কেএমপির অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ৩
স্টাফ রিপোর্টার
মহানগর পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানে নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকা হতে ১১০৯ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন নগরীর ১৯/৫ মুসলমানপাড়া ক্রস রোডের মৃত. জামাল উদ্দিন বুলু’র মেয়ে সপ্নীল জাহান সাথী (৩০), ফুলবাড়িগেট মিরেরডাঙ্গা কেডিএ আবাসিক এলাকার মৃত. জয়নুল আবেদীনের ছেলে মো. বাবুল হোসেন ওরফে মেহেদী হাসানওরফে বাবু (৪০) ও খালিশপুর দারুল মোকারম মাদ্রাসা রোডের মো. খলিল হাওলাদার এর ছেলে
মো. সাইফুল হাওলাদার (২৮)।
কেএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, গত ২৪ ঘন্টায় নগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় ১১০৯ পিস ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উল্লেখ যে, মহানগর ডিবি পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতারকৃত আসামী বাবুল হোসেন ওরফে মেহেদী হাসান ওরফে বাবু (৪০) এর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় আরো ৮টি মাদক মামলা রয়েছে।
বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর নেতা খোকন এর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল
খবর বিজ্ঞপ্তি
বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমতিয়াজ আলী খোকন এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার আছর বাদ সংগঠনের সহ-সভাপতি ডা. সৈয়দ মোসাদ্দেক হোসেন বাবলু’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে নগরীর শেরে বাংলা রোডস্থ হাজি বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে খোকন এর কবর জিয়ারত করেন নেতৃবৃন্দ ক্বারী শরিফ মিজানুর রহমানের পরিচালনায়। মাগরিব বাদ মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনায় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি মাজেদা খাতুন, ডা. মো. আব্দুস সালাম ও শেখ হেদায়েত হোসেন হেদু, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এস এম মাহবুবুর রহমান খোকন, যুগ্ম-সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, এম এ জলিল ও জিএম মঈন উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল আহমেদ রাজা, দপ্তর সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম ভুট্রো, শেখ শহিদুল ইসলাম, মো. আব্দুর রাজ্জাক, নারী নেত্রী কবিতা আহমেদ, মো. জিসান, মো. জাহিদুর রহমান, মো. সেলিম মীর, মো. জাবেদ আকতার, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. আলাউদ্দিন, মো. আবু বক্কর, মো. আজমল হোসেন, মো. রকিব আহমেদ এবং মরহুমের ভাই এখলাস উদ্দিন মোহন, বোন কাওসারী জাহান মঞ্জু ও জসিম।
খুলনা ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কমিটিকে মুক্ত বাংলা সংস্থার শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সুমন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আহমদ মুসা রঞ্জুসহ নবনির্বাচিত কমিটির সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন মুক্ত বাংলা সংস্থার নেতৃবৃন্দরা।
নেতৃবৃন্দরা হলেন মুক্ত বাংলা সংস্থার সভাপতি ২৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জেড এ মাহমুদ ডন,
সহ-সভাপতি এম এম ওয়ারিছুল হক পলাশ ও মো. আব্দুল লতিফ সুইট, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরান হাচান মন্টু, যুগ্ম সাধারণ আবুল কালাম আজাদ, কোষাধ্যক্ষ মো. আলি হাসান বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক তালাত মাহমুদ সাগর, দপ্তর সম্পাদক মো. আবুল হাসান, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক দ্বীন মোহাম্মদ, শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক এস এম আনোয়ার হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দ জামিল উদ্দিন বাপ্পা, রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, সাঈদুর রহমান বাবু, রেজাউল আমিন সাবু, আজম আহমেদ, ফরিদ পাঠান, এস এম এরশাদুজ্জামান ডলার প্রমুখ।
কুয়েট শিক্ষার্থীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের একজন শিক্ষার্থী গত ০৩/০৭/২০২২ইং তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক ০১:১৮-২০ মিনিটে ক্যাম্পাসের দূবার বাংলা সংলগ্ন রাস্তায় বিশ^বিদ্যালয়ের কতিপয় শিক্ষার্থী কর্তৃক সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ করে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট হামলার বিচার চেয়ে আবেদন করেছে। উক্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে আগামী ২৫ জুলাই এর মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত করতঃ একটি রিপোর্ট ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয় বরাবর দাখিল করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ০৫ জুলাই অভিযোগকারী শিক্ষার্থী বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন এর সাথে স্বাক্ষাত করেন। এসময়, পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) ও অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্ট হল প্রভোস্ট এবং কিছু শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। স্বাক্ষাতকালে ভাইস-চ্যান্সেলর এ বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট প্রাপ্তি স্বাপেক্ষে বিশ^বিদ্যালয়ের আইনানুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীকে আশ^স্ত করেন। তিনি আরও বলেন, বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীর উপর হামলার মত অনাকাঙ্খিত ঘটনা কোন ভাবেই কাম্য নয় এবং এ সকল অনাকাঙ্খিত ঘটনার তীব্র নিন্দা জানায় বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন।
গাওঘরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতার পুরুস্কার বিতরণ
খবর বিজ্ঞপ্তিঃ
বটিয়াঘাটা উপজেলার গাওঘরা বহুমূখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২ দিন ব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা শেষে গতকাল মঙ্গলবার বিজয়ীদের মাঝে পুরুস্কার বিতরণ করা হয়েছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে পুরুস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও সুরখালী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ এসএম ফরিদ রানা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়াীলীগের সভাপতি মোঃ আশরাফুল আলম খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ হালদার, উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান চঞ্চলা মন্ডল, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নারায়ন চন্দ্র মন্ডল, বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুল ইসলাম ও সুরখালী ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ সরকার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ সাহেব আলী। সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক ও প্রাক্তন ছাত্র ডি,এম মেহেদীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আ’লীগনেতা রুনা লাইলা, ভান্ডারকোর্ট ইউনিয়ন আ’লীগের সদস্য সচিব তারুকুজ্জামান সুমন, সহকারী প্রধান শিক্ষক সোমা বিশ^াস, উপজেলা কৃষকলীগের আহবায়ক শেখ শাহরিয়ার, ইউপি সদস্য রুহুল আমিন মোল্লা, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হাফিজা বেগম, সাবেক মেম্বার বিএম মাসুদ রানা, আ’লীগনেতা লুৎফর রহমান শেখ, রমেশ রায়, নজরুল ইসলাম শেখ, প্রসেন মিস্ত্রী, গোবিন্দর সরদার, বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সদস্য মোঃ মোজাফ্ফর মোল্যা, সহকারী শিক্ষক রুনু গোলদার, এসএম সোবহান, ডিএম মোজাফ্ফার, মৃত্যুঞ্জয় কবিরাজ, দেবদাস মন্ডল, ক্রীড়া শিক্ষক শেখ অহিদুল ইসলাম, আ’লীগনেতা জগত আলী মোড়ল খোকন, আতিয়ার রহমান বিশ^াস, রেজাউল করিম, রফিকুল ইসলাম, অসাবুর হালদার, আরশাব আলী শেখ, আক্কেল ফকির, আনসার শেখ, মাহমুদুল নবী, গোলাম মোস্তফা, মকবুল শেখ, কামরুল ইসলাম, এসএম ইউনুস আলী, ইদ্রিস বিশ^াস, যুবলীগনেতা জিএম জিল্লুর রহমান, সাবেক ছাত্রলীগনেতা বিএম আব্দুল হাই, সাইফুল ইসলাম, সুমন শেখ, বিএম মাহিন, শ্রমিকলীগনেতা রবিউল বিশ্বাস, সরোয়ার শেখ প্রমূখ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সহযোগীতা করবেন বলে আশ^স্ত করেন।
কেসিসির সাথে সম্পৃক্ত এনজিওসমূহের সাথে কর্মসম্পাদন বিষয়ে এক মতবিনিময়
খবর বিজ্ঞপ্তি
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাথে সম্পৃক্ত এনজিওসমূহের সাথে কর্মসম্পাদন বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা মঙ্গলবার দুপুরে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) লস্কার তাজুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিটি মেয়র বলেন, খুলনা মহানগরীকে স্বাস্থ্যসম্মত পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বদ্ধপরিকর। এ জন্য নগরীতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে নিয়োজিত দায়িত্বশীল এনজিওসমূহকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, নগরীর সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে এনজিওসমূহের কাজের সমন্বয় সাধন জরুরী হয়ে পড়েছে। এজন্য এনজিওসমূহের এলাকা ভিত্তিক রুটিন ওয়ার্ক নগর ভবনের যথাযথ কর্তৃপক্ষের বরাবর দাখিল করতে হবে। তিনি পার্টনার এনজিও প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য করে বলেন, সেকেন্ডারি পয়েন্ট ব্যতীত যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলা যাবেনা। একইভাবে মেডিকেল বর্জ্যও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে অপসারণ করতে হবে।
