্বয় পরিষদের সদস্য খুলনা আলহাজ¦ মো. ইউসুফ হোসেনের মৃত্যুতে খুলনা বড় বাজার ঐক্য সমন্বয় পরিষদের নেতৃবৃন্দ পরিবারের প্রতিসমবেদনা ও শোক জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা বড় বাজার ঐক্য সমন্বয় পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন পরিষদের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম মাসুম, সদস্য সচিব মোঃ সোহাগ দেওয়ান, মোঃ কামরুল ইসলাম, মোঃ আযম খান, মোঃ নুরুল হক কচি, আবুল হাসান, মোঃ ইসলাম খান, রফিকুল ইসলাম মোড়ল, মোঃ আজিজুল মৃধা, মাহাবুবুর রহমান স্বপন, এস এম আনাম, মোঃ শাহ আলম গাজী, মোঃ হুমায়ুন কবির, মোঃ আলমগীর, মোঃ বোরহান উদ্দিন লাভলু, সরদার আশরাফুল টুয়েল, মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, মোঃ এজাজ আহম্মেদ ও মোঃ সাইফুল আলম।
খুলনা বড় বাজার গমজাত দ্রব্য ব্যবসায়ী সমিতি: খুলনা বড় বাজার গমজাত দ্রব্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ¦ মো. ইউসুফ হোসেনের মৃত্যুতে বড় বাজার গমজাত দ্রব্য ব্যবসায়ীবৃন্দ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সকলের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহাগ দেওয়ান, কার্য্যকরী সভাপতি সত্যপ্রিয় সোম বলাই, মোঃ আসলাম হাওলাদার, মোঃ জাহাঙ্গির আলম, মোঃ আব্দুল মান্নান, মোঃ ফিরোজ আলম, ওয়াহিদুজ্জামান বিপ্লব, মোঃ লাভলু খাঁন, আঃ রউফ, মোঃ জিয়া উদ্দিন জিয়া, মোঃ নুর আলম, তরুন রায় শিবু, মিলন সাহা, অসিৎ বিশ্বাস, মোঃ ইলিয়াছ হোসেন, বাবুল মল্লিক ও মোঃ দেলোয়ার হোসাইন জুয়েল।
খুলনা আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক: খুলনা আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ ইউসুফ হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ বিবৃতি দিয়েছেন সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান মতিন, সিনিঃ সহ-সভাপতি গৌর সুন্দর মন্ডল, সহ-সভাপতি মোঃ আসলাম হাওলাদার, মোঃ তারেক হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলম, কোষাধ্যক্ষ মোঃ মজিবর রহমান, প্রচার সম্পাদক মোঃ জামিল হোসেন, নির্বাহী সদস্য মোঃ রাজু হোসেন, মোঃ শিহাব উদ্দীন শাহারিয়া, মোঃ শাহীন বেগ, তারক মজুমদার, মোঃ রফি আহমেদ, মোঃ ফারুক, মোঃ রনি, মোঃ মারুফ, মোঃ ইদ্রিস, মোঃ খাইরুল ইসলাম ও মোঃ আলমগীর হোসেন।
খুলনা আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের ইন্তেকাল
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ ইউসুফ হোসেন গতকাল ০৫/০৭/২০২২ ইং তারিখ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯ ঘটিকায় খুলনা হরিণটানা থানার অদুরে এক সড়ক দূর্ঘটনায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহে……………. রাজিউন)। তার মৃত্যুতে খুলনা আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির কমকর্তা ও সদস্যবৃন্দ গভীরভাবে শোকাহত। মরহুমের মাগফেরাত কামনা করে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সকলের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছেন খুলনা আটা-ময়দা মিল মালিক সমিতির কর্মকর্তাবৃন্দ। বিবৃতিদাতারা হলেন সমিতির সভাপতি মতিয়ার রহমান মতিন, সিনিঃ সহ-সভাপতি গৌর সুন্দর মন্ডল, সহ-সভাপতি মোঃ আসলাম হাওলাদার, মোঃ তারেক হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলম, কোষাধ্যক্ষ মোঃ মজিবর রহমান, প্রচার সম্পাদক মোঃ জামিল হোসেন, নির্বাহী সদস্য মোঃ রাজু হোসেন, মোঃ শিহাব উদ্দীন শাহারিয়া, মোঃ শাহীন বেগ, তারক মজুমদার, মোঃ রফি আহমেদ, মোঃ ফারুক, মোঃ রনি, মোঃ মারুফ, মোঃ ইদ্রিস, মোঃ খাইরুল ইসলাম, মোঃ আলমগীর হোসেন।
খুলনা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের বিবৃতি
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হোসনেয়ারা চম্পা শহীদ স্মৃতি গালর্স্ স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় খুলনা জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ ও জেলার আওতাধীন সকল নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
শুভেচ্ছা জানিয়েছেন খুলনা জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক নাজনীন নাহার কনা, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও রূপসা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিনা আক্তার লিপি, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী এ্যাড. ফাল্গুনী মিতা, রূপসা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আঞ্জুয়ারা বেগম, তেরখাদা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক তাহিরা নয়ন, দিঘলিয়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আকলিমা বেগম, ফুলতলা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সামছুননাহার ও সাধারন সম্পাদক শাপলা সুলতানা লিলি, ডুমুরিয়া উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি তহমিনা বেগম ও সাধারন সম্পাদক হাসনা হেনা বেগম, দাকোপ উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খাদিজা বেগম ও সাধারন সম্পাদক লিপিকা বৈরাগী, বটিয়াঘাটা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শিউলী মিস্ত্রী, পাইকগাছা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জুলিয়া বেগম, কয়রা উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নিলিমা চক্রবর্তী ও সাধারন সম্পাদক হাসিনা বেগম সহ জয়নব বেগম, শিলা মন্ডল, পাখি বেগম, শাহিদা নয়ন, জেসমিন বেগম,সঞ্চিতা রায়, রওশনা আরা রিনি, সুফিয়া বেগম প্রমুখ।
পাটকেলঘাটায় মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া গোয়েন্দা বিভাগের নেই কোন মাথা ব্যাথা
পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় মাদক ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া। গোয়েন্দা বিভাগের আটকের নেই কোন মাথা ব্যাথা। বিভিন্ন ধরনের মাদক নিয়ে এসব ব্যবসায়ীদের ঘোরাফেরা। এদের নামে কোটে ১০/১২টা করে মামলা ঝুলছে। তারপরও এদের ব্যবসা থেমে নেই। পত্রিকায় লেখা লিখি কয়েকবার হলেও এরা ধরা ছোয়ার বাইরে। মাঝে মধ্যে দু একটা চুনো পুঠি আটক হলেও বাঘা বাঘারা গা ঢাকা দিয়ে থাকে।
এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে পাটকেলঘাটা সরকারী কবর স্থানের প্রাচীরে নির্জন স্থানে এদের কারবার। কালি বাড়ী কপোতাক্ষ নদের ওয়াপদায় কেশবলাল মহাশ্মশানের পাশে নির্জন স্থানে মাদক ব্যবসায়ীরা প্যান্টের পকেটে পুরে ফেরি করে ফেনসিডিল, হেরোইন, ইয়াবা, গাজার টুপলা বিক্রয় করে থাকে। এদের চেনা খুবই কঠিন। পুরাতন ব্যবসায়ীরা ছাড়া নতুন ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বলে একটি সূত্রে জানায়। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে নদীর ধার, কবর স্থানের নিকট এদের দখলে। এদিকে সরকারী কবর স্থানের পাশে বাসা বাড়ীর ভদ্র লোকেরা এসব মাদক ব্যবসায়ীদের ভয়ে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করিতে পারে না। এলাকার যুব সমাজ থেকে মধ্য বয়সের লোকজন এই মরন নেশায় আসক্ত হচ্ছে। এছাড়া এসব নির্জন স্থানে নতুন নতুন লোকের আনাগোনা এতে করে এলাকার প্রায় ছোট খাট চুরি সংগঠিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী মাদকদ্রব্য কর্মকর্তাদের কাছে এসব মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের গ্রেফতার পূর্বক শাস্তির ব্যবস্থা করার দাবী জানিয়েছেন।
পাটকেলঘাটা কুমিরা নোয়াকাটি মোড় ও তালা রোডের প্রবেশ পথে বিট দেওয়া প্রয়োজন
পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
ঝুকি পূর্ণ চৌরাস্তা পাটকেলঘাটা কুমিরা কাউন্সিল বাজার মোড়। এখানে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে দূর্ঘটনা। হাইরোড বাদে দুপাশে শাখা রোডে বিট দেওয়া অতি প্রয়োজন বলে এলাকাবাসীর দাবী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানাগেছে তালা, কপিলমুনি, পাইকগাছা এলাকার যানবাহন গুলো সুজনশাহা হয়ে কুমিরা বাজার মোড় হয়ে পাটকেলঘাটা সাতক্ষীরায় যেতে হয়। অপরদিকে নোয়াকাটি, মাহমুদপুর, গৌরিপুর, তেরছি, আড়ংপাড়ার জনসাধারনের উঠতে হয় কুমিরা বাজার মোড়। খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের যানবাহনের গতি থাকে ১শ ১শ। যখন দুপাশের রাস্তা হতে যানবাহন হাইওয়ে রোডে উঠতে গিয়ে হাইওয়েতে চলামান গাড়ীর সামনে পড়ে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে নিহত হওয়ার খবর প্রায়ই শোনা যায় উক্ত স্থানে। এমনকি এই বাজার মোড়ে ত্রি-মুখে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে থাকে। তাই এলজি ইডির কর্তৃপক্ষের কাছে এলাকাবাসীর দাবী কুমিরা বাজার ও কাউন্সিল মোড়ে তালার রাস্তার মুখে অপরদিকে উত্তর পাশে কুমিরা কাউন্সিল রোডের প্রবেশ পথে বিট দেওয়ার জন্য আহবান।
রামপালে একটি পরিবারের মানবেতর জীবন-যাপন: হামলা বাড়ীঘর ভাংচুর মামলা দায়ের
রামপাল (বাগরহাট) সংবাদদাতা
রামপালে সরকারি ভাবে বন্দোবস্তো থাকা সত্ত্বেও একটি পরিবারের বাড়ি ঘর ভাংচুর করে তাড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং ১৯/২২। ভুক্তভাগী ওই পরিবারটি গত এক বছর ধরে মানবেতর জীবন যাপন করেও রেহাই পাচ্ছেন না। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করেল আবারো হামলা করা হবে এমন হুমকি দেয়া হয়েছে।উপজেলার বাঁশতলী এলাকার মৃত আ. হাকিমের ছেল আ. গনি মৃধা (৫৭) জানান পার্শ্ববর্তী পেড়িখালি ইউনিয়নের কুমারখালি মৌজায় তার মা লাকি বেগম ১০০১ নং দাগে ৫০ শতক খাস জমি সরকারের কাছ থেকে বন্দোবস্তো নেন। তিনি আনুমানিক ১৮ বছর ধরে ওই জমিতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। জানা যায় একই এলাকার মৃত ইসরাফিল শেখের পুত্র মো. রাজিব শেখ বিগত ২০২১ সালের ৮ আগস্ট বেলা ১১টায় ৫/৬ জন লোক নিয়ে আ.গনির ওই বসত বাড়িতে হামলা চালিয়ে বাড়িঘর ভাঙ্গচুর করে মালামালা টাকা পয়সা স্বর্নালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার সময় আ. গনি বাড়িতে না থাকায় প্রতিবাদ করেত এগিয়ে আসেন ওই এলাকার জাহারুল শেখ। এ সময় তাকে মারধর করা হয়। এরপর রাজিব আ. গনির মা ও স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে দখল করে নেয়। গত এক বছর ধরে আ. গনি তার পরিবার নিয়ে এখানে কাল ওখানে এভাবে মানবেতর জীবন যাপন করেও রেহাই পাচ্ছে না। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মারধর করা হবে এমন হুমকি দিয়েছে ওই রাজিব।
