আসাদুজ্জামান ইমন , ঢাকা অফিস:
ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের মামলার ভিত্তিতে রাজধানীতে একজন DDoS আক্রমণকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের নিরবিচ্ছিন্ন সেবাদানের সবচেয়ে প্রধান বাধা DDoS (Distributed Denial-of-Service) অ্যাটাক। DDoS মূলত অনলাইন ভিত্তিক একটি ভার্চুয়াল আক্রমন। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের আইপি টার্গেট করে আক্রমণ করা হয় এবং DDoS অ্যাটাকের মাধ্যমে একই সাথে টেরাবাইট পরিমাণ ট্র্যাফিক সার্ভারে পাঠানো হয়। এই হিউজ পরিমাণ ট্র্যাফিক হ্যান্ডেল করা কোন সাধারণ সার্ভারের পক্ষে সম্ভব নয়। তখন উক্ত সার্ভার হয় স্লো হবে না হয় ক্রাশ করবে। আর এই ধীর গতি অথবা সেবা বন্ধের কারণে সমস্যা হয় সেবাগ্রহীতাদের। বারবার এমন সমস্যা হলে কাস্টমার সেবা প্রদানকারীর সার্ভিস নেয়া বন্ধ করে দেয়। কিছুদিন এভাবে চলতে থাকলে সেবা প্রদানকারী কোম্পানীটি অনেক কাস্টমার হারিয়ে একপর্যায়ে দেউলিয়া হয়ে যায়।

আইপি ধরে ধরে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের নেটওয়ার্ক ব্যস্ত রাখতে চলছে ডিডস আক্রমণ। এর মাধ্যমে অনিবন্ধিত কিছু প্রতিষ্ঠানের যোগ সাজছে নিবন্ধিত ইন্টারনেট সেবাদাতা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছে সাইবার দূর্বৃত্তরা।
ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি’র তত্ত্বাবধানে এমনই একজন দুষ্কৃতিকারী সহযোগীর বিরুদ্ধে ১১ জুন বাড্ডা থানায় একটি মামলা হয়। রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকার ডায়নামিক এনালজিক্স এর সিস্টেম অ্যাডমিন মোঃ জাহিদ মিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলাম (২৪) আটক করা হয়। অভিযোগের সঙ্গে দাখিল করা তথ্য প্রমাণ অনুযায়ী আটক ব্যক্তিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে গ্রেফতার দেখিয়ে আসামীকে গোয়েন্দা হেফাজতে দেয়া হয়েছে বলে জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মোঃ রাজীব।
তিনি জানিয়েছেন, ২০১৮ সালের এই আইনের ১৯, ৩৪ ও ৩৫ ধারায় করা মামলায় অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মামলাটি এখন সাইবার সিকিউরিটি সেলের এসআই ধর্মেন্দু দাস এর অধীনে রয়েছে। তিনি শনিবার আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক শরিফ একজন লাইসেন্সবিহীন আইএসপি ব্যবসায়ী। সে দুইটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লাইন ভাড়া নিয়ে উত্তর বাড্ডা এলকায় ব্যবসা করতো। গ্রাহক কাড়তে ‘হামজা’ নামক এক হ্যাকারের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের আইপিকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ৪ দফা ডিডস আক্রমণ করায়। তবে সে নিজে হ্যাকার নয়।
রবিবার দুপুরে গ্রেফতার কোর্টে হাজির করা হয়। অভিযুক্ত ঘটনার দায় শিকার করেছে জানিয়ে ডিবি’র সাইবার ক্রাইম ইউনিটের উপ-পরিদর্শক ধর্মেন্দু দাস জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ আইএসপিদের নেটওয়ার্ক এ আক্রমণ চালিয়ে চাঁদাবাজির মাধ্যমে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। এ নিয়ে আটক শরিফকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে নিজের ব্যবসা বাড়াতে সে ফেসবুকে হ্যাকারদের সঙ্গে যোগসাজসে ডিডস অ্যাটাক ঘটাচ্ছিলো। ওই হ্যাকারদের ধরতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে এখন আমরা আদালতের কাছে তার রিমান্ড প্রার্থনা করবো।
এদিকে প্রাথমিক ভাবে ‘হামজা’ নামের হ্যাকারের ফেসবুক আইডিটি ফেক বলে জানতে পেরেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে অন্তরালের এই ব্যক্তি/গোষ্ঠীকে সনাক্ত করতে মাঠে নেমেছেন সাইবার নিরাত্তা বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সাইবার দূর্বৃত্তদের পাকরাও করতে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

এ বিষয়ে আইএসপিএবি পরিচালক সাকিফ আহমেদ বলেন, পরিচালক ISP ভাইদের এক যন্ত্রনার নাম DDOS, কিছু চাদাবাজ ISP দের DDOS করে চাঁদাবাজি করে আসছিলো। অনেকে আবার প্রতিযোগী কোম্পানির ক্ষতি করার জন্য টাকা দিয়ে DDOS করিয়ে থাকে। অবশেষে কিছু ভাইদের অক্লান্ত খাটুনির পর এদের একজন কে আমরা ধরতে সক্ষম হইলাম। এর সাথে বিদেশে থাকা আরো অপরাধী শনাক্ত করা গেছে। আশা করি ইন্টারপোল এর সাহায্যে পুরো চক্রকে ধরা যাবে।
অপরদিকে ইন্টারনেট সেবা খাতকে দূর্বৃত্তমুক্ত করতে সদস্যদের পাশে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিচ্ছে আইসপিএবি’র একটি কমিটি। এ নিয়ে আইএসপিএবি মহাসচিব নাজমুল করিম ভূঁইয়া বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডিডস হামলায় আমাদের ব্যবসা করা দায় হয়েছে। ফলে সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে এবার আমরা দেশের ইতিহাসে প্রথম একজনকে গ্রেফতার করাতে সক্ষম হয়েছি। আশা করছি এবার এর পেছনের দুষ্কৃতিকারীরাও বেরিয়ে আসবে। তিনি আরো বলেন, ডিডস অ্যাটাকারদের বিরুদ্ধে আমরা মাঠে আছি এবং থাকবো। এরা ব্যবসায়ীদের শত্রু, দেশের শত্রু তথা সাইবার বিশ্বের শত্রু। এদের এদেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে আমরা সব রকমের পদক্ষেপ নিবো।










