সভায় নগরীর পরিবেশ স্বাস্থ্যকর রাখতে নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কেসিসি’র মেয়র প্যানেলের সদস্য মেমোরী সুফিয়া রহমান শুনু এবং সভা সঞ্চালনা করেন সচিব মোঃ আজমুল হক। অন্যান্যের মধ্যে কেসিসি’র প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল আজিজ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. স্বপন কুমার হালদার, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এস কে এম তাছাদুজ্জামান, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সিয়াম-এর সভাপতি মোঃ আকবর আলী, নির্বাহী পরিচালক অ্যাড. মোঃ মাসুম বিল্লাহ, রূপান্তর-এর প্রোগ্রাম অফিসার কার্তিক চন্দ্র রায়, স্বাদিচ্ছা মানবকল্যাণ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরামর্শক মোঃ দেলোয়ার হোসেন, ক্লানশিপ কর্মসূচি প্রধান এইচ এস এ ইসলাম, ব্রিক-এর নির্বাহী পরিচালক এ এস এম অহিদুল ইসলাম, বনছায়া মহিলা কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক ফজিলাতুন্নেছা, সূর্যের হাসি ক্লিনিক-এর ম্যানেজার মোঃ আনিস উদ্দিন, সিএসএস এর পরিচালক (স্বাস্থ্য) সাজ্জাদুর রহিম পান্থ, বাপসা’র প্রজেক্ট ম্যানেজার মোঃ গোলাম রসুল, মুজগুন্নি আবাসিক এলাকার সভাপতি ডা. এম.এ আলী, ব্রাক-এর জেলা সমন্বয়ক শিপ্রা বিশ্বাস, নিরালা আবাসিক এলাকা কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আবেদ আলী, এস ও এস শিশু পল্লীর সহকারী পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, প্রদীপন-এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী কামাল আহমেদ চৌধুরী, সুশীলন-এর প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ শাহিন ইসলাম, ব্যাংকার্স ওয়েলফেয়ার এ্যাসোশিয়েশনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ হাসমত আলী, এওসেড-এর সহকারী সমন্বয়কারী হেলেন খাতুন, দু:স্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহকারী পরিচালক খাইরুজ্জামান, জেজেএস-এর পরিচালক (প্রোগ্রাম) এস এম চিশতি প্রমুখ সভায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান:২০ প্রতিষ্ঠানকে ৭৪ হাজার পাঁচশত টাকা জরিমানা
তথ্য বিবরনী
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের অধীন খুলনা, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, কুষ্টিয়া, বাগেরহাট, যশোর, এবং মেহেরপুর জেলায় মঙ্গলবার বাজার তদারকি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
তদারকি অভিযানে খুলনা মহানগরীর ০১ টি প্রতিষ্ঠানকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্য তৈরি ও মেয়াদউত্তীর্ণ খাদ্য বিক্রির অভিযোগে ১১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার সদর উপজেলার ০৪ টি প্রতিষ্ঠানকে সাত হাজার পাঁচশত টাকা, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার ০৩ টি প্রতিষ্ঠানকে আট হাজার টাকা, মাগুরা জেলা সদর উপজেলার ০২ টি প্রতিষ্ঠানকে তিন হাজার পাঁচশত টাকা, কুষ্টিয়া জেলা খোকসা উপজেলার ০১ টি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা, বাগেরহাট জেলার সদর উপজেলার ০২ টি প্রতিষ্ঠানকে দুই হাজার পাঁচশত টাকা, যশোর জেলার অভয়নগর উপজেলার ০২ টি প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা এবং মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ০৪ টি প্রতিষ্ঠানকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ ও আদায় করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে ব্যবসায়ী এবং উপস্থিত জনসাধারণের মাঝে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ বিষয়ে লিফলেট ও প্যাম্পলেট বিতরণ করা হয় এবং সকলকে ভোক্তা-অধিকার বিরোধী কার্যাবলী হতে বিরত থাকার অনুরোধ করা হয়।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় পরিচালিত এসব অভিযানকালে জেলা বাজার কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, কনজুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মুদি দোকান থেকে উদ্ধার হওয়া অজগর সাপ সুন্দরবনে ফেরত পাঠিয়েছে বনবিভাগ
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মোংলার গোড়াবুড়বুড়িয়া এলাকার একটি দোকান থেকে অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বনবিভাগ। পরে সেটি বনের অভ্যন্তরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধারা ষ্টেশন কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান মোক্তাদির জানান, সুন্দরবন সংলগ্ন গোড়াবুড়বুড়িয়া গ্রামে ফারুক হাওলাদারের মুদি দোকানের মধ্যে একটি অজগর সাপ দেখতে পেয়ে তারা বনবিভাগকে খবর দেন। খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে ওই সাপটি উদ্ধার করে বনের গহীনে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। সাপটি লম্বায় প্রায় সাড়ে তিন ফুট আর ওজন প্রায় দেড় কেজির মত। এটি বাচ্চা সাপ। তিনি বলেন, এর আগেও এই একই এলাকা থেকে কয়েকটি সাপ উদ্ধার করে তা বনে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।
আটরা গিলাতলা ইউনিয়নে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম উপলক্ষে সমন্বয় কমিটির সভা
ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি
ছবিসহ ভোটার তালিকার হালনাগাদ কার্যক্রম-২০২২ উপলক্ষে আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন সমন্বয় কমিটির সভা গতকাল সকাল ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদ অডিটরিয়মে অনুষ্ঠিত হয়।ফুলতলা উপজেলা নির্বাচন অফিস এ সভা আয়োজন করেন। এই সময় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। ফুলতলা উপজেলা নির্বাচন অফিসার শেখ জাহিদুর রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মনিরুল ইসলাম। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য মোঃ বিল্লাল হোসেন, মোঃ হাফেজ গোলাম মোস্তফা, নবীরুল ইসলাম রাজা, মোঃ লিটন, এস,এম রাসেল, আলহাজ¦ আল আমিন, সরদার গোলাম জিলানী মুন, মোঃ বখতিয়ার সরদার, রাজিয়া বেগম, শাহানাজ বেগম, পায়রা বেগম, সুপারভাইজার মোঃ মোতাহার হোসেন, মোঃ মোশারফ হোসেন, বিধান চন্দ্র নন্দী প্রমুখ । ফুলতলা উপজেলা নির্বাচন অফিসার শেখ জাহিদুর রহমান বলেন গত ২৫ জুন হতে আগামি ১৬ জুলাই -২০২২ পর্যন্ত উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নে বাড়ী বাড়ী গিয়ে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমের সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ১০ জন সুপারভাইজার এবং তথ্য সংগ্রহকারীদের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং পরবর্তিতে প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক পৃথক দিনে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে ছবি তোলা হবে। আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ডের গিলাতলা দক্ষিন পাড়া ও শ্রামগজ্ঞ এলাকার নতুন ভোটাররা আগামি ৪ আগষ্ট আটরা গিলাতলা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ছবি তুলতে পারবেন । এছাড়া আগামি ৮ আগষ্ট আটরা গিলাতলা ইউনিয়নে ছবি তুলতে বাদ পড়ে যাওয়া ৯ টি ওয়ার্ডের নতুন ভোটাররা সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত ছবি তুলতে পারবেন। সমন্বয় সভায় সংশ্লিষ্ট সকলকে এবং যারা নতুন ভোটার তালিকার জন্য তথ্য প্রদান করবেন তাদেরকে অত্যন্ত সচেতনার সহিত সঠিকভাবে সকল তথ্যদাদি তথ্যসংগ্রহকারীকে প্রদান করে নিজের ভোটার তালিকা নির্ভুলভাবে তৈরির ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার জন্য আহবান জানানো হয়।
কাটাখালী হাইওয়ে পুলিশের বিশেষ তৎপরতা শুরু
ফকিরহাট প্রতিনিধি।
বাগেরহাটের কাটাখালী হাইয়ে থানা পুলিশ পবিত্র ইদুল আযহা উপলক্ষে ঈদে ঘরমুখো মানুষ যাহাতে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন তাহার জন্য মহাসড়কে বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছেন। মঙ্গলবার সকাল হতে বিকাল পর্যন্ত পুলিশের একটি ভ্রাম্যমান ট্রিম বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে ঈদে ঘরমুখো মানুষের সুবিধার্থে টহলটি আরো জোরদার করেছেন। হাইওয়ে পুলিশের এই সর্বক্ষনিক তৎপরতার কারনে সড়ক মহাসড়কে সড়ক র্দুঘটনা রোধ, ছিনতাই, ডাকাতী সহ নানা প্রকার অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যাকালাপ না ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকের ধারনা।
জানা গেছে, পবিত্র ঈদে রাজধানি ঢাকা চট্ট্রগ্রাম রাজশাহী সহ দেশের বিভিন্ন শহর থেকে হাজার হাজার ঘরমুখো মানুষ গ্রামের বাড়ীতে ঈদ পালন করতে আসবেন। সে কারনে সড়কে বাড়তি যানবাহনের চাপ থাকবে অনেক গুন বেশি। সেই ঘরমুখো মানুষগুলি যাহাতে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন তাহার জন কাটাখালী হাইয়ে থানা পুলিশ বিশেষ তৎপরতা শুরু করেছেন। তারা ভোর ৬টা হতে সন্ধ্যা ও গভীর রাত পর্যন্ত সড়ক মহাসড়কে বাড়তি অনেকগুলি দায়িত্ব পালন করবেন।