এদিকে রাজিব আ. গনির বাড়ি ঘর ভেঙ্গে সেখানে একটি পাল্ট্রি মুরগির ফার্ম করেছে। এ বিষয়ে রাজিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আ. গনি যে জায়গায় বসবাস করতো সে জায়গা তার না। তার বদোবস্তো প্রাপ্ত ৫০ শতক জমি পাশের কুতুব উদ্দিনের ঘেরের মধ্যে রয়েছে। সেই জমি কুতুব উদ্দিনের ঘের ম্যানেজার সাইদুরের কাছে লাগায়ে হারি নেয়। এখানে আ. গনি সরকারি জায়গা দখল করে বসবাস করতো। সে সরকারি জমি দখল করে এক সময় পজেশন বিক্রি করতো। আমি ওই জায়গায় স্থানীয় এক ব্যাক্তির কাছ থেকে কিনে এখন একটি মুরগির খামার করেছি। একটি ব্যাংক চেক ডিজঅনার মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় কিভাবে তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি ওয়ারেন্ট থাকার কথা স্বীকার করে বলেন বাদীর সাথে একটা মিমাংশা হয়েছে। ভুক্তভাগী আ. গনির অভিযোগ আমি স্থানীয় এক ব্যক্তির রাইস মিলে কাজ করতাম। একটি কথিত চুরির ঘটনায় মিল মালিক আমাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। আমি ওই টাকা দিতে না পারায় তিনি আমার বসত বাড়ি রাজিবের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। আমি পরবর্তীতে ২৫ হাজার টাকা ফরৎ দিয়েও আমার জায়গা ফেরৎ পাচ্ছি না। তিনি আরও বলেন গত ২৫/৫/২০২২ তারিখ রাজিব আমাকে বেধে রেখে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। আমি বাধ্য হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছি। মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে আদালত থেকে রামপাল থানায় পাঠানা হয়। থানার এস আই আসাদুজ্জামান ইতিমধ্যে তদন্ত করেছেন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়া হবে বলে তিনি জানান। #
মোরেলগঞ্জে এক সন্ত্রাসীর ভয়ে এলাকার সাধারণ মানুষ দিশেহারা
মোরেলগঞ্জ(বাগেরহাট)প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নে এক সন্ত্রাসীর দাপটে এলাকার নিরীহ জনসাধারণ দিশেহারা। তার কাছে অবৈধ আগ্নেয়স্্র থাকায় এলাকার মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায়না।
এলাকায় সে রাম রাজত্য কায়েম করায় যাখুশি তাই করে বেরাচ্ছে। চালাচ্ছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। পরিবেশ খারাপ দেখলে পালিয়ে যায় খুলনা। পুটিখালী গ্রামের মৃত হাসেম আলী শেখের ছেলে মো. ফারুক শেখের উথ্যান ঘটে ২০০৯ সালে। ওই সময় একটি মৎস্য ঘের দখল করতে যায় ফারুক শেখ ও তার দলবল। ২০০৯ সালের ৩ এপ্রিল ঘের দখলের দিন ধারালো দাও দিয়ে মো. সিদ্দিকুর রহমানের ডান হাত কেটে ফেলে। এ নিয়ে মামলা হয়। মামলায় ফারুক শেখ জেল হাজত থেকে জামিনে মুক্ত হলে তার বিরুদ্ধে হাত কাটা মামলার বাদী আব্দুল গফফার ও স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করে। বাদী আব্দুল গফফার ও ওই মামলার স্বাক্ষীদের বিরুদ্ধে তার এক নিকট আত্মীয় মিজান খানকে দিয়ে ২০১৪ সালে চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন মামলা দিলে বাদী মামলা তুলে নেন।
তার পর থেকে সে বেপরোয়া হয়ে ওঠে। শুরু করে এলাকায় মাদকের ব্যবসা। অন্যের জমি দখল করে নিজে বসতি স্থাপন করে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও থানায় সাধারণ ডায়েরী থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না।
ডুমুরিয়ায় মাগুরাঘোনা ইউনিয়নে উন্নয়ন সমন্বয় সভা
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় বে-সরকারি উন্নয়ন সং¯’া রূপান্তরের অপরাজিতা প্রকলপের সহযোগিতায় মাগুরাঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে ইউপি মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউপি চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম হেলাল। ইউপি সচিব সিদ্ধার্থ শংকর ব্যানার্জীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সমন্বয় কারী দীপঙ্কর মন্ডল, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দাশনর হরি,এস এম আবদুস সামাদ, আঃ ছাত্তার মোড়ল, ইউপি সদস্য মোঃ মাহবুবুর রহমান, মতিয়ার রহমান,শাহিদা বিবি, নূর জাহান, মাফুজা বেগম, মশিয়ার সরদার, মুনছুর শেখ, মোঃ মিল্টন, মোঃ সাব্বির, স্বা¯’্য সহকারী শামীমা সুলতানা, শিরিন সুলতানা, আইভি সুলতানা , হিসাব সহকারী সেলিনা খাতুন, উদ্যোক্তা মতিয়ার রহমান, সমাজ সেবক ডাঃ আমজাদ হোসেন, আনসার কমান্ডার জাহিদুর রহমান শেখ, দলনেতা শফিকুল ইসলাম প্রমূখ।
ডুমুরিয়ায় কালীবাটী স্কুলে সঞ্জয় প্যানেল নিরঙ্কুশ বিজয়
ডুমুরিয়া প্রতিনিধি
ডুমুরিয়ায় উৎসব মুখর পরিবেশে রংপুর কালীবাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে দুটি প্যানেলে ৫ জন প্রার্থীর বিপরীতে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এতে প্রভাষক ননী গোপাল মন্ডল ও সঞ্জয় মল্লিক দুটি প্যানেলে হাড্ডা হাড্ডি লড়াইয়ে সঞ্জয় মল্লিকের প্যানেল নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে। বুধবার বিদ্যালয় কক্ষে সকাল ১০টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে এ ভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২১৯ জন ভোটারের মধ্যে ২১২ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এতে সঞ্জয় মল্লিক প্যানেলে দিপংকর বাগচী ১০৮ , আশুতোষ মন্ডল ১০৭, জয়ন্ত মল্লিক ১০৭, সুভাষ হালদার ১০৫ ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রিপা সরকার ১১৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এর আগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শিক্ষক প্রতিনিধি অনুপ মন্ডল, দিপংকর বিশ্বাস এবং দাতা সদস্য অপূর্ব মল্লিক নির্বাচিত হন। নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ফিরোজ আহমেদ। এসময় উপ¯ি’ত ছিলেন প্রধান শিক্ষক মহীতোষ বল, ¯’ানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সমরেশ মন্ডল ও এসআই রফিকুল ইসলাম।
দশম চালানের ৬টি কোচ ও ২টি ইন্জিন নিয়ে মোংলা বন্দর জেটিতে ভিড়েছে বিদেশী জাহাজে এসপিএম ব্যাংকক
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
জাপানের কোবে বন্দর থেকে মেট্রোরেলের দশম চালানের ৬টি কোচ, ২ ইন্জিন ও ৪৮ প্যাকেজ মেশিনারী পণ্য নিয়ে ছেড়ে আসা বিদেশি জাহাজ এম,ভি এসপিএম ব্যাংকক বুধবার বিকেল সাড়ে ৬টায় মোংলা বন্দরের ৭ নম্বর জেটিতে ভিড়েছে। সন্ধ্যার পর রাতে জাহাজ থেকে শুধু মেশিনারী প্যাকেজ পণ্য নামানো হবে, আর কোচ ও ইন্জিন বৃহস্পতিবার ভোর ৬ থেকে নামানো হবে বলে জানিয়েছেন জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট।
বিদেশী জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এনশিয়েন্ট স্টিম শিপ কোম্পানীর ব্যবস্থাপক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান জানান, বুধবার বিকেল সাড়ে ৬টায় ৬টি কোচ ও ২টি ইন্জিনসহ বিভিন্ন ধরণের মেশিনারী পণ্যের ৪৮টি প্যাকেজ নিয়ে জাপান থেকে গত ৩ জুন ছেড়ে আসা এসপিএম ব্যাংকক জাহাজ মোংলা বন্দরে ভিড়েছে। বন্দরের ৭ নম্বর জেটিতে অবস্থান নেয়া এ জাহাজ হতে সন্ধ্যা থেকে রাতভর শুধু মেশিনারী পণ্যের প্যাকেজ নামানো হবে। আর বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে সাবধানে গুরুত্বপূর্ণ ভারী ও মুল্যবান কোচ এবং ইন্জিন নামানো হবে। এসব মালামাল নামিয়ে দিয়ে বিদেশী জাহাজটি বৃহস্পতিবার বিকেলেই এ বন্দর ত্যাগ করবে। জাহাজ থেকে সরাসরি বার্জে (নৌযান) নামানো এসব মালামাল নদী পথেই ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ী ডিপোতে নেয়া হবে। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত মোংলা বন্দর দিয়ে মেট্রোরেলের ৬২টি কোচ ও ৩০টি ইন্জিন এসেছে। আগামী আগস্টে আরো ১২টি কোচ-ইন্জিন আসবে বলেও জানান তিনি।
কেসিসি’র ১ জন কর্মকর্তা ও ১ জন কর্মচারীর মাঝে শুদ্ধাচার পুরস্কার-২০২২ প্রদান
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বুধবার সকালে নগরভবনে কেসিসি’র ১ জন কর্মকর্তা ও ১ জন কর্মচারীর মাঝে শুদ্ধাচার পুরস্কার-২০২২ প্রদান করেছেন। শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য গঠিত কেসিসি’র যাচাই-বাছাই কমিটি মূল্যায়ন সূচক অনুযায়ী নম্বর বিবেচনাপূর্বক সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপ্ত কর্মকর্তা কেসিসি’র সচিব মোঃ আজমুল হক এবং কর্মচারী পূর্ত বিভাগের উচ্চমান সহকারী মোঃ হেমায়েত উদ্দিন খান’কে মনোনীত করেন। সিটি মেয়র শুদ্ধাচার পুরস্কারের জন্য মনোনীত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর হাতে সার্টিফিকেট ও ক্রেস্টসহ এক মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ তুলে দেন। কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) লস্কার তাজুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানসহ সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শুদ্ধাচার চর্চায় উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে সরকার “শুদ্ধাচার প্রদান নীতিমালা-২০১৭” প্রণয়ন করে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ কর্তৃক প্রণীত জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন নির্দেশিকা ২০২১-২২ এর ১.৮ নং নির্দেশিকার আলোকে কেসিসি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এ শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান করা হয়।
রূপসায় নিত্য দে সড়কের নামফলক উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