সুত্রে জানা গেছে, তারা মঙ্গলবার শুরুর প্রথম দিনে কাটাখালী বাসস্ট্যান্ড, টাউন নওয়াপাড়া মোড়ল, শুকদাড়া মোড়ল, চুলকাটি বাসস্ট্যান্ড, ভট্টে-বালিয়াঘাটা ব্রীজ, সোনাতুনিয়া, ফয়লা বাসস্ট্যান্ড, ভাগা ও রোনসেন সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় সংলগ্ন এলাকায় তারা অবস্থান নিয়ে টহল জোরদার শুরু করেন। তাদের তৎপরতার কারনে দ্রুতগতি সম্পন্ন যানবাহন গুলি কম গতিতে চলাচল করবে। আর কম গতিতে যানবাহন গুলো চলাচল করলে সড়ক র্দুঘটনা রোধ করা সম্ভাব হবে। শুধু তাই নয়, সড়ক মহাসড়কে চুরি ডাকাতী ছিনতাই সহ নানা প্রকার অসামাজিক ও অনৈতিক কার্যাকালাপ প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে কাটাখালী হাইওয়ে থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) মোহম্মদ আলী এপ্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
কয়রায় পুলিশের অভিযানে ৪ শ কেজি চিংড়ি মাছ আটক
কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধি
কয়রা থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১১ কক্সসেট ভর্তি ৪ শ কেজি অপ্রদব্য মিশ্রিত চিংড়ি মাছ আটক করেছে। জানা গেছে গতকাল ৫ জুলাই দুপুর ১ টার দিকে কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ এবিএম.এস দোহা (বিপিএম) এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে উপজেলার দক্ষিন বেদকাশি ইউনিয়নের চোরামুখা এলাকা থেকে এ সকল মাছ আটক করা হয়। পুলিশের অভিযান জানতে পেরে মাছ শিকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন কয়রা থানার এসআই হাসান, সোহাইল, খলিলুর রহমান সহ পুলিশ সদস্যরা। কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ এবিএম.এস দোহা (বিপিএম) বলেন, এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। অপ্রদব্য মিশ্রিত চিংড়ি মাছ আটকের বিষয় পুলিশ প্রশাসনের টহল কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
নিসচা কেশবপুর উপজেলা শাখার সাথে প্রশাসনের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত
আলমগীর হোসেন, কেশবপুর
নিরাপদ সড়ক চাই কেশবপুর উপজেলা শাখার আহবায়ক জনাব মোঃ হারুনার রশীদ বুলবুল ও সদস্য সচিব মোঃ শরিফুল ইসলাম নেতৃত্বে আজ সকাল ১০ টায় কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব এম এম আরাফাত হোসেন ও কেশবপুর নির্বাহী ম্যাজিট্রেট জনাব আরিফুজ্জামান( সহকারী কমিশনার ভূমি) সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক ঈদের ঘরে ফিরা মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া, সড়কের ট্রাফিক আইন মেনে চলা ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন মহোদয় প্রশাসনিক সব ধরনের সহযোগিতা আশ্বাস দেন। উক্ত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নিরাপদ সড়ক চাই কেশবপুর উপজেলা শাখার সম্মানিত উপদেষ্টা বাবু রমেশ চন্দ্র দত্ত সম্মানিত সদস্য গন জনাব সলিম রেজা,( সাংবাদিক) আব্দুল করিম,(সাংবাদিক) আলমগীর হোসেন, (সাংবাদিক) সুশান্ত কুমার মল্লিক, আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, ইউসুফ আলী, জনাব মোঃ হুমায়ুন কবির, অধ্যক্ষ জনাব মোঃ মইনুল হোসেন, শিক্ষক জনাব মনোতোষ কুমার দাস, মাসুদুর রহমান, ,শাহানাজ পারভীন, মমতাজ বেগম, সালমা খাতুন তহমিনা খাতুন প্রমুখ। আহবায়ক জনাব মোঃ হারুনার রশীদ বুলবুল বলেন ঈদে ঘরে ফিরা মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করবো ইনশাআল্লাহ। সাথে সাথে মাননীয় চেয়ারম্যান জনাব ইলিয়াস কাঞ্চন মহোদয় হাত শক্তিশালি করতে আমরা সড়কে আছি থাকবো ইনশাআল্লাহ।
দাকোপে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জমজমাট বাজুয়ার গরু-ছাগলের হাট
মোঃ শামীম হোসেন- বাজুয়া
খুলনার দাকোপের অন্যতম হাট বাজুয়ার গরু ছাগলের হাট। এই হাটে ধান, চাল, আলু, সরিষা, গম কাঁচা তরিতরকারিসহ অন্যান্য পণ্য পাইকারি খুচরা বিক্রির পাশাপাশি পৃথক পৃথক স্থানে গরু-ছাগলের হাট বসে। ঈদুল আজহা উপলক্ষে গরু-ছাগলের হাট দুটিতে সকাল থেকে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে গরু-ছাগল আসতে থাকে। গরু-ছাগলের পাশাপাশি ক্রেতা-বিক্রেতারা হাটের চারিদিকে কানায়-কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম বেশি বলে ক্রেতারা জানিয়েছেন। তবে এবার গোখাদ্য দাম বেশি। তাই বিক্রেতারা বেশি দাম চাচ্ছেন। বাজুয়ার গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটে সারি সারিভাবে গরু দাঁড়িয়ে আছে। ছোটবড় অসংখ্য গরু। ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে অনেক গরুকে সাজিয়ে এনেছে। গরুর সাইজের উপর নির্ভর করে দাম চাচ্ছে বিক্রেতা। আর ক্রেতারা পছন্দ হলে দরদাম করতে দেখা গেছে। তবে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মধ্যে বেশি গরু বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে ছাগলের হাটে একই রকমের ভিড় দেখা গেছে। তবে মধ্যবিত্ত পরিবাররা ছাগল ও ভেড়া কিনতে বেশি আগ্রহী। ৭ থেকে ১৫ হাজারে মধ্যে বেশি ছাগল কিনতে দেখা গেছে ক্রেতাদের। হাট দুটিতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের অন্যস্থানের ক্রেতাদের সমাগম ছিল লক্ষণীয়। বিক্রেতা আজাদ খান জানান, তিনি ছোটবড় তিনটি গরু নিয়ে এসেছেন। একটা গরু বিক্রি হয়েছে আর দুটা রয়েছে। ক্রেতা যে দাম বলছে তাঁর চেয়ে দশ হাজার টাকা বেশি হলেই বিক্রি করে দিবেন। তবে প্রচুর পরিমাণে গরু হাটে আসায় ক্রেতারা পছন্দের গরু কিনতে দ্বিধায় পড়েছেন। আইনাল, সুপদ, বাবু অনেকের বাড়ির পোষা গরু নিয়ে এসেছেন তবে যে দাম চাচ্ছে সে দাম পাচ্ছেন না। তবে দাম নায্য দাম না পেলে ফেরত নিয়ে যাবেন বলে তাঁরা জানায়। আবার অনেকে অপেক্ষা করছেন কোন ক্রেতা বেশি দাম বললেই বিক্রি করে দিবেন। দাকোপ উপজেলার গরু ব্যবসায়ী জয়দেব জানান। গ্রাম ও বিভিন্ন হাট থেকে ১৫ টি গরু কিনে এই বাজুয়ার হাটে এনেছি। ৩ টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। বাঁকি গরু দুপুরের পর বিক্রি হয়ে যাবে। তবে গরুগুলো বিক্রি করে তিনি ভাল একটা আয় করবেন বলে তিনি জানান।
এদিকে ছাগলের হাটে একই অবস্থা রয়েছে। হাটের স্থানের আশপাশে জায়গায় প্রচুর ছাগল ও ভেড়া এসেছে। দাম নাগালে থাকলেও বিক্রি পরিমাণ কম। তবে ক্রেতারা পছন্দমত ছাগল কিনছে বলে ইজারাদার জানিয়েছেন।
হাট ইজারাদার প্রতিনিধি বাবুরাম সরদার জানান, হাটে প্রচুর গরু পরিমাণে গরু নেমেছে। তবে ক্রেতা খুবই কম। তবে দুপুরের পর বেচা-কেনা বাড়বে বলে তিনি জানান। হাটের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানান, কুরবানীর হাটে গবাদী প্রাণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় মেডিকেল টিম বসানো হয়েছে। দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ উজ্জ্বল দত্ত বলেন হাটে যাতে কোন প্রকার সমস্যার সৃষ্টি না হয় তার জন্য প্রশাসনের কড়া দৃষ্টি রয়েছে।
খুলনা বিএসটিআই’র ১৩টি ভ্রাম্যমান আদালতে ২১টি মামলা
স্টাফ রিপোটার
ওজন ও পরিমাপ কারচুপি,অবৈধ পরিমাপক যন্ত্র ব্যাবহার,উৎপাদিত মোড়কজাত পন্যের মোড়কজাতকরন নিবন্ধন সনদ বিহীন পন্য বাজারজাত করন ও উৎপাদিত পন্যের এসটিআই’র মান সনদ না থাকা এবং অবৈধ মানচিহৃ ব্যাবহার করে ব্যাবসা পরিচালনার দায়ে বিএসটিআই’র সার্ভিল্যান্স টিম ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন ।
এ সময় বিভাগের খুলনা,বাগেরহাট,সাতক্ষীরা,যশোর,কুষ্টিয়া,মাগুরা,নড়াইল.ঝিনাইদহ.চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলায় ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮ লঙ্ঘন করায় জুন মাসে ১৩টি ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ২১টি মামলা ও দুইলক্ষ তিন হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে প্রতিষ্ঠানের সার্ভিল্যান্স টিমের সদস্যরা । এছাড়াও খুলনা বিভাগের ১০টি জেলায় ৩২টি সার্ভিল্যান্স অভিযান পরিচালনা করে ৩টি নিয়মিত মামলা দায়ের করে । এই সকল অভিযানে নেতৃত্বে দেন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস এন্ড টেস্টিং ইন্সটিটিউশন (বিএসটিআই)র খুলনার সহকারী পরিচালক মোঃ মোন্নাফ হোসেন এর নেতৃত্বে পরিদর্শক টিম। বিএসটিআই’র নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসাবে এ সার্ভিল্যান্স অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি ।
কয়রায় প্রানী সম্পদের বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে এ্যাডভোকেসি সভা
কয়রা(খুলনা)প্রতিনিধি