রূপসা প্রতিনিধি
রূপসা উপজেলার নেহালপুর গ্রামের একটি রাস্তা নৈহাটী ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক ইউপি সদস্য ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত নিত্যরঞ্জন দে’র নামে নামকরণ করা হয়েছে। খুলনা-৪ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার জীবদ্দশায় প্রস্তাবনা মোতাবেক ও বর্তমান সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদী’র দিক নির্দশনায় সড়কটির নামকরণ করে ইউনিয়ন পরিষদ রেজুলেশন করে। নেহালপুর গ্রামের প্রশান্ত মজুমদারের বাড়ি হতে নেহালপুর মাজেদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সামনে হয়ে খুলনা জেলা আওয়ামীলীগ নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল এর বাড়ি সংলগ্ন পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে দুই হাজার ফুটের ইটের সোলিংয়ের এ রাস্তাটি।
৬ জুলাই বেলা ১১ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে রাস্তাটির নাম ফলক উন্মোচন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। নেহালপুর গ্রামের কৃতি সন্তান নিত্য দে’র জীবদ্দশায় মানবিক কর্মকান্ড শ্রদ্ধাভরে স্মরণ রাখতে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী তার স্মৃতিকে আগামীতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বহমান করার লক্ষ্যে রাস্তাটির নামকরণ করা হয়।
নেহালপুর মাজেদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল। স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাক শেখ এর সভাপতিত্বে ও দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকার সাবেক সাংবাদিক সমাজসেবক বিনয় রঞ্জন দে’র পরিচালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নৈহাটী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ কামাল হোসেন বুলবুল, রূপসা প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মাহবুবুর রহমান, ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আসাবুর রহমান মোড়ল। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত ইউপি সদস্য লিপিকা রানী দে, রেশমা আক্তার, নৈহাটি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক মো. বেনজীর হোসেন, রূপসা উন্নয়ন সংস্থার সহ-সভাপতি তারেক আহমেদ টিপু, সাবেক ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম বাবু, উপ-দপ্তর সম্পাদক মোহর আলী ফকির, কামরুল হাসান শান্ত, রূপসা উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার দে, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম পলু, মীর জাকির হোসেন, আবু বক্কার মোল্লা, হেলাল মল্লিক, দাউদ আলী শেখ, তুষার দাস, পিন্টু গোপাল দে ও রাজু দে প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন প্রয়াত নিত্য রঞ্জন দে ছিলেন আওয়ামী রাজনীতির অকুন্ঠ্য কর্মী। তিনি ব্যক্তি জীবন তথা জনপ্রতিনিধি হিসেবেও ছিলেন সমাদৃত। তার অবদান এ এলাকার মানুষ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে।
ফকিরহাটে ট্রাকের চাপায় মটরসাইকেল চালক নিহত
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ফকিরহাট উপজেলার পালেরহাট বটতলা নামক স্থানে গ্যাসের সিলিন্ডার বোঝায় ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মটর সাইকেল আরোহী আবু আহাদ শেখ (২৫) নামের একজন নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা একটি গ্যাসের বোতল বোঝাই ট্রাক মোল্লাহাটের দিকে যাওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা মটর সাইকেল আরোহীকে চাপা দেয়। এতে আহাদ শেখ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ, মোল্লাহাট হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করলেও চালক পালিয়ে গেছে। নিহত আহাদ শেখ রামপালের ফয়লা এলাকার শওকত শেখের ছেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোল্লাহাট হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ শেখ আবুল হাসান।
ফকিরহাটে বড়ভাইয়ের মারপিটে আহত ছোটভাইয়ের মৃত্যু
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বাহিরদিয়া-মানসা ইউনিয়নের পশ্চিম বাহিরদিয়া গ্রামে বড়ভাইয়ের মারপিটে আহত ছোট ভাই আবু জাফর (৩৫) নামের এক ব্যক্তি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মারা যান বলে মৃতের পরিবার জানিয়েছেন। বুধবার তার ময়না তদন্ত ও আইনী প্রক্রিয়া শেষে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, গত ২৯জুন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পশ্চিম বাহিরদিয়া গ্রামে জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আলী আহম্মদ শেখ ও ছোট ভাইয়ের পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৫জন আহত হয়। এর মধ্যে গুরুত্বর আহত অবস্থায় আবু জাফরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার চরম অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৩রা জুলাই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানেই সে চিকিৎসাধান অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এদিকে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় গত ৩জুলাই উভয় পক্ষ ফকিরহাট মডেল থানায় পাল্টা-পাল্টি মামলা দায়ের করেন। উভয় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাহিরদিয়া পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই শুভজিৎ পাল বলেন, দুই ভাইয়ের মধ্যে জমাজমি সংক্রান্ত সংঘর্ষের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা তদন্তধীর রয়েছে। এরমধ্যে আহত আবু জাফর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। আসামীকে আটকের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফকিরহাটের আট্টাকায় পিকআপ চালকের আত্মহত্যা
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ফকিরহাট সদর ইউনিয়নের আট্টাকা গ্রামে দিপু খান (২০) নামের এক পিকআপ চালক গলাই ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। সে উক্ত গ্রামের আব্দুল্লাহ খানের ছেলে। হাসপাতাল ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে পরিবারের লোকজন তাকে সেখান থেকে নামিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। সেখানে উপস্থিত কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষনা করেন। খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে প্রাথমিক সুরোতহাল প্রতিবেদন শেষে মৃতদেহ উদ্ধার করে। তবে সে কি কারনে আত্মহত্যা করেছেন তা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিস্তারিত জানা যায়নি।
খুলনা পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সিলেট কোম্পানিগঞ্জে বন্যার্তদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরন
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে , এ স্লোগানকে সামনে নিয়ে খুলনা পলিটেকনিক এর সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বন্যার্তদের সাহাযার্থের জন্য খুলনার মানুষের কাছ থেকে গন চাদা তুলা হয়। গত ২১ জুলাই থেকে মোট ৪ দিন শিক্ষার্থী টিম লিডার ,এক্স ক্যাডেট কর্পোরাল লামিয়া আক্তার লাম,ক্যাডেট সার্জেন্ট সাব্বির আহম্মেদ, জিৎ বিশ্বাস, মোঃ সাজিম, মোঃ তারিকুল, মোঃ নাঈমুর রহমান সাগর সহ মোট ৩০ জনের একটি টিম খুলনার বিভিন্ন হাটবাজার , শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে গন চাঁদা আদায় করে। সিলেটের কোম্পানিগঞ্জে বন্যার্তদের মধ্যে প্রায় আড়াই শতাধিক পরিবারের মধ্যে খাদ্রসামগ্রী বিতরন করে । এর মধ্যে ছিলো চাল, ডাল, আলু, তেল, লবন ,চিড়া, পিয়াজ , সাবান, শুকনো ঝাল, গুড়। ওয়ান প্যারা-কমান্ডো ব্যাটালিয়ান ইউনিটের পক্ষ থেকে প্যারা কমান্ডো এম এফ মেজর ইমরান আল জিহাদ ও তার টিম ,খুলনা পলিটেকনিক এর সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের খাদ্যসামগ্রী বিতরনে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন। খুলনা পলিটেকনিক এর সাবেক শিক্ষর্থী এক্স ক্যাডেট কর্পোরাল লামিয়া আক্তার লাম বলেন প্রথমে আমি নিজ থেকে প্লানটি মাথায় নেই , তারপর সকলের সাথে আলোচনা করে আমরা কালেকশনে বের হয় সাধারন মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পাই । ৪ দিনে মোট ১ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকার মতো কালেকশন হয় । এ টাকা দিয়ে আমরা খাদ্যসামগ্রী ক্রয় করি এবং কিছু নগদ টাকা বানভাসি মানুষদেরকে দেয়া হয়। এছাড়া খুলনা পলিটেকনিক এর শিক্ষকবৃন্দ পক্ষ থেকে সিলেট বানভাসি মানুষের খাদ্রসামগ্রী বিতরনের জন্য শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ভাড়া বাবাদ প্রায় ১২ হাজার টাকা প্রদান করেন ।
জামিরা ইউনিয়নে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম উপলক্ষে সমন্বয় কমিটির সভা
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
ছবিসহ ভোটার তালিকার হালনাগাদ কার্যক্রম-২০২২ উপলক্ষে জামিরা ইউনিয়ন সমন্বয় কমিটির সভা গতকাল সকাল ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদ অডিটরিয়মে অনুষ্ঠিত হয়।ফুলতলা উপজেলা নির্বাচন অফিস এ সভা আয়োজন করেন। এই সময় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। ফুলতলা উপজেলা নির্বাচন অফিসার শেখ জাহিদুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম সরদার। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউপি সচিব মোঃ আনছার আলী বিশ^াস, ইউপি সদস্য মোঃ অলিয়ার বিশ^াস, আশরাফ সরদার,মোঃ আঃ আজিজ,শেখ আঃ হালিম শেখ, শাহিদা ইসলাম নয়ন, নার্গিস বেগম, সুপারভাইজার মোঃ বিএম রফিকুল ইসলাম, প্রমুখ । ফুলতলা উপজেলা নির্বাচন অফিসার শেখ জাহিদুর রহমান বলেন গত ২৫ জুন হতে আগামি ১৬ জুলাই -২০২২ পর্যন্ত উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নে বাড়ী বাড়ী গিয়ে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ১০ জন সুপারভাইজার এবং তথ্য সংগ্রহকারীদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং পরবর্তিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক পৃথক দিনে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে ছবি তোলা হবে। সমন্বয় সভায় সংশ্লিষ্ট সকলকে এবং যারা নতুন ভোটার তালিকার জন্য তথ্য প্রদান করবেন তাদেরকে অত্যন্ত সচেতনার সহিত সঠিকভাবে সকল তথ্যদাদি তথ্যসংগ্রহকারীকে প্রদান করে নিজের ভোটার তালিকা নির্ভুলভাবে তৈরির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য আহবান জানানো হয়।