কয়রা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও ওয়ার্ল্ড ভিশন নবযাত্রা প্রকল্পের সহযোগিতায় প্রানী সম্পদের বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে এ্যাডভোকেসি সভা গতকাল ৫ জুলাই সকাল ১০ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। নবযাত্রা প্রকল্পের খুলনা জেলা ম্যানেজার মোঃ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস এম শফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা প্রানী সম্পদ অফিসার ডাঃ মুস্তাইন বিল্যাহ ও বাগালী ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আঃ সামাদ গাজী। নবযাত্রা প্রকল্পের ইকোনমিক মার্কেট সিস্টেম স্পেশিয়ালিস্ট মোঃ মিজানুর রহমানের পরিচালনায় এতে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অধ্যক্ষ অদ্রিশ আদিত্য মন্ডল, প্রধান শিক্ষক এস এম খায়রুল আলম, সাংবাদিক মোঃ রিয়াছাদ আলী, কয়রা বাজার কমিটির সভাপতি সরদার জুলফিকার আলম, প্রানী সম্পদ খামারী আবুল হাসান, কানিজ ফাতিমা,বিলকিস রানী প্রমুখ।
নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী আকাশ ঘোষ রাহুল
নড়াইল প্রতিনিধিঃ
আগামী ২১ জুলাই নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর থেকে প্রচার প্রচাণায় ব্যস্ত সময় পার করছে পদ প্রত্যাশিরা। তাদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী, সমাজসেবী,পরিছন্ন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকাশ ঘোষ রাহুল। তিনি এবার জেলার সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশি। জানা গেছে, প্রয়াত মেয়র ও সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের স্নেহধন্য আকাশ ঘোষ রাহুল। নিবিড় অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি আওয়ামীলীগ পরিবারের সন্তান, মাধ্যমিকেই তিনি পড়ে যান ছাত্রলীগের প্রেমে সেই থেকেই নিজেকে নিয়জিত রেখেছেন দলিয়ো ও সমাজ উন্নয়নের সকল কর্মকান্ডে। বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালীন সময়ে তিনি সর্বোচ্চ দিয়ে ছুটে বেড়িয়েছেন অসহায়-দূস্থ মানুষের ঘরে ঘরে সবসময়ই নিয়েছেন তাদের খোঁজ খবর। পাসে থেকেছেন সকল ছাত্র-ছাত্রির সুখ-দুঃখের সারথি হয়ে। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানায়, আকাশ ঘোষ রাহুল মাদক বিরোধী, অসাম্প্রদায়িক, অসহায় ছাত্রলীগের আছ্রয়স্থল আমরা তাকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পদক পদে দেখতে চাই। প্রার্থীতার বিষয়ে, আকাশ ঘোষ রাহুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করে দলের জন্য কাজ করে চলছি জামায়াত বিএনপির সকল যড়যন্ত্র নাশকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। আমি নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পদক প্রার্থী হয়েছি আমি যদি যোগ্য হই দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে তাহলে আমি জয়ি হব।
কাশিমাড়ীতে লবণ সহিষ্ণু ২০২০ কেজি ধানবীজ বিতরণ
শ্যামনগর প্রতিনিধি
মঙ্গলবার সকালে কাঁঠালবাড়িয়া এ জি মাধ্যমিক বিদ্যারয়ে লিডার্স এর সহযোগিতায় ২০২ জন কৃষকের মাঝে ২০২০ কেজি লবণ সহিষ্ণু ধানবীজ বিতরণ করা হয়েছে।
লিডার্স এর কার্যকরী পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে উক্ত ধান বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কাশিমাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গাজী আনিছুরজামান আনিচ, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কাঁঠালবাড়ি এ জি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আজাহারুল ইসলাম, উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সামছুর রহমান, ইউনিয়ন জলবায়ু সহনশীল ফোরামের সভাপতি মোঃ আঃ বারী প্রমূখ।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব হিসাবে উপকূলীয় এলাকায় লবনাক্ততা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, আবার অনিয়মিত বৃষ্টিপাতের কারনে সেচের পানির স্বল্পতা রয়েছে। এমন বহুবিধ সংকটের মধ্যে কৃষিকে টেকসই করার লক্ষ্যে লিডার্স লবণ ও খরা সহনশীল ধানবীজে ভর্তুকি প্রদান করে কৃষকদের লবণ ও খরা সহনশীল ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছে।
প্রধান অতিথি বলেন, লবণ সহিষ্ণু ধান ও সবজি চাষে আরও কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আগের চেয়ে লবণাক্ততা বেড়েছে। সকলকে এই লবণ সহিষ্ণু ধান বীজ চাষ করার অভ্যাস গড়ে তোলার অনুরোধ করছি।
বাপেক্সের প্রতিনিধিদলের গ্যাস উদগিরণস্থল পরিদর্শন
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
বাপেক্সের একটি প্রাথমিক প্রতিনিধিদল মোংলার চিংড়ি ঘেরে গ্যাসের উদগিরণ সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন । বাপেক্সের নিয়ন্ত্রণাধীন খুলনার সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানী লিঃ এর জিএম (অপারেশন) মোঃ তৌহিদুর রহমান মঙ্গলবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার মিঠাখালী গ্রামের পূর্বপাড়ার দেলোয়ার শেখের চিংড়ি ঘেরের গ্যাস উদগিরণস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সাথে ছিলেন সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানী লিঃ এর ডিজিএম সুজাত আলী। প্রতিনিধিদলের প্রধান তৌহিদুর রহমান বলেন, বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহাদয়ের নির্দেশনায় জরুরী ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে গ্যাস উদগিরণস্থলটি পরিদর্শন করেছি। তাতে এখানে পকেট গ্যাস হিসেবে মনে হচ্ছে। এই মুহুর্তে বলা সম্ভব হচ্ছেনা এটি উপরের নাকি নিচের গ্যাস। আমি ফিরে গিয়ে বাপেক্স কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি প্রতিবেদন আকারে জানাবো। তারপর দুই একদিনের মধ্যে বাপেক্সের জিওলজিকাল বিশেষজ্ঞ দল এসে গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখবেন এটা উপরের নাকি হাইড্রোকার্বন ওয়েলের নিচের গ্যাস। তারপরই পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন বাপেক্স কর্তৃপক্ষ। তিনি আরো বলেন, সরেজমিনে দেখে ও শুনলাম ৫/৬ বছর ধরে যেভাবে গ্যাস উঠছে তাতে এখানে গ্যাসের মজুদের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তাই যেভাবে লাইন টেনে গ্যাসের ব্যবহার করা হচ্ছে তা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ হঠাৎ উদগিরণ বেড়ে গেলে তাতে দুর্ঘটনার আশংকাও রয়েছে। তবে গ্যাস ব্যবহার পদ্ধতি বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
এদিকে গ্যাসের এ উদগিরণ ও তার ব্যবহার দেখার জন্য দূরদূরান্ত থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ সেখানে ভিড় করছেন।
বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৎস্য ঘেরের ২ কর্মচারীর মৃত্যু
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে ভিজা কাপড় শুকাতে দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৎস্য ঘেরের দুই কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার মাড়িয়ালা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মোফাজ্জল হোসেনের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে।
দুই কর্মচারী হলেন- একই উপজেলার শোভনালী ইউনিয়নের বৈকরঝটি গ্রামের গফুর আলী সরদারের ছেলে শামীম বয়স (৩৫ ) ও আশাশুনি সদর ইউনিয়নের শ্রীকলস গ্রামের অজিয়ার গাজীর ছেলে আলম গাজী (২৫)।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গোসল সেরে কাপড় শুকাতে গিয়ে পাশে ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক আউট লাইনের লুজ তারে হাত লাগলে ঘেরের কর্মচারী শামীম হোসেন স্পৃষ্ট হন। তাকে বাঁচাতে গায়ে হাত দিলে আরেক কর্মচারী আলম গাজীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান। খবর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে মরদেহ দুটি উদ্ধার করেন।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থলে তদন্ত কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
মহেশপুর সীমান্তে অনুপ্রবেশের সময় আটক ২০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় ২০ নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করেছে মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) ভোরে মাটিলা বিওপির টহল দলের সদস্যরা সীমান্তের মেইন পিলার ৫২/১৬-আর থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তর থেকে তাদের আটক করেন।
আটকদের মধ্যে পাঁচ পুরুষ, সাত নারী ও আট শিশু রয়েছে। তাদের বাড়ি ফরিদপুর, বরিশাল, ঝিনাইদহ, খুলনা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পরিচালক তসলিম মো. তারেক বলেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপরাধে তাদের আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের অপরাধে মামলা দিয়ে মহেশপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
বেনাপোল সীমান্তে বিদেশি অস্ত্র-গুলি জব্দ
বেনাপোল (যশোর) উপজেলা প্রতিনিধি
যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার সীমান্তবর্তী দৌলতপুর গ্রাম থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় দুটি বিদেশি পিস্তল, ৮ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগজিন জব্দ করেছেন বিজিবির সদস্যরা।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) ভোরে কায়বা বিজিবি ক্যাম্পের টহলদলের সদস্যরা এসব জব্দ করেন। তবে এ সময় কাউকে আটক করা যায়নি।
খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কায়বা ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার লিয়াকত আলী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ভোরে বেনাপোল পোর্ট থানার দৌলতপুর গ্রামে বিশেষ অস্ত্র চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় দৌলতপুর গ্রামের রাস্তার পাশে কলাবাগানে একটি ব্যাগের মধ্য ভেতর থেকে এসব অস্ত্র, গুলি ও ম্যাগজিন জব্দ করা হয়। এগুলো বেনাপোল পোর্ট থানায় জমা দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধারকৃত ৮ প্রজাতির ১৩টি বন্যপ্রাণী সুন্দরবনের করমজলে অবমুক্ত
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের বিভিন্ন জায়গা থেকে জব্দকৃত ৮ প্রজাতির ১৩টি বন্যপ্রাণী সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী ও পর্যটক কেন্দ্রে অবমুক্ত করা হয়েছে। বেশ কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন এলাকার মিনি পার্ক, রিসোর্ট ও ধনী ব্যক্তিদের বাড়ীতে বেআইনিভাবে রাখা এ প্রাণীগুলো জব্দ করে বনবিভাগের বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট। পরে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ প্রাণীগুলো করমজলে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বনবিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ খুলনার পরিদর্শক মোঃ রাজু আহমেদ জানান, বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন জায়গা বেআইনিভাবে আটকে রাখা সুন্দরবনের নানা প্ররজাতির প্রাণী উদ্ধার ও তার সঠিক পরিবেশে ফিরে দেয়ার কাজ করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিন ধরে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের কয়েকটি জায়গা অভিযান চালিয়ে ৮ প্রজাতির ১৩টি বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে ১টি মদনটাক, ৩টি কালিম পাখি, ১টি মাছ মোরাল, ১টি অজগর সাপ, ১টি কেউটে সাপ, ২টি বানর, ১টি মেছো বিড়াল ও ৩টি তক্ষক। এগুলো মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে অবমুক্ত করা হয়েছে। এ সময় করমজলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আজাদ কবিরসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
সুন্দরবনের আত্নসমর্পণকারী বন ও জলদস্যুরা পেলো র্যাবের ঈদ উপহার সামগ্রী
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
সুন্দরবনে আত্নসমর্পণকারী ২৭ টি দস্যু বাহিনীর ২শ ৮৪ জন বন ও জলদস্যুদের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে র্যাব। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০ টায় স্থায়ী বন্দর এলাকায় বনবিভাগের ফুয়েল জেটি চত্বরে তাদেরকে এই কোরবানীর ঈদ উপহার সামগ্রী দেন র্যাব-০৮।
র্যাব-০৮ এর অধিনায়ক ডিআইজি মোঃ জামিল হাসান জানান, গত ২০১৮ সালের ১লা নভেম্বর সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত ঘোষণার পর থেকে পুরো বন ও সাগর জুড়ে এখন শান্তিট সুবাতাস বইছে। আত্নসমর্পণকারী বন ও জলদস্যুরা পুনর্বাসিত হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। এসব দস্যুদের ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সময় ঈদ উপহারসহ খাদ্য সামগ্রী দিয়ে যাচ্ছে র্যাব-০৮।তারই ধারাবাহিকতায় আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে এবারও তাদেরকে ঈদের উপহার স্বরুপ খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। ২৭ টি দস্যু বাহিনীর ২৮৪ জনকে মঙ্গলবার সকালে চাউল, তেল, সেমাই, ঘি, চিনি, দুধ, লবণ, বাদাম, কিসমিস, মসল্লা ও পেঁয়াজসহ তাদের যাতায়াত ভাড়াও দেওয়া হয় বলে জানান ডিআইজি জামিল হাসান। তিনি বলেন, সুন্দরবনে দস্যুরা আত্মসমর্পণ করায় মৌওয়ালী, বাওয়ালী, বনজীবি ও বন্যপ্রাণী সবই এখন নিরাপদে রয়েছে। নির্ভয়ে নির্বিঘ্নে সুন্দরবনে আসছে দর্শনার্থী-পর্যবেক্ষক ও জাহাজ বণিকেরা। এভাবেই সরকারের দূরদর্শিতায় সুন্দরবন কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতার ব্যাপক সম্ভবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে বলেও জানান র্যাব ফোর্সের এই কর্মকর্তা।
দাকোপে নিষিদ্ধ নেটজালে মাছের পোনা নিধনের অভিযোগ
মোঃ জাহিদুর রহমান সোহাগ দাকোপ
খুলনার দাকোপে বিভিন্ন নদ-নদীতে আহরণ করা হচ্ছে গোলদা চিংড়ির রেণু পোনা। বিভিন্ন বয়সের লোক নিষিদ্ধ নেটজাল দিয়ে এ পোনা আহরণ করছেন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কয়েক লক্ষ মিটার নেটজাল জব্দ করলেও থেমে নেই রেণু পোনা আহরণ। ফলে চিংড়ির পোনার সঙে দেশীয় প্রজাতির অন্যান্য মাছের পোনাও বিলুপ্ত হচ্ছে। এদিকে প্রশাসনকে ম্যানেজ করার নাম ভাঙিয়ে আবার এসব জেলেদের কাছ থেকে প্রতি গোনে স্থানীয় একটি চক্র রীতিমত চাঁদাও তুলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিন এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় উপজেলার কাজিবাছা, পশুর, চুনকুড়ি, ঢাকি, কালাবগী ও শিপসাসহ বিভিন্ন নদীতে গোলদা চিংড়ির এ রেণু পোনা আহরণ চলছে। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিষিদ্ধ নেটজাল দিয়ে শিশু নারীসহ বয়ঃবৃদ্ধ লোক প্রকাশ্যে আহরণ করছেন এ পোনা। এতে একটি রেণু পোনা আহরণ করতে গিয়ে প্রায় শতাধিক প্রজাতির মাছের পোনা নিধন হচ্ছে। আর প্রতিদিন এভাবে লাখ লাখ পোনা নিধন হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ বিলুপ্তির পথে। স্থানীয় মৎস্য বিশেষজ্ঞদের এক সমীক্ষায় জানা গেছে, প্রতিটি চিংড়ির রেণু পোনার সঙে অন্য প্রজাতির অন্তত ১২০টি পোনা নিধন হয়। তাদের মতে নেটজাল টেনে তীরে উঠিয়ে বেছে বেছে চিংড়ির রেণু পোনা রেখে অন্য পোনা ফেলে দেয় তীরে যা পরে কাকের খাবারে পরিনত হয়। যুগ যুগ ধরে এমন চিত্র প্রদর্শিত হওয়ায় দেশীয় প্রজাতির অনেক মাছ নেই বললেই চলে। আহরণ করা এসব রেণু পোনা আবার প্রকাশ্যে প্রশাসনের নাকের ডগায় উপজেলা সদর চালনা বাজারসহ বিভিন্ন আড়তে দেদাচ্ছে বেচা কেনাও হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালাবগি এলাকার একাধিক রেণু পোনা আহরণকারীর সঙে আলাপকালে জানান, তারা অনেকেই জানেন যে নিষিদ্ধ নেটজাল দিয়ে রেণু পোনা আহরণ করা সম্পূর্ণ বে-আইনি। তারপরও তাদের অন্য কোন আয় না থাকায় শিবসা নদীতে নেটজাল ধরে বা নদীর তীর দিয়ে টেনে যে রেণু পোনা পায় তা বিক্রি করে সংসার চালান। এসব পোনা প্রতি হাজার ১২০০ টাকা দরে স্থানীয় বিভিন্ন ফড়েদের কাছে তারা বিক্রি করে থাকেন। তবে বর্তমানে পোনা পরিমানে বেশি পাওয়া যাচ্ছে বলে দাম অনেক কমে গেছে বলে জানান। জাল ধরার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথা বলে স্থানীয় একটি চক্র তাদের কাছ থেকে প্রতি অমাবস্যা ও পূর্ণিমার গোনে নেটজাল প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা চাঁদা নিচ্ছেন। জাল ধরা বন্ধ করে দেওয়ার ভয়ে প্রতিবাদও করতে পারেন না বলে তারা জানান।
এবিষয়ে কোষ্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার লুৎফর রহমান বলেন, গত এক মাসে দাকোপ উপজেলার বিভিন্ন এরিয়া থেকে অভিযান চালিয়ে ৪ লক্ষ ৭১ হাজার মিটার নেটজাল জব্দ করা হয়েছে। যা পরে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। আর স্থানীয় যে চক্র প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করছে তাদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম সুলতান জানান, নদীতে নিষিদ্ধ নেটজাল দিয়ে কোন প্রকার মাছ ধরা যাবে না। তাই কম্বিং অভিযানে ৩৮টি মোবাইল কোর্ট ও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে ২ লাখ ৫০ হাজার মিটার নেটজাল, ৩৯টি বেহুন্দিজাল ও ৮৭টি অন্যান্য অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। যা পরে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এছাড়া বিপুল পরিমান মাছের পোনা জব্দের পর নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। আর প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদা তোলা চক্রের বিরুদ্ধে সঠিক তথ্য পেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙে আলোচনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া নেটজালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যহত থাকবে বলে তিনি জানান।
উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান গৌরপদ বাছাড় বলেন, নেটজাল সরকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছেন। প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই নদীতে নেটজাল ধরা বন্দ হচ্ছে না। আর নেটজাল বন্দ করতে পারলে মাছের প্রজনন ব্যাপক ভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মনে করেন।
দাকোপে প্রেসক্লাবের সভায় অপসাংবাদিকতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ
দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি
খুলনার দাকোপ প্রেসক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টায় প্রেসক্লাব ভবনে ক্লাবের সভাপতি মোঃ শিপন ভূইয়ার সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ মোজাফ্ফার হোসেনের পরিচালনায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তৃতা করেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শচীন্দ্রনাথ মন্ডল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজগর হোসেন ছাব্বির, জি এম রেজা, সাবেক আহবায়ক গোবিন্দ বিশ্বাস, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি স্বপন কুমার রায়, ক্লাবের সহ-সভাপতি কুমারেশ বিশ্বাস, যুগ্ম সম্পাদক শামীম হাসান, কোষাধক্ষ্য মনিরুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক জি এম আজম, নির্বাহী সদস্য পারুল বেগম, মজনু ফকির, সাংবাদিক বিধান চন্দ্র ঘোষ, দীপক সরদার, জি এম জাকির হোসেন, দীপক রায়, এস এম মামুনুর রশিদ, জাহিদুর রহমান সোহাগ, গাজী সরোয়ার হোসেন, প্রবির রায় বাপ্পি। সভায় সম্প্রতি দাকোপের বিভিন্ন এলাকায় কথিত সাংবাদিক তথা সংগঠনসহ বিভিন্ন নামে মোবাইলে ভিডিও ধারণ অথবা নিজেদের ফেইজবুক আইডিতে সংবাদ পরিবেশনের ভয় দেখিয়ে নানাভাবে অপসাংবাদিকতা শুরু হওয়ায় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তাদের এ ধরনের অপতৎপরতার কারণে মূল ধারার সাংবাদিকরা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে দাবী করে সভায় বলা হয়, উন্নয়নে অবদান রাখা এবং সকল অনিয়ম দূর্নীতি তুলে ধরতে মূল ধারার সংগঠন হিসাবে প্রেসক্লাব আরো বেশি স্বোচ্ছার ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। পাশা পাশি এ ধরনের অপসাংবাদিকতা প্রতিহত করতে প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আহবান জানানো হয়। সভা শেষে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে থানার নবাগত পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) উজ্জল কুমার দত্তের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এ সময় তিনি আইন শৃংক্ষলা রক্ষা, মাদক ও বাল্য বিবাহ নির্মূলে প্রেসক্লাবের কাছে আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
ডিজিটাল প্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে কর্মশালা
তথ্য বিবরনী
ডিজিটাল প্রযুক্তিতে নারীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দিনব্যাপী আঞ্চলিক কর্মশালা মঙ্গলবার খুলনা সিএসএস আভা সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফিড দ্যা ফিউচার বাংলাদেশ পলিসি লিংক এই কর্মশালার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোঃ হাফিজুর রহমান।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার জিনাত আরা আহমেদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ দপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, সমাজসেবা দপ্তরের উপপরিচালক খান মোতাহার হোসেন, মহিলা বিষয়ক দপ্তরের উপপরিচালক হাসনা হেনা ও জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম। কর্মশালায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. এমএ রফিক সরকার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফিড দ্যা ফিউচার বাংলাদেশ পলিসি খুলনার রিজিওনাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার মোঃ হাসেম আলী আকাশ।
কর্মশালায় অতিথিরা বলেন, সরকারের ১২২টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি রয়েছে, যার অনেকগুলো নারীদেরকে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে। তাঁরা বলেন, নারীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনে তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ দরকার। কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে নারীদের ডিজিটাল প্রযুক্তিতে উৎসাহিত করা যেতে পারে। কারণ মোবাইলেও এখন রেডিও এ্যাপস পাওয়া যায়।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা চারটি গ্রুপে ভাগ হয়ে আধুনিক প্রযুক্তিতে নারীদের কিভাবে সম্পৃক্ত করা যায় তা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। খাদ্য নিরাপত্তায় বীজের ভাল মান এবং সহজলভ্যতা যেমন জরুরি তেমনি নিরাপদ তথা স্বাস্থ্যকর খাবারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণকে আরো এগিয়ে নিতে আধুনিক প্রযুক্তিকে সহজলভ্য করতে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।
কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও নারী উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
পরিবেশ উপমন্ত্রী আজ খুলনা আসছেন
তথ্য বিবরনী
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার ১২ দিনের সফরে আজ ৬ জুলাই খুলনা আসছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী উপমন্ত্রী ৭ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত বাগেরহাট ও খুলনা জেলায় চলমান সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন এবং বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগদান করবেন।
উপমন্ত্রী ১৭ জুলাই সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে খুলনা ত্যাগ করবেন।
বন্যার কারণে দুশ্চিন্তায় খামারিরা: নড়াইলে গবাদিপশুর চাহিদা ২৭,২৮২
নড়াইল প্রতিনিধি
নড়াইলে কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছর বাণিজ্যিকভাবে দেশীয় পদ্ধতিতে গবাদি পশু মোটাতাজা করেন জেলার খামারি ও কৃষক।
নড়াইলে কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছর বাণিজ্যিকভাবে দেশীয় পদ্ধতিতে গবাদি পশু মোটাতাজা করেন জেলার খামারি ও কৃষক। এসব গবাদি পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করা হয়।
গত বছর কুরবানির ঈদে জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্তত ১২ হাজার গরু ও ছাগল বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করেছে কৃষক। এ বছর কুরবানি ঈদে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ৩৮ হাজার পশুর জোগান দেবেন স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা। গত বছর ভারত থেকে নড়াইলে কুরবানির হাটে পশু কম আমদানি করায় দেশি গরুর চাহিদা ছিল বেশি। খামারিরা লাভও করেছিলেন বেশি।
এ বছরও কুরবানিকে সামনে রেখে লাভের আশায় জেলায় কুরবানির চাহিদার তুলনায় ৩৮ হাজার দেশি গরু ও ছাগল মোটাতাজা করেছেন খামারিরা। হঠাৎ দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার প্রায় ৫ হাজার খামারি ও কৃষক। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, পূর্ব থেকে নড়াইলের গরুর খামারিরা কুরবানি ঈদকে সামনে রেখে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করে।
এ বছর জেলার ৪৭৯২ জন খামারি ৬৪৭৪৮ গরু, ছাগল ও ভেড়া মোটাতাজা করেছেন। যার মধ্যে ১৮৪৬৭টি দেশি গরু, ৪৬০৯৬টি ছাগল এবং ১৮৫টি ভেড়া রয়েছে। গত বছরের তুলনায় ২৯৮৯০টি পশু বেশি মোটাতাজা করা হয়েছে। এ বছর তিনটি উপজেলার মধ্যে লোহাগড়া উপজেলায় বেশি পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।
নড়াইল জেলা প্রাণিসম্পদ সূত্রে জানা যায়, এ ঈদে জেলায় কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে সব মিলিয়ে (গরু, ছাগল ও ভেড়া) ২৭২৮২টি। জেলার খামারিরা যে পরিমাণ পশু মোটাতাজা করেছেন, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ৩৭৪৬৬টি পশু বিভিন্ন জেলায় জোগান দিতে পারবেন।
স্থানীয় খামারিরা জানান, গত বছর ভারতীয় গরুর উপস্থিতি স্থানীয় বাজারে কম থাকায় দেশি গরু-ছাগলের চাহিদা ছিল বেশি। খামারি ও কৃষকরা লাভও করেছিলেন বেশি। অনেক খামারি গতবারের তুলনায় এ বছর আরও বেশি গরু ও ছাগল মোটাতাজা করেছেন। নতুন নতুন খামার গড়ে উঠছে।
খামারি ছাড়াও জেলার সাধারণ কৃষকরা বাড়তি আয়ের জন্য বাড়িতে গরু-ছাগল মোটাতাজা করছে। শেষ সময়ে ঈদ মৌসুমে দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে জেলার খামারি ও কৃষক।
কালিয়া উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের খামারি ইমরান শেখ জানান, গত বছর তার খামারে ৭টি গরু ছিল। ঈদের সময় বিক্রি করে ভালো লাভও হয়েছিল। এ বছর তিনি ১০টি গরু মোটাতাজা করেছেন। বন্যার কারণে কুরবানির চাহিদা কমে যাওয়ায় পশুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন কৃষক ও খামারিরা।
খামারি ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলায় মোট যে পশু মোটাতাজা করা হয়, এর ৬০ ভাগ মোটাতাজা করছেন খামারিরা। বাকি ৪০ ভাগ করছেন জেলার সাধারণ কৃষকরা। গরু ব্যবসায়ী আমিনুর বলেন, প্রতিবছর ঈদের সময় নড়াইলের বিভিন্ন হাট থেকে গরু কিনে সিলেট ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতাম। এ বছর সিলেট থেকে কোনো ব্যবসায়ীই যোগাযোগ করেনি। সিলেটের কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ফোন দিলে এ বছর গরু নেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
নড়াইলের তিনটি উপজেলায় মোট ১১টি হাটে গরু বেচাকেনা হয়। ঈদকে সামনে রেখে আরও কয়েক জায়গায় অস্থায়ী গরুর হাট বসে। স্থানীয় গরুর মালিকরা এসব হাটে গরু বিক্রি করেন। ১১টি হাটের মধ্যে ৪টি বড় হাট হলো মাইজপাড়া, লোহাগড়া, শিয়েরবর ও পহরডাঙ্গা গরুর হাট। বর্তমানে এ পেশায় জড়িত রয়েছেন জেলার প্রায় ৪২ হাজার মানুষ। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মারুফ হাসান জানান, ১০-১২ বছর আগে নড়াইলের চাষিরা অল্প পরিসরে গরু মোটাতাজা করতেন।
বর্তমানে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পশু মোটাতাজা করেন চাষিরা। চলতি ঈদ মৌসুমে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ৩৮ হাজার গরু, ছাগল জোগান দেবেন নড়াইলের স্থানীয় কৃষক ও খামারিরা।
নিরাপত্তার অভাবে বাইরে যেতে পারছে না লাঞ্ছিত অধ্যক্ষের তিন কন্যা!