ঘর থেকে অজগর সাপ ও নদীর পাড় থেকে ফেলে যাওয়া সুন্ধি কচ্ছপ উদ্ধার
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলার মাদুরপাল্টা গ্রামের বসত ঘর থেকে একটি অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। উদ্ধার হওয়া ওই সাপটি বনে ছেড়ে দিয়ে ফেরার পথে বন সংলগ্ন খড়মা নদীর পাড় থেকে একটি সুন্ধি কচ্ছপ উদ্ধার করে বনবিভাগ। কচ্ছপটি করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধারা ষ্টেশন কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান মোক্তাদির জানান, মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের মাদুরপাল্টা গ্রামের বাসিন্দা মাজেদ মৃধার বসতে ঘরের মধ্যে একটি অজগর ঢুকে পড়ে ঘরে থাকা পোষা মুরগি ধরে (কামড়ে ধরে)। ঘরের লোকজন দুপুর ১টার দিকে ঘরে সাপের এ মুরগি ধরা দেখে ভয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তা দেখে বনবিভাগকে খবর দেয়। এরপর বনবিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে সাপটি উদ্ধার করে দুপুর আড়াইটার দিকে জিউধারা অফিস সংলগ্ন বনে ছেড়ে দেয়। এ সাপটি লম্বায় ৯ ফুট ও ওজন ৬ কেজি। এদিকে বনে সাপ ছেড়ে দিয়ে ফেরার পথে বন সংলগ্ন খড়মা নদীর পাড় থেকে বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির একটি সুন্ধি কচ্ছপ উদ্ধার করে বনবিভাগের সদস্যরা। উদ্ধার হওয়া আধা কেজি ওজনের কচ্ছপটির বয়স দুই বছর। কচ্ছপটি বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির হওয়ায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সেটি সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হয়েছে বলে জানান বন কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান মোক্তাদির। তিনি বলেন, খাদ্যের সন্ধানে সাপটি লোকালয়ের বসত ঘরে যেয়ে থাকতে পারে। কারণ সাপটি ঘরে ঢুকে পোষা মুরগি ধরেছিলো। এছাড়া অসাধু লোকেরা বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতির সুন্ধি কচ্ছপ পাচারকালে বনবিভাগের সদস্যদের দেখে নদীর পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের গোড়াবুড়বুড়িয়া গ্রামের ফারুক হাওলাদারের মুদি দোকানের ভিতর থেকে একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে বনবিভাগ।
দাকোপে সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচ-আদায় সেঞ্চুরি
মোঃ শামীম হোসেন- বাজুয়া
খুলনার দাকোপে সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচ-আদায় সেঞ্চুরি। বুধবার দাকোপের চালনা বাজারে ও মঙ্গলবারে বাজুয়া বাজারে দেখা যায় কাঁচামরিচ ও আদার দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এ দুটি পণ্যই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে। তবে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা কমে অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজ ও আলুসহ বিভিন্ন সবজির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বুধবার (৬ জুলাই) দাকোপের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমনটা জানা যায়। খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি করলা ৫০-৪৫ টাকা থেকে কমে ৩০-৪০ টাকা, শসা আগের মতোই ৬০-৭০ টাকা, চিকন বেগুন ৩৫-৪০ টাকা, গোল বেগুন ৫৫-৬০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ২০-৩০ টাকা বেড়ে ১২০-১৪০ টাকা, শুকনা মরিচ ৩৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়শ ২৫-৩০ টাকা, কচুরলতি আগের মতোই ৩৫-৪০ টাকা, বরবটি ৪০-৪৫ টাকা, পটল ৩০-৩৫ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২৫-৩০ টাকা, চালকুমড়া আকারভেদে ৩০-৩৫ টাকা, ঝিঙ্গে ২৫-৩০ টাকা, কাকরোল ২৫-৩০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। লেবু প্রতি হালি ৮-১০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৩০-৪০ টাকা, কাঁচকলা হালি ২৫-৩০ টাকা, সব ধরনের শাক ১০-১৫ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে। দেশি আদা ১০০-১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০-২০০ টাকা এবং রসুন ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পেঁয়াজ গত সপ্তাহের মতোই ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কার্ডিনাল আলু গত সপ্তাহের মতো ২৩-২৫ টাকা ও শিল আলু ৩৫-৩৮ টাকা এবং ঝাউ আলু ৩৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগি ২০-৩০ টাকা কমে ১৩০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খুচরা পর্যায়ে পাকিস্তানি মুরগি আগের ২৩০-২৪০ টাকা, পাকিস্তানি লেয়ার ২৪০-২৫০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৩৮০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৫ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতল ৯৮০ টাকা এবং খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকা দরে। গত সপ্তাহের মতোই গরুর মাংস ৭০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৮৫০-৯০০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে। বাজুয়া বাজারের মুরগি বিক্রেতা মহাসিন বলেন, কোরবানি ঈদের কারণে খামারিরা মুরগি ধরে রাখছেন না। এ কারণে বাজারে আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। পোদ্দারগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী পুলিন বলেন, কোরবানি ঈদে সাধারণত বিভিন্ন মসলাসহ আদা, রসুন ও মরিচ-পেঁয়াজের চাহিদা বাড়ে। এ কারণে দাম কিছুটা হেরফের হয়। তবে এখন পর্যন্ত মসলার বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। আদা, চুইজাল এবং কাঁচামরিচের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে, খোলা চিনি আগের মতোই ৮৫ টাকা বিক্রি হলেও প্যাকেট চিনির দাম ৫ টাকা বেড়ে ৯০ টাকা, মসুর ডাল (মাঝারি) গত সপ্তাহের মতোই ১১০-১২০ টাকা, চিকন ১৩৫-১৪০ টাকা, প্যাকেট আটা ৪৮-৫০ টাকা ও খোলা আটা ৪০-৪৫ টাকা এবং ময়দা ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে চালের দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। স্বর্ণা (মোটা) আগের মতোই ৫৪-৫৫ টাকা, বিআর২৮ ৫৮-৬০ টাকা, মিনিকেট ৬৮-৭০ টাকা এবং নাজিরশাইল ৩-৪ টাকা ৮৩-৮৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। মাছের বাজারেও তেমন একটা হেরফের নেই।
নড়াইলে সেনাবাহিনী প্রধান এর পক্ষ হতে দুস্থদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ
মোঃ তাহের, নড়াইল প্রতিনিধিঃ
নড়াইলের লোহাগড়ার করফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধানের পক্ষ হতে দুস্থদের মাঝে ঈদ উপহার প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (৬জুলাই) সকাল ১১ টায় ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের ৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির ব্যাবস্হাপনায় ১ হাজার জন দুস্থ মানুষের মাঝে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহম্মেদের পক্ষ হতে ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়।
উপহার স্বরুপ প্যাকেটের মধ্যে ছিল পোলাও চাল, সাধারণ চাল, লাচ্ছা সেমাই, চিনি, ডাল এবং তেল। উপহার পেয়ে খুশিতে নছুরন বেগম বলেন, বুড়ো মানুষ বাবা আমি এই বয়সে খোজ নেয় কয়জনে? সেনাপ্রধান আমাগে সন্তান কোন দিন এলাকায় থাহে নাই কিন্তু সে যে আমাগে সবার সাথে বিপদে আপদে পাশে থায়ে তাই আমরা অনেক খুশি। লোহাগড়া উপজেলার খান মিল্টন হোসেন বলেন, আমাগে নড়াইল লোহাগড়ায় অনেক অফিসার আগে থেকে ছিলো কিন্ত এভাবে কেউ খোজ খবর রাহে নাই। কপাল জোরে এমন একজন সেনাপ্রধান পাইছি, আমরা আশা করি এলাকার উন্নতিতে আমাগে সাহায্য করবেন। আমাগে ঈদের আনন্দ বাইড়ে গেল সেনাপ্রধানের ঈদ উপহার পাইয়ে। জিওসি ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়ার সার্বিক তত্বাবধানে যশোর সেনানিবাসের উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত থেকে সেনাপ্রধানের ঈদ উপহার বিতরনে সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
দাকোপে নদীতে অবৈধভাবে চিংড়ি পোনা আহরণ বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা
বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধি
খুলনার দাকোপ উপজেলার চুনকুড়ি ঝপঝপিয়া ও পশুর নদীতে অবৈধভাবে চিংড়ি পোনা আহরণ বন্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয় এবং ২০ হাজার মিটার অবৈধ নেট জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। বুধবার দুপুরে পশুর নদীতে অবৈধ ভাবে চিংড়ি পোনা আহরণ কালে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন দাকোপ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) গালিব মাহমুদ , সার্বিক সহযোগিতায় সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার সেলিম খান, সহকারী মৎস্য অফিসার দাকোপ। এছাড়া বাংলাদেশ নৌ পুলিশের সদস্যবৃন্দ সহ মৎস্য দপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দর উপস্থিতিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
মহেশপুরে ফেন্সিসিডিল ও গাঁজাসহ মাদক চোরাকারবারি আটক
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি,