নড়াইল প্রতিনিধি
টিনশেড বাড়ি, চারদিক নীরব, নিস্তব্ধ। বেশ কয়েকবার ‘কেউ আছেন, কেউ আছেন’ বলে উচ্চস্বরে ডাকলেও বারবার বাড়ির ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। কেউ এগিয়ে আসেনি।
কিছুক্ষণ পর একজন বৃদ্ধা মহিলা কাছে এসে পরিচয় জানার পর বাড়ির ওঠানে বসতে দেন। এ বাড়িটিই হচ্ছে স্বপন কুমার বিশ্বাসের। যার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে কলেজের ছাত্র ও স্থানীয়রা গলায় জুতার মালা পরিয়ে লাঞ্ছিত করে। এ ঘটনার পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি।
যদিও সরেজমিন সদর উপজেলার সিঙ্গাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের এ বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় পুলিশ পাহারা বসেছে। তবে ১৮ জুনের ঘটনার পর থেকে আর বাড়িতে ফেরেননি ওই অধ্যক্ষ। তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতার ভুগছেন বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী।
নড়াইল সদরের মির্জাপুর ইউনাইটেড ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস। তিনি প্রায় ৩০ বছর ধরে ওই কলেজে দর্শন বিষয়ে শিক্ষকতা করেন। ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল থেকে তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ১৭ জুন তার বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়।
ওই দিন কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র রাহুল দেব রায় ওরফে বাপ্পী রায় নিজের ফেসবুক আইডিতে বিজেপি নেত্রী নূপুর শর্মার ছবি দিয়ে পোস্ট করেন- ‘প্রণাম নিও বস ‘নূপুর শর্মা’ জয় শ্রীরাম’। বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে কলেজের কিছু ছাত্র তাকে সেটি মুছে (ডিলিট) ফেলতে বলেন।
এরপর ১৮ জুন সকালে অভিযুক্ত ছাত্র কলেজে আসলে তার সহপাঠীসহ সব মুসলিম ছাত্র তার গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি ও তাৎক্ষণিক বহিষ্কারের দাবি তুলে অধ্যক্ষের নিকট বিচার দেয়। কিন্তু ওই সময় ‘অধ্যক্ষ একই সম্প্রদায়ের লোক হওয়ায় তাকে রক্ষা করার চেষ্টায় ওই ছাত্রের পক্ষ নিয়েছেন’ এমন কথা রটানো হলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এ সময় উত্তেজিত জনতা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত ছাত্রের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসেরও গলায় জুতার মালা পরিয়ে দিয়েছিল।
অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের স্ত্রী সোনালী দাস বলেন, ‘আমার স্বামী ষড়যন্ত্রের শিকার, তিনি ওই কলেজে থাকুক তা অনেকে চায় না। ঘটনার সময় কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সদস্যদের জানিয়েছিলেন, আইসিকে (মির্জাপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ) জানিয়েছিলেন এবং কলেজের অন্যান্য শিক্ষকসহ স্থানীয় অনেকের সবার সহযোগিতা চেয়েছিলেন আমার স্বামী (অধ্যক্ষ স্বপন কুমার)। এরপরও সবার উপস্থিতিতেই এত বড় ঘটনা ঘটল, তাকে অপমান অপদস্থ করা হলো।
তিনি আরও বলেন, তিনি কোথায় আছেন আমরা জানি না। ঘটনার পর থেকে তিনি আর বাড়ি ফেরেনি, তার সঙ্গে যোগাযোগ নেই, করাও সম্ভব হচ্ছে না। কারণ তার কাছে কোনো মোবাইল ফোন নেই। অন্যের ফোন দিয়ে কয়েকবার সামান্য কথা হয়েছে। তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিয়েও ভয়ে আছি। আমার স্বামী এ ঘটনার সঙ্গে আদৌ জড়িত নয়। তাকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
একই প্রসঙ্গে স্বপন কুমার বিশ্বাসের মেয়ে শ্যামা রাণী বিশ্বাস বলেন, আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই বললেই চলে। বর্তমানে আমরা খুবই ভয়ে আছি। আমার বাবা এখন কোথায় আছে আমরা সঠিক জানি না। আমাদের তিন বোনেরই পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। আমার মেজো (অধ্যক্ষের ২য় কন্যা) বোন এসএসসি পরীক্ষার্থী। সে প্রাইভেট পড়তে যেতে পারছে না। একই সঙ্গে ছোট বোনেরও পড়াশোনার সমস্যা হচ্ছে। আমার বাবার সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি। অন্যায় না করেও তিনি অপমান অপদস্থ হয়েছেন। আমাদের নিরাপত্তার অভাবে আমরা ঘরের বাইরে যেতে পারছি না।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাসের একটি আবেগঘন পোস্ট ভেসে বেড়াচ্ছে। এতে তিনি বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন- ‘৩০ বছর ধরে আমি এই কলেজে শিক্ষকতা করি। ছাত্ররা আমার প্রাণ, স্থানীয়রাও আমাকে ভালোবাসত। তবু আমার সঙ্গে যা ঘটে গেল, এরপর এই মুখ নিয়ে কী করে আমি কলেজে যাব।’
ওই পোস্টে চূড়ান্ত হেনস্তার বর্ণনা দিয়ে স্বপন কুমার আরও বলেন- ‘পুলিশ আমাকে কলেজ কক্ষ থেকে বের করে আনে। তখন দুই পাশে শত শত পুলিশ ছিল। এর মধ্যেই স্থানীয়রা আমাকে পুলিশের সামনেই জুতার মালা পরিয়ে দিল। আমাকে পুলিশ ভ্যানের কাছে নেওয়ার সময় পেছন থেকে অনেকেই আঘাত করেছে। আমি মাটিতে পড়ে যাওয়ায় পায়ের কিছু জায়গায় কেটে যায়। তখন অনুভব করি পেছন থেকে কেউ আমার মাথায় আঘাত করছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, প্রকৃতপক্ষে মাসখানেক আগে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে পাঁচজন কর্মচারী নিয়োগের চেষ্টা চালায় ওই কলেজের প্রভাবশালী একটি চক্র। এতে বাধা দেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার বিশ্বাস। এরপর থেকেই চক্রটির তোপের মুখে আছেন তিনি।
ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত তনুজিৎ বাঁচতে চায়
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
মেধাবী ছাত্র তনুজিৎ রায়। যশোরের অভয়নগরের ঐতিহ্যবাহী নওয়াপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান বিভাগে নবম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে সে। ছোট্ট বয়সেই শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি ক্যান্সার। বর্তমানে সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন।
তনুজিতের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। কিন্তু তার পরিবারের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়। অভয়নগরের নওয়াপাড়া শহরে ছোট্ট একটি সেলুনে চুল কাটার কাজ করেন তার বাবা বিশ্বজিৎ রায়। তার আয়েই পুরো সংসার চলে।
তনুজিতের বাবা বিশ্বজিৎ রায় বলেন, আমার একমাত্র ছেলে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছে। ওর চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকার প্রয়োজন। বর্তমানে সে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন আছে।
তিনি বলেন, নিজের সংসার ঠিকমতো চালাতে পারি না, ছেলের চিকিৎসা কী করে করব, ভেবে কূল পাই না।
নওয়াপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন জানান, অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী তনুজিৎ রায়। তার অসুখের কথা শুনে আমরা ভীষণ চিন্তিত।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি ছেলেটির কথা শুনেছি। বর্তমানে স্কুলে ছুটি চলছে। স্কুল খুললে দেখব কী করা যায়।