ঝিনাইদহের মহেশপুরে ৪৫০ বোতল ফেন্সিডিল ও ২ কেজি গাঁজাসহ ফয়জুল্লাহ (২৩) নামে এক মাদক চোরাকারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবারে ভোরে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের বাহার ইট ভাটার পাশের মেহগনি বাগান থেকে তাকে আটক করা হয়। আটককৃত ফয়জুল্লাহ একই ইউনিয়নের বেতবাড়ীয়া গ্রামের লুৎফর রহমানে ছেলে।
মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম মিয়া জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক মাদব চোরাকারবারিকে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে ৪৫০ বোতল ফেনডিসিল ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটককৃতের বিরুদ্ধে মামলা করে জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
খুলনায় ঈদের প্রধান জামাত সকাল আটটায় খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে
তথ্য বিবরনী
খুলনায় পবিত্র ঈদ-উল-আযহা যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপনের লক্ষ্যে সরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ঈদ-উল-আযহার প্রধান জামাত সকাল আটটায় খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। জামাতে ইমামতি করবেন টাউন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মোহম্মদ সালেহ। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলে খুলনা টাউন জামে মসজিদে সকাল আটটায় প্রথম ও প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সেক্ষেত্রে টাউন জামে মসজিদে দ্বিতীয় জামাত সকাল নয়টায় এবং তৃতীয় ও শেষ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৩১টি ওয়ার্ডে সিটি কর্পোরেশনের সহায়তায় ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে পৃথকভাবে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
ঈদের দিন সকল সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবনে যথাযথভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা এবং সূর্যাস্তের পূর্বে নামানো হবে। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কসমূহ ও গুরুত্বপূর্ণ চত্বর, সড়কদ্বীপ ও সার্কিট হাউস ময়দান জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক (বাংলা ও আরবী) খচিত ব্যানার দিয়ে সজ্জিত করা হবে। ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র বিশেষ অনুষ্ঠানমালা এবং স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করবে। বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রে এ উপলক্ষে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। খুলনা জেলা ও মহানগর এলাকায় কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে পশুর হাট স্থাপন করা যাবে না। জেলার ২৮টি পশুর হাটে প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের নেতৃত্বে মেডিকেল টিম কাজ করবে। পরিবেশ দূষণরোধে নির্দিষ্ট স্থানে সকল পশু কোরবানি/জবাই করতে হবে।
ঈদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে মহানগর ও মহানগরের বাইরের বিভিন্ন স্পটে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ঈদ-উল-আযহার সময় আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, রাস্তা বন্ধ করে স্টল তৈরি, উচ্চস্বরে মাইক, ড্রাম বাজানো, রঙিন পানি ছিটানো এবং বেপরোয়াভাবে মোটর সাইকেল চালানো যাবে না।
ঈদ উপলক্ষে রাস্তায় যত্রতত্র গেট নির্মাণ, প্যানা বা ব্যানার টাঙালে রাস্তা সংকুচিত হয়ে দুর্ঘটনার আশংকা থাকে এবং শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হয় মর্মে করা হবে। ঈদের সময় অজ্ঞান ও মলম পার্টি, ছিনতাইকারী ও পকেটমারদের তৎপরতা বন্ধে টার্মিনাল সংযোগ সড়ক, রেলস্টেশন, বাস ও নৌযান টার্মিনালসমূহে সাদা পোষকধারী পুলিশ মোতায়েন থাকবে এবং ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে। জাল টাকার বিস্তাররোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
প্রধান জামাত অনুষ্ঠানের সময় মুসল¬ীদের গাড়ি পার্কিং এর জন্য জেলা স্টেডিয়াম সংলগ্ন আউটার স্টেডিয়াম সংরক্ষিত থাকবে। মুসল¬ীদের অযুর জন্য পানির ব্যবস্থাও রাখা হবে। বাস, লঞ্চ, স্টিমারে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী উঠতে না পারে এবং বেপরোয়াভাবে যান চলাচল করতে না পারে তার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়োজিত থাকবে। জেলার শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নের কোন সংবাদ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে র্যাবের কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বর ০১৭৭৭৭১০৬৯৯-এ জানানো যাবে। উপজেলা সমূহেও স্থানীয়ভাবে অনুরূপ কর্মসূচি পালিত হবে।
মোংলায় সরকারী খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণ শুরু করেছেন স্থানীয় প্রশাসন
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মোংলায় শুরু হয়েছে সরকারী রেকর্ডিয় খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণের কাজ। বুধবার সকাল থেকে এ বাঁধ অপসারণের কাজ শুরু করেন স্থানীয় প্রশাসন। কালিকাবাড়ী খালে বাঁধ থাকায় চলতি বর্ষা মৌসুমে ওই এলাকায় সিলেটের মত বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ বাঁধ কাটায় সাধারণ মানুষের জলাবদ্ধতার নিরসন হবে। বাঁধ অপসারণ এ অভিযানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদারের সাথে রয়েছেন কোস্ট গার্ড, পুলিশ, আনসারসহ ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার জানান, উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ৫৫টি সরকারী রেকর্ডিয় খাল রয়েছে। প্রতিটি খালে এক বা একাধিক বাঁধ দিয়ে চিংড়ি ঘের করে আসছিলো স্থানীয় জমি ও ঘের মালিকেরা। বুধবার সকাল থেকে ওই সকল খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণের কাজ শুরু করা হয়েছে। প্রথমেই চাঁদপাই ইউনিয়নের কালিকাবাড়ী তারপর কাঠালতলা খালের বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সকল বাঁধই অপসারণ করা হবে বলেও জানান তিনি। ৫৫টি খালে প্রায় শ’খানেক বাঁধ রয়েছে।
কালিকাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা শংকর বৈদ্য বলেন, বাঁধ অপসারণ করায় আমরা গ্রামবাসী ইউএনও স্যার ও সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এতোদিন আমরা জলাবদ্ধতায় ছিলাম, খুব কষ্ট হতো। এখন পানি নিষ্কাশন হবে আমরা উপকৃত হবো।
একই গ্রামের অনিল মন্ডল বলেন, খাল আটকা থাকায় আমাদের ধান ও মাছ কোনটাই হচ্ছেনা। বিলে পানি ভরা ঘাসও নেই, গরু-ছাগল পুষতে পারিনা। খাল কাটায় উপকার হবে, জমিতে পানি ওঠানামা করবে, জলাবদ্ধতা থাকবেনা।
আর খুকু মন্ডল বলেন, এক দুইটি খালের বাঁধ কাটা হচ্ছে, সব কাটতে পারবেনা, এখানে টাকা পয়সার খেলা। অনেকদিন ধরেই এসব হয়ে আসছে। এখন কেটে দিয়ে যাচ্ছে দুই একদিনের মধ্যে এতে আবারও বাঁধ দিয়ে দিবে প্রভাবশালীরা।
চাঁদপাই ইউপি চেয়ারম্যান মোল্লা তারিকুল ইসলাম বলেন, খালে বাঁধ থাকায় পানি নামতে না পারায় কালিকাবাড়ী এলাকা জুড়ে সিলেটের মত বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ এলাকার দুইটি খালের বাঁধ কাটায় এ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাবে কয়েক গ্রামের মানুষ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার বলেন, সরকারী খালে যারা বাঁধ দিয়ে রেখেছেন তাদেরকে তা অপসারণে এক মাস আগে চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা তা না করায় আমরা তা কাটতে মাঠে নেমেছি। এখানে কেউকে কোন রকম ছাড় দেয়া হবেনা। সকল বাঁধ অপসারণ করে খাল উম্মুক্ত রাখা হবে।
রামপালে উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এর জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন হুইল চেয়ার চেক বিতরণ
রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা
“বছরব্যাপী ফলের চাষ, অর্থ পুষ্টি দুই ই আসে” এ প্রতিপাদ্যে রামপালে জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় উপজেলার কৃষি অফিস চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এমপি। এ সময় তার সাথে ছিলেন রামপাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কবীর হোসেন, রামপাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ সালাউদ্দিন দিপু, ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল হক লিপন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল, ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন, কৃষি কর্মকর্তা কৃষ্ণা রানী মন্ডল, প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহিদুর রহমান, উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা মো. গোলজার হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহিনুর রহমান, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্লা আ. রউফ, সাবেক গৌরম্ভা ইউপি চেয়ারম্যান গাজী গিয়াস উদ্দিন, সাবেক বাঁশতলী ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, সাবেক উজলকুড় ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আক্তারুজ্জামান, বাঁশতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চু, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির আহমেদ প্রিন্স, ছাত্র লীগের সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান প্রমুখ। পরে কৃষি অফিসে এক আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে আবাসন প্রকল্পের নতুন ঘর পাওয়া ৫৪ জন দুস্তর মাঝে ফলদ বৃৃৃক্ষ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। এর পূর্বে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ৫ জন প্রতিবন্ধীর মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ, ২০ জন দুস্ত অসুস্থ ব্যক্তিকে ৫০ হাজার করে টাকার চেক বিতরণ ও মহিলা বিষয়ক দপ্তর থেকে মৎস্যজীবি গ্রামের দুস্ত মহিলাদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করেন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এমপি।
সিটি মেয়র’র সাথে কেসিআরএ’র নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাত
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের নব নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ বুধবার দুপুর ১২ টায় খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এসময় তারা নগর পিতার হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান নেতৃবৃন্দ। সিটি মেয়র এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন- তরুন সমাজের হাত ধরে সাংবাদিকতার মত মহান পেশা আরো সমৃদ্ধ হবে। তিনি নীতি নৈতিকতার মধ্যে থেকে সমাজিক বৈষম্য তুলে ধরার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের নব গঠিত কমিটির সভাপতি সুমন আহমেদ, সহ-সভাপতি শিশির রঞ্জন মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক আহমদ মুসা রঞ্জু, কোষাধ্যক্ষ কামরুল হোসেন মনি, দপ্তর সম্পাদক জয়নাল ফরাজী, কার্যনির্বাহী সদস্য সোহাগ দেওয়ান, সাংবাদিক কৌশিক দে, রকিবুল ইসলাম মতি, আতিয়ার রহমান।
দাকোপে মৎস্য দপ্তরের অভিযানে অবৈধ নেটজাল জব্দ
বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধি
খুলনার দাকোপে উপজেলা মৎস্য দপ্তর অভিযান চালিয়ে অবৈধ নেটজাল জব্দ করে পুড়িয়ে বিনষ্ট করেছে। বুধবার সকাল ১০ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত উপজেলার চুনকুড়ি, পশুর এবং ঝপঝপিয়া নদীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ২০ হাজার মিটার অবৈধ নেটজাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত নেটজাল দাকোপ উপজেলা পরিষদ মাঠে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ গালিব মাহমুদ পাশার নির্দেশে তার উপস্থিতিতে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। অবৈধভাবে চিংড়ীপোনা আহরণ বন্ধে মৎস্য সংরক্ষন আইনে পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান। এ সময় মেরিন ফিসারিজ অফিসার বিপুল কুমার দাস, নৌ পুলিশের এ এস আই আবদুল মিন্টু হোসেন, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা বাদল কৃষ্ণ সাহাসহ মৎস্য দপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী এবং নৌ পুলিশের সদস্যরা অভিযানে ছিলেন।
পূবালী ব্যাংক লিমিটেড চিতলমারী উপশাখার উদ্বোধন
খবর বিজ্ঞপ্তি
পূবালী ব্যাংক লিমিটেড চিতলমারী উপশাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান গতকাল ০৬ জুলাই বুধবার সকাল ১১ টায় চিতলমারী বাজারে উপশাখা ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক ও খুলনার অঞ্চল প্রধান মোহাম্মদ আরিফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পূবালী ব্যাংক লিমিটেড এর সম্মানিত সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও খুলনা শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ সালাহ্উদ্দিন, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও শেখপাড়া বাজার, খুলনা শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ শফিকুল ইসলাম ও চিতলমারী থানার অফিসার ইন চার্জ কামরুজ্জামান।
পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও বাগেরহাট শাখার ব্যবস্থাপক কে. এম. রাসেল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পূবালী ব্যাংক লিমিটেড এর প্রিন্সিপাল অফিসার চিতলমারী উপশাখার ব্যবস্থাপক টিটুচ কুমার সাহা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ হাফিজুর রহমান, শেখ নজরুল ইসলাম, কাজী মুফিদুল ইসলাম বাবুল, আনিচুর রহমান প্রমূখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন পূবালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার শেখ আবু শামীম।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, পূবালী ব্যাংক প্রথম বাঙালী মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত সর্ববৃহৎ বেসরকারী বানিজ্যিক ব্যাংক। দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের সহযোগী হিসেবে সুদীর্ঘ ৬৩ বছর যাবত সুনামের সাথে ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে আসছে। সকল প্রকার আধুনিক ও প্রযুক্তিগত সেবা নিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাংকিং সেবা গ্রাহকের দোর গোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে শাখার পাশাপশি উপশাখাসমূহ চালু করছে। পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি দ্রুত প্রসার লাভ করবে। এরই সহযোগী হিসেবে পূবালী ব্যাংক চিতলমারী উপশাখার যাত্রা শুরু হলো। এটা উপশাখা হলেও একটি শাখার মত পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সেবা প্রদান করবে। তিনি সকলকে এ সেবা গ্রহণ করার আহবান জানান।
রাসায়নিক থেকেই বিএম ডিপোর আগুন, যা বলছে তদন্ত কমিটি
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে থাকা রাসায়নিক থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে মনে করছে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের গঠিত তদন্ত কমিটি।
বুধবার বিকালে চট্টগ্রমের বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি বলেছে, বেসরকারি ওই কনটেইনারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মালিকপক্ষ এবং তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো দায় এড়াতে পারে না।
কমিটির প্রতিবেদনে ২০টি সুপারিশ রাখা হয়েছে জানিয়ে কমিটির প্রধান মিজানুর রহমান বলেন, আমরা দুর্ঘটনাস্থলে সরেজমিনে গিয়েছি এবং কারা এর জন্য দায়ী তা নির্ধারণের চেষ্টা করেছি। এটাকেই চূড়ান্ত বলা যাবে না। এ ঘটনায় বৃহত্তর তদন্তও হতে পারে।
তিনি বলেন, ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনার কারণ, দায়-দায়িত্ব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাদের ওপর। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তারা তদন্ত করেছেন।
বিভাগীয় কমিশনার আশরাফ উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, দুর্ঘটনার পর সরকারের নির্দেশে এ তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আমরা এ প্রতিবেদন মন্ত্রীপরিষদ বিভাগে পাঠাবো। সেখান থেকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ হবে।
গত ৪ জুন রাতে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে আগুন লাগার পর একের পর এক বিস্ফোরণে তা ছড়িয়ে পড়ে। ডিপোতে থাকা রাসায়নিকের কারণে ছড়িয়ে পড়া ওই আগুন ৮৬ ঘণ্টা পর বিভিন্ন বাহিনীর চেষ্টায় নেভানো হয়। ওই ঘটনায় এ পর্যন্ত অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন দুই শতাধিক মানুষ।
প্রেস ক্লাবের সামনে শরীরে আগুন দেওয়া গাজী আনিসের দাফন সম্পন্ন
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ।।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যাকারী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি গাজী আনিসুর রহমানের দাফন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার পান্টিতে তার নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার বিকালে প্রেস ক্লাবের সামনে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টার সময় তাকে দগ্ধ অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা যান। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে তাকে দাফন করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে লাশবাহী গাড়িতে আনিসের লাশ তার গ্রামের বাড়ি পান্টিতে পৌঁছানোর পর তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয় রাত ১২টার দিকে।
এ সময় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ মাহমুদ চ্যালেঞ্জ, দলীয় নেতাকর্মী, আনিসের পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
মৃত আনিসের স্ত্রী রুমিনা রহমান স্বপ্না আহাজারি করে বলেন, তার স্বামী হেনোলাক্স কোম্পানিতে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ফেরত না পাওয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকত। সে কারণেই তার স্বামী আত্মহননের পথ বেছে নেয়।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমিন ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির (হেনোলাক্স কোম্পানির) কর্ণধার নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী ফাতেমা আমিন আটক হওয়াতে তিনি ও তার পরিবারের লোকজন খুশি। তাদের টাকা ফেরত পাবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ মে জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি সংবাদ সম্মেলনে হেনোলাক্স নামে একটি কোম্পানির কাছে ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা পাওয়ার দাবি করেছিলেন গাজী আনিস। সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন গাজী আনিস। খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন এন্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করে। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে মারা যান।
খুলনার আযম খান কমার্স কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির কমিটি
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার আযম খান সরকারি কমার্স কলেজের প্রাক্তন ছাত্র সমিতির ৫০ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সর্বসম্মতিক্রমে কমিটির আহবায়ক করা হয়েছেন কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ও কলেজের শিক্ষার্থী প্রফেসর সেলিনা বুলবুলকে এবং সদস্য সচিব করা হয়েছে কলেজের সাবেক ভিপি জামাল উদ্দিন বাচ্চুকে।