সন্তানের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসীদের কাছে সাহায্যের অনুরোধ জানিয়েছেন বিশ্বজিৎ রায়। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা- অগ্রণী ব্যাংক, নওয়াপাড়া শাখা, হিসাব নং-০২০০০০২১৯১৬২৭।
দাকোপে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফলজ বৃক্ষ রোপন
বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধি
খুলনার দাকোপে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষ রোপন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফলজ বৃক্ষ রোপন। জানা যায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দাকোপ উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপন অনুষ্ঠিত হয়। বৃক্ষ রোপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খুলনা – ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ননীগোপাল মন্ডল, দাকোপ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অসিত বরন সাহা, সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় মোড়ল, সদস্য অতিন মন্ডল, সমর বিশ্বাস, মাখন চক্রবর্তী, প্রফুল্ল রায় ও অনুপ বাঘচী প্রমুখ।
দাকোপে পুলিশের অভিযানে মাদকসহ আটক- ৫ জন
বাজুয়া (দাকোপ) প্রতিনিধি
খুলনার দাকোপে পুলিশের অভিযানে মাদকসহ আটক- ৫ জন। পুলিশ সূত্রে জানা যায় খুলনা জেলাধীন দাকোপ থানার অফিসার ইনচার্জ উজ্জল কুমার দত্তর নির্দেশে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে এসআই (নিঃ) এসআই মল্লিক আব্দুল হালিম, এসআই(নিঃ) কাইয়ুম মুন্সী সংগীয় অফিসার ফোর্সের সহায়তায় আসামী ১. মোঃ রফিকুল গাজী (৩৫), পিতা-মৃত কাওছার আলী গাজী সাং-খুটাখালি ২. ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস(তালে) (২৪), পিতা-মৃত দানিয়াল বিশ্বাস, সাং- হরিনটানা, ৩.তৌহিদুর ভূইয়া(২৫), পিতা- শাহাদৎ ভূইয়া,সাং-বাজুয়া, ৪. প্রদীপ মন্ডল(৩৩), পিতা-মৃত অন্ন মন্ডল,সাং-খুটাখালী, ৫। সুকুমার রায়(৪৫), পিতা-মৃত বিজয় কৃষ্ণ রায়, মাতা-শেফালী রায় সাং-তিলডাংগা (চরডাংগা), সর্ব থানা- দাকোপ, জেলা-খুলনাদেরকে দাকোপ থানাধীন ৩নং লাউডোব ইউনয়িনস্থ লাউডোব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর সামনে দক্ষিন পার্শ্বে কাঁচা রাস্তার উপর অবৈধ মাদকদ্রব্য কথিত গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ নিজ হেফাজতে রাখার অপরাধে মোট ১৪৫(পঁয়তাল্লিশ) গ্রাম কথিত মাদক দ্রব্য গাঁজা সহ গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তী বাদীর এজাহারের প্রেক্ষিতে দাকোপ থানায় একটি মাদক মামলা রুজু করা হয়। মঙ্গলবারে সকালে তাদেরকে কড়া পুলিশ প্রহরার মধ্যে দিয়ে জেল হাজ্বতে পাঠানো হয়।
ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ শিল্প হোগল পাতা এখন বিলুপ্তির পথে
খুলনাঞ্চল রিপোর্ট
পটুয়াখালীতে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেওয়া হোগলা পাতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এক সময়ে প্রায় পরিবারের মানুষ হোগল পাতা দিয়ে বিভিন্ন ব্যবহারিক জিনিস পত্র তৈরি করতো। সেগুলো নিজেদের কাজে ব্যবহার করাসহ কেউ কেউ বিক্রি করে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে আধুনিক প্রযুক্তির কারণে এখন সেই হোগল পাতা আর খুঁজে পাওয়া যায় না।
ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ শিল্প হোগল পাতা প্রায় বিলুপ্তির পথে। আগে নদী-নালা, খাল-বিলের পাশে দেখা যেত হোগল পাতা, বাতাস আসলেই যেনো হেলে পরতো একটা আর একটার উপরে। সেই সব দৃশ্যে দেখতেও ভালো লাগতো। এখন আর সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য চোখে পড়ে না। আগেকার দিনের মানুষ হোগল পাতার চাটাই বিছানার নিচে ব্যবহার করতো, চাটাইয়ে করে ধান শুকাতো, নামাজ পড়ার পাটি, বাতাস করার পাখা, হাঁড়ি পাতিলে খাবার ঝুলিয়ে রাখার শিকাসহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করতো। এ কারণে গ্রামের বাড়িতে বাড়িতে হোগল পাতা দিয়ে এই সব জিনিস বোনার প্রচলন ছিল। এক প্রকার বেশ কদর ছিল হোগল পাতার।
কৃষকরা বলেন, এক যুগ আগেও গ্রামের প্রত্যেকের ঘরেই হোগল পাতার কাজকর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকতে মানুষ। দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে মক্তব, মসজিদ, মাদ্রাসা ও বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করতো হোগল পাতার তৈরি চাটাই (পাটি)। বিশেষ করে, গ্রামের সকল পেশার মানুষ খাওয়া, নামাজ ও ঘুমানোর কাজে এর ব্যবহার করতো বেশি। বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় তীব্র গরমে মানুষের হোগলা পাতার হাতপাখা ছিল নিত্য দিনের সঙ্গী। পাতার সরবরাহ কমে যাওয়ায় এখন সে স্থানটি দখল করে নিয়েছে প্লাষ্টিকের তৈরি মাদুর ও পাখা।
গলাচিপা কৃষি অফিসার আরজু আক্তার বলেন, হোগল পাতা প্রাকৃতিকভাবে সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় জন্মে। এটাকে বাণিজ্যিকভাবে কেউ আবাদ করে না। এখন পদ্মা সেতু চালু হয়েছে তাই গ্রামীণ জনগোষ্ঠী এই হোগোলপাতাকে সম্ভাবনাময় একটি শিল্প হিসেবেও বেছে নিতে পারে। গ্রামের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে মেয়েরা চাটাই বুনে বিক্রি করে আর্থিকভাবে সচ্ছল হতে পারে।
কৃষি অফিসার আরজু আক্তার আরও জানান, এটিকে ট্রেনিং এর মাধ্যমে চাষের আওতায় আনা হবে এমন কোনো সিদ্ধান্ত কৃষি অফিস থেকে এখন পর্যন্ত পাইনি। তবে এটি একটি সম্ভাবনাময় শিল্পপ্রতিষ্ঠান হতে পারে বলে জানিয়েছেন।
মোটরসাইকেল চালককে কুপিয়ে হত্যা: বাবা-ছেলে গ্রেফতার
বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৪০) নামের এক মোটরসাইকেল চালককে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফরিদ শেখ (৩৮) ও তার ছেলে আসিফ শেখকে (২০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার খাজুরবাড়িয়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর আগে সোমবার (৪ জুলাই) দুপুরে মোরেলগঞ্জ উপজেলা সদরের প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনে ওই চালককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এসময় নিহত জাহাঙ্গীরের কলেজ পড়ুয়া ছেলে আজিজুর রহমান সাকিব (১৮) গুরুতর আহত হন। সাকিব খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৫ জুলাই) সকালে জাহাঙ্গীরের স্ত্রী ফাতেমা বেগম ফরিদ শেখ ও তার ছেলে আসিফ শেখসহ পাঁচজনকে আসামি করে মোরেলগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
নিহত জাহাঙ্গীর হাওলাদার বারইখালী-নিকারিপাড়া এলাকার মৃত রশিদ হাওলাদারের ছেলে। ঘাতক ফরিদ শেখ একই এলাকার আব্দুল গনি শেখের ছেলে।
মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তদন্ত শাহজাহান আহমেদ বলেন, মোটরসাইকেল চালক জাহাঙ্গীর নিহত হওয়ার পর থেকেই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদদের ধরতে পুলিশের অভিযান শুরু হয়। দুপুরে খাজুরবাড়িয়া গ্রাম থেকে প্রধান দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে প্রেরণ করা হবে।









