৫০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অন্যান্যরা সদস্যরা হলেন এসএম দাউদ আলী, মোকলেসুর রহমান বাবলু, আজমল আহমেদ তপন, এম. এম. এ. সালাম, সেকেন্দার জাফর উল্লাহ্ খান সাচ্চু, এস. এম. হারুনার রশিদ, আনোয়ারুল কবির, এস. এম. রবিউল ইসলাম, শফিকুল আলম তুহিন, অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল হক মিন্টু, এ্যাড মোঃ সাইফুল ইসলাম, এ. কে. এম. মঈনুল ইসলাম, অধ্যাপক মোঃ আযম খান, এ্যাড মোঃ গোলাম রসুল গাজী, কমল কৃষ্ণ সাহা, অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুল, মেজর জিল্লুর রহমান, আব্দুল মোতালেব, প্রফেসর শেখ জিয়াউল ইসলাম, রুমা নন্দী, কামরুল করিম বাবু, উল্লাসীনি সরকার, শেখ আসাদুজ্জামান আসাদ, সৈয়দ আয়ুব হোসেন অপু, সিদ্ধার্থ কুমার সাহা, অসিত বরন বিশ্বাস, মুসাম্মৎ শাহানাজ বেগম, চৌধুরী বাশার ওয়াদুদ সুমন, শাহ্ মো. জাকিউর রহমান, আমীর রেজাজ খান, সেলিম আহমেদ, মীর বরকত আলী বরকত, চৌধুরী মিনহাজ উজ-জামান সজল, এম. এ. নাসিম, রবিউল ইসলাম বিপ্লব, অ্যাড. শিব দাস মিত্র, তারক চাঁদ ঢালী, মাসুদুর রহমান, তাহেরা নাসরিন রীনি, এইচ. এম. কাহরিয়ার, এস. এম. নঈমুজ্জামান টগর, ইনামুল হক, রফিকুল ইসলাম, এজাজ আহমেদ, তৌহিদা পারভীন রুমু, জাবির আলী, পার্থ সাহা, আবুল হাসান হিমালয়, সোহেল বিশ্বাস এবং যুগান্তর পত্রিকার খুলনা ব্যুরো রিপোর্টার নূর ইসলাম রকি।
আমার স্বামী ষড়যন্ত্রের শিকার: অধ্যক্ষ স্বপনের স্ত্রী
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস ৩০ বছর ধরে দর্শন বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। যার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কলেজের ছাত্র ও স্থানীয়রা গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করেছে। এ ঘটনার পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে তার বাড়িতে পুলিশ পাহারা।
১৮ জুনের ঘটনার পর থেকে আর বাড়িতে ফেরেননি অধ্যক্ষ। তার স্ত্রী জানিয়েছেন, তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের স্ত্রী সোনালী দাস বলেন, আমার স্বামী ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি ওই কলেজে থাকুক তা অনেকে চান না। ঘটনার সময় কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের জানিয়েছিলেন, আইসিকে (মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ) জানিয়েছিলেন এবং কলেজের অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় অনেকের সহযোগিতা চেয়েছিলেন আমার স্বামী। এরপরও সবার উপস্থিতিতে এত বড় ঘটনা ঘটল। তাকে আপমান-অপদস্থ করা হলো।
তিনি বলেন, তিনি কোথায় আছেন আমরা জানি না। ঘটনার পর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেনি। তার সঙ্গে যোগাযোগ নেই, করাও সম্ভব হচ্ছে না। কারণ তার কাছে কোনো মোবাইল ফোন নেই। অন্যের ফোন দিয়ে কয়েকবার সামান্য কথা হয়েছে। তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আমাদের নিরাপত্তা নিয়েও ভয়ে আছি। আমার স্বামী এ ঘটনার সঙ্গে আদৌ জড়িত নয়। তাকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
ওই কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব রায় ওরফে বাপ্পী রায় নিজের ফেসবুক আইডিতে বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার ছবি দিয়ে পোস্ট করেন- ‘প্রণাম নিও বস ‘নূপুর শর্মা’ জয় শ্রীরাম’। বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে কলেজের কিছু ছাত্র তাকে সেটি মুছে (ডিলিট) ফেলতে বলেন।
এরপর ১৮ জুন সকালে অভিযুক্ত ছাত্র কলেজে আসলে তার সহপাঠীসহ সব মুসলিম ছাত্র তার গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও তাৎক্ষণিক বহিষ্কারের দাবি তুলে অধ্যক্ষের নিকট বিচার দেয়। কিন্তু ওই সময় ‘অধ্যক্ষ একই সম্প্রদায়ের লোক হওয়ায় তাকে রক্ষা করার চেষ্টায় ওই ছাত্রের পক্ষ নিয়েছেন’ এমন কথা রটানো হলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্রের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসেরও গলায় জুতার মালা পরিয়ে দিয়েছিল। তাকে থানায় নেওয়ার পর রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি বলে জানিয়েছেন তার পরিবারের লোকজন।
কুন্দুড়িয়া-বাঁকড়া ব্রিজ ভেঙে গেছে
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার আশাশুনির মরিচ্চাপ নদীর ওপর নির্মিত কুন্দুড়িয়া-বাঁকড়া ব্রিজ ভেঙে পড়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্রিজটির মাঝখানের প্রায় চার থেকে পাঁচ হাত অংশ অনেকটা দেবে যায়। এতে এই ব্রিজ দিয়ে চলাচলে চরম ভোগান্তি ও ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে পথচারীদের।
স্থানীয়রা জানায়, তিন মাস আগে খননের কারণে মরিচ্চাপ নদীর প্রস্থের তুলনায় ব্রীজটির দৈর্ঘ্য কম হয়ে যায়। এতে বেশ কিছু দিন ধরে ব্রিজটি কিছুটা দুর্বল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। এরপরও নবনির্মিত এ ব্রিজের ওপর দিয়ে ছোট-বড়, হালকা ও ভারী সব ধরনের যান চলাচল করছিল।
স্থানীয়রা আরও জানায়, মাঝের অংশ দেবে এবং দুই পাশের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে ব্রিজটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যে কোনো মুহূর্তে সম্পূর্ণ ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, অগভীর ফাউন্ডেশন হওয়ার কারণেই ব্রিজটি ভেঙে পড়েছে। যেখানে নদী রয়েছে ১৮০ ফুট প্রশস্ত, সেখানে মাত্র ৬০ ফুট দৈর্ঘ্যরে ব্রিজ হলে কীভাবে থাকবে। এছাড়া ব্রিজের ফাউন্ডেশন এত উঁচুতে করা হয়েছে, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। এছাড়া স্থানীয় কিছু ছেলে ব্রিজের নিচে খুঁচিয়ে মাটি ও বালি বের করার ফলে এ ঘটনা ঘটেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৫৪ লাখ চার হাজার ৬৫০ টাকা ব্যয় করে বক্স টাইপের এই ব্রিজটি নির্মাণ করেছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাইকগাছার মেসার্স জিএম হাসিব ট্রেডার্স কাজটি বাস্তবায়ন করেছে। পাঁচ বছর পার না হতেই ব্রিজের মাঝ বরাবর অংশ দেবে গেল।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল খায়ের বলেন, নদীর চেয়ে ব্রিজ ছোট হলে সেখানে সেটি টিকে থাকা কঠিন। অগভীর ফাউন্ডেশনের নকশায় ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। অথচ নদী খননের নকশা ব্রিজের তুলনায় অনেক গভীর। যারা ব্রিজটি নির্মাণ করেছেন, তাদের উচিত ছিল এ বিষয়টি মাথায় রেখে কাজ করা। এরপরও আমরা ব্রিজের অনেক দূর থেকে সরু করে খনন করেছি, যাতে ব্রিজটির ক্ষতি না হয়।
কুষ্টিয়া পাসপোর্ট অফিসে ঘুষ ছাড়া আঙুলের ছাপ পড়ে না!
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া পাসপোর্ট অফিস ঘুষের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। আবেদন জমা থেকে শুরু করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট (আঙুলের ছাপা) দিতে গুনতে হচ্ছে টাকা। কোনো ভুল থাকলে টাকার অঙ্ক বেড়ে যায়। তখন সেবাপ্রত্যাশীদের গুনতে হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর এ অর্থ প্রকাশ্যেই আদায় করছেন পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তা, পিয়ন ও আনসার সদস্যরা।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর গ্রামের বাসিন্দা লালন হক। তিনি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন। গত রোববার (৩ জুলাই) ছিল ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার নির্ধারিত দিন। তিনি জানান, লাইনে দাঁড়িয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার রুমে ঢোকার পর কম্পিউটার অপারেটর বলেন, তিনতলায় স্যারের রুমে দেখা করে আসেন। তিনি তিনতলায় সহকারী পরিচালক মুসফিকুর রহমানের কক্ষে যান। সেখানে নানা অজুহাত দেখিয়ে ৫০০ টাকা নেওয়া হয় তাঁর কাছ থেকে।
একই গ্রামের আসাদুল ইসলামের কাছ থেকেও নেওয়া হয় ৫০০ টাকা। এভাবে যাঁরাই এ কক্ষে যাচ্ছেন, তাঁদের কাছ থেকে ৫০০ খেকে ১৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্য। এ দুই যুবক সহকারী পরিচালকের রুমে থাকতেই এক নারী প্রবেশ করেন। তাঁর আবেদনে কিছু ত্রুটি থাকায় পাসপোর্ট হবে না বলে জানান ওই কর্মকর্তা। পরে তাঁর সঙ্গে রফা হয় ৫ হাজার টাকায়।
সরেজমিন পাসপোর্ট অফিস ঘুরে অনিয়ম ও দুর্নীতির এ রকম চিত্র পাওয়া গেছে। পাসপোর্ট অফিসের পিয়ন, আনসার ও দালালের মাধ্যমে আবেদন জমা না দিলে সেই সেবাপ্রত্যাশীকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়। বিশেষ করে যাঁদের পুরোনো পাসপোর্ট আছে, তাঁদের ঠিকানা ও নামের কোনো অংশ যদি পরিবর্তন করতে চান, তাহলে তাঁকে পড়তে হয় হয়রানির মুখে। সব ডকুমেন্ট থাকার পরও নির্ধারিত অর্থ না দিলে আবেদন মাসের পর মাস ফেলে রাখা হয়।
কুষ্টিয়ার একটি পরিবহনের এক কর্মকর্তা জানান, তাঁর ছেলের জন্য গত বছরের শেষ দিকে পাসপোর্টের আবেদন করেন। প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট সরবরাহ করেন কর্মকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী। তার পরও আবেদন ফেলে রেখে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে তিনি কয়েকজনকে দিয়ে তদবির করানোর ৬ মাস পর হাতে পান ছেলের পাসপোর্ট। এ সময় তাঁকে ২০ বার ঘুরতে হয়েছে অফিসে।
হয়রানির শিকার আসাদুল হক বলেন, আমাদের আবদনে সব ঠিকঠাক থাকলেও ফিঙ্গার দিতে যাব, এমন সময় তিনতলায় কর্মকর্তার রুমে পাঠানো হয়। এ সময় সহকারী পরিচালক নিজে আমাদের দু’জনের কাছ থেকে এক হাজার টাকা চেয়ে নেন। আমাদের সামনেই এক নারীর কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে কয়েক হাজার টাকা। এভাবে প্রকাশ্যে সবার কাছ থেকে অফিসের কম্পিউটার অপারেটর থেকে শুরু করে, পিয়ন ও আনসার সদস্যরা জিম্মি করে টাকা আদায় করছেন।
শহরের মজমপুর এলাকার বাড়ি আসাদুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী নিজের ও স্ত্রীর জন্য পাসপোর্টের আবেদন করেন। তাঁর নিজেরটা ২০ দিনের মধ্যে পেলেও স্ত্রীর পাসপোর্টের আবেদনে সমস্যা আছে বলে আটকে রাখেন। পরে ১৫ হাজার টাকা দালালের মাধ্যমে দিলে হাতে পান পাসপোর্ট।
জানা গেছে, প্রতিদিন কুষ্টিয়া পাসপোর্ট অফিসে শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে কিছু আবেদন দালাল ও ভিসা এজেন্টদের মাধ্যমে জমা হয়। তাঁদের মাধ্যমে জমা হওয়া প্রতিটি বইতে নেওয়া হয় এক হাজার ৫০০ টাকা। আর কোনো সমস্যা হলে নেওয়া হয় ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের ভিসা এজেন্টের মালিক জানান, প্রতিদিন তাঁদের মাধ্যমে অফিসে ১০ থেকে ১৫টি আবেদন জমা পড়ে। এ জন্য অফিস তাঁদের কাছ থেকে প্রতিটি আবেদনের জন্য এক হাজার ৫০০ টাকা নেয়।
অর্থ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক মুসফিকুর রহমান দাবি করেন, তিনি কারও কাছ থেকে টাকা নেননি। অভিযোগ সঠিক নয়।
কুষ্টিয়া দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নীল কমল বলেন, ‘আমরা এর আগে দুই দিন অভিযান পরিচালনা করেছি। তারা বুঝতে পেরে পালিয়ে যায়। তাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে অচিরেই তদন্তে নামা হবে।’
খুলনায় ১৩৪ দিন পর করোনা পজিটিভ রোগীর মৃত্যু
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনায় ১৩৪ দিন পর করোনা পজিটিভ একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে বুধবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. সুহাষ রঞ্জন হাওলাদার জানান, মৃত মঞ্জনার বয়স ৬৮ বছর। তার বাড়ি বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলায়।
তিনি জানান, ১৩৪ দিন পর করোনা পজিটিভ রোগীর মৃত্যু হয়েছে খুলনায়। এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি করোনা পজিটিভ একজন রোগী মারা যান।
হাসপাতালে এখন তিনজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে একজন রেড জোনে, একজন আইসিইউতে এবং একজন ইয়েলো জোনে রয়েছেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনায় ৭২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা পরীক্ষা করে ১৪ জনের করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে।
তেলিগাতী নদীতে কুমির, জনমনে আতংক
স্টাফ রিপোর্টার
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার তেলিগাতী নদীতে একটি কুমিরের বিচরণ দেখা দিয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী সাধারণ মানুষ ও জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের জিয়েলতলা বাদুর গাছা গ্রামের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া তেলিগাতি নদীতে মঙ্গলবার বিকেল থেকে ৭-৮ ফুট লম্বা একটি কুমির ভাসতে দেখা যায়। এতে করে ভয়ে কেউ নদীতে নামতে সাহস পাচ্ছেন না।
বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত কুমার বৈদ্য জানান, কুমিরটি দেখতে নদীর পাড়ে মানুষ ভিড় করছে। নদীতে মাছ ধরা ও গোসল না করতে সতর্ক করা হচ্ছে।
৩ বছর ধরে হয় না অস্ত্রোপচার
স্টাফ রিপোর্টার
তিন বছরের বেশি সময় ধরে একটিও অস্ত্রোপচার হয়নি খুলনা ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। অ্যানেস্থেসিস্ট না থাকায় অপারেশনের রোগীদের যেতে হয়ে অন্যান্য হাসপাতালে। দীর্ঘদিন পর একজন অ্যানেস্থেসিস্ট নিয়োগ করা হলেও এখনও তিনি যোগদান করেননি।
এদিকে হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন চলছে ভাড়া করা লোক দিয়ে। আর আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন বন্ধ রয়েছে অপারেটরের অভাবে। শুধু তাই নয়, হাসপাতালের পানি সরবরাহ মোটরটি প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসকরা নিজের পকেটের অর্থ দিয়েই মেরামত করে চালাচ্ছেন। চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংকট অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর মতো ফুলতলাতেও প্রকট।
এত এত সংকটের মধ্যে দিয়েই চলছে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটি।
খুলনা মহানগরী থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে ফুলতলার দামোদর এলাকায় অবস্থিত ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। সড়ক পথে অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর চেয়ে খুব ভালোভাবেই যাতায়াত করা যায় এই উপজেলা হাসপাতালে।
খুলনা-যশোর মহাসড়কের সঙ্গে লাগোয়া হাসপাতালটির পরিবেশ ছিমছাম হলেও ভেতরে বলতে গেলে ফাঁকা। দশ জন জুনিয়র কনসালটেন্ট থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র তিনজন। আর সদ্য বিসিএস শেষ করা চিকিৎসক আছেন ১১ জন। সবমিলিয়ে ১৬ জন চিকিৎসক সেবা দিয়ে চলেছেন প্রায় দুই লাখ জনগণের এই হাসপাতালে।
সরেজমিন হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, হাসপাতালটিতে পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ডে অন্য হাসপাতালের তুলনায় অনেক বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। আউটডোরেও ডাক্তার দেখাতে এসেছেন অনেক রোগী। তবে হাসপাতালে কোনো অপারেশন না হওয়ায় পোস্ট অপারেটিভ কেবিন আর অপারেশন থিয়েটার রয়েছে তালাবদ্ধ। ধার করে চালানো হচ্ছে এক্স-রে মেশিন। দীর্ঘদিনের পুরনো ভবনের অনেক স্থানে ফাটলও রয়েছে। ঝাড়া মোছার লোক না থাকায় ধুলাবালির স্তর প্রায় সবখানেই।
হাসপাতালের সামনের দোকানিরা জানান, হাসপাতালটিতে বছরের পর বছর কোনো অপারেশন হয় না। রোগী এলেই ফেরত দেওয়া হয়। অনেক রোগী দূরে যেতে চায় না। তারা কান্নাকাটি করে। কিন্তু কোনো উপায় থাকে না। অপারেশনের রোগীদের স্থানীয় ক্লিনিক বা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়।
উপজেলার আলকা এলাকার বাসিন্দা তোজাম্মেল হোসেন বলেন, রোগীর অবস্থা একটু বেকায়দা হলেই এখান থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় খুলনায়। সিজার বা অন্য কোনো অপারেশন এখানে শেষ কবে হয়েছে তা বলতে পারে না কেউ। অপারেশন করা লাগবে এমন কোনো রোগী এলেই বাইরে থেকে তাকে বলা হয় অন্য কোথাও যেতে।
হাসপাতালটিতে অনেক কিছুর সংকট রয়েছে স্বীকার করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জেসমিন আরা বলেন, হাসপাতালটি ৫০ শয্যার হলেও জনবল নেই। সেই ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই চলছে সবকিছু। তবে সেটাও ঠিকমতো নেই।
ডা. জেসমিন আরা বলেন, আমি এখানে এসেছি ২০২০ সালে। তার আগে থেকেই এখানে অপারেশন বন্ধ। তবে চলতি জুলাই মাস থেকে একজন অ্যানেসথেসিস্ট এখানে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যিনি সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার এখানে অপারেশনে সহায়তা করবেন। হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন চালু রাখতে একজনকে বাইরে থেকে শিখিয়ে আনা হয়েছে। আর আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন অপারেট করার জন্য লোক চাওয়া হয়েছে। হয়তো চলতি মাসেই মেশিনটি আমরা চালাতে পারবো।
হাসপাতালে লোকবলের তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে এই চিকিৎসক আরও বলেন, এখানে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নেই। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরও সংকট রয়েছে। এক কাজের লোক দিয়ে অন্য কাজ করাতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, এই হাসপাতালে প্রতিদিন ভর্তি রোগীর সংখ্যা গড়ে ৪৫ জন। আর আউটডোরে ৪০০ থেকে ৪৫০ জন রোগীকে সেবা দেওয়া হয়।
পানির বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে অনেক আগের একটা মোটর দিয়ে পানি উত্তোলন করে তা হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়। গত কয়েকদিন আগে মোটরটি অকেজো হয়ে যায়। মেরামত করার জন্য কোনো বরাদ্দ না থাকায় নিজের টাকায় সেটি ঠিক করা হয়।
খুলনার পাইকগাছায় ভাইপোদের হাতে চাচা খুন
স্টাফ রিপোর্টার
জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনিতে ভাইপোদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন চাচা আনছার সরদার (৬৫)।
সোমবার রাতে খুলনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের রেজাকপুর গ্রামের মৃত মান্দার সরদারের ছেলে।
এর আগে রবিবার ভোরে আনছার ফজরের নামাজ পড়তে বাড়ি থেকে বেরিয়ে মসজিদে যাওয়ার সময় আকষ্মিক তার ভাইপো আলতাফ, সিদ্দিকসহ তাদের ভাড়াটিয়ারা তার উপর আক্রমণ করে মারপিট করতে থাকে। এসময় তার আত্মচিৎকারে তার স্ত্রী-কন্যাারা এগিয়ে আসলে তারা তাদেরকেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে দ্রুত নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। এতে তার মেয়ে জরিনা খাতুনের মাথা ফেঁটে যায় এবং স্ত্রীর হাত ভেঙ্গে যায়। এরপর প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে তালা হাসপাতাল ও পরে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর থেকে আনছারের ভাইপো আলতাফ, সিদ্দিকরা পলাতক রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়।
মঙ্গলবার তার ময়নাতদন্ত শেষে সন্ধ্যায় কপিলমুনির রেজাকপুর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
পারিবারিক সূত্র ও এলাকাবাসী জানায়, পাইকগাছার কপিলমুনি ইউনিয়নের রেজাকপুর গ্রামের মৃত মান্দার সরদারের ছেলে আনছার সরদার ও তার ভাই মৃত কওছারের ছেলে আলতাফ ও সিদ্দিক সরদারের সাথে জমিজমার বন্টন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে গোলযোগ চলে আসছিল। এনিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বহুবার শালিসী হলেও কোন সমাধান হয়নি। একপর্যায়ে ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে সর্বশেষ শালিসে আমিন দ্বারা বিবাদমান জমির আইল-সীমাণা নির্ধারণ করে পিলার পুঁতে দেওয়া হয়। ঘটনার আগের দিন সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নিহত আনছার সমুদয় সীমাণা খুঁটিগুলো উঠিয়ে ফেললে সর্বশেষ ঘটনার জন্ম হয়।
স্থানীয়রা জানান, নিহত আনছারের ভাইপোরাও শ্রমজীবি ও সরল প্রকৃতির। পেছন থেকে কেউ তাদেরকে উষ্কানি দিয়ে ঘটনার জন্ম দিয়েছে।
এব্যাপারে বুধবার সকালে পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবিষয়ে কোন অভিযোগ নিয়ে কেউ আসেনি।








































