Home আঞ্চলিক অনিবন্ধিত ধানবীজের দখলে মৌসুমি আমন ধান

অনিবন্ধিত ধানবীজের দখলে মৌসুমি আমন ধান

16

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট।।
সারাদেশে মৌসুমি আমন ধানের বীজ আবাদের বিপরীতে একটি বড় অংশ দখল করে আছে অনিবন্ধিত জাতের ধান। অনিবন্ধিত এ ধান বীজ হিসেবে বিক্রি করে কৃষকের কাছ থেকে ব্যাপক অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু বীজ ব্যবসায়ী।
এই চিত্র মেহেরপুর জেলার, মুজিবনগর, গাংনী, বামন্দীসহ বিভিন্ন বাজারের। দেখা গেছে, অনিবন্ধিত ধানের বীজ প্যাকেটজাত করে বিক্রি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলার বীজ ব্যবসায়ীরা অনলাইনেও এসব জাতের ধান বীজের বিজ্ঞাপন প্রচার করছেন। বীজের দোকানগুলোতে প্রকাশ্যেই সাজিয়ে চলছে বিক্রি। বেশিরভাগ বীজ দোকানীরা অনিবন্ধিত জাতের ধান বীজ বিক্রিতে আগ্রহী।
এদিকে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানীরা ধানের যে জাতগুলো উদ্ভাবন করেন তার প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে জাতীয় বীজ বোর্ড থেকে জাত নিবন্ধন পায়। ধান গবেষণার প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে প্রজনন (ব্রিডার) বীজ নিয়ে বিএডিসি ও বেসরকারি বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (ডিলার) বীজ বর্ধন করে আবাদের জন্য চাষিদের কাছে বিক্রি করে। পর্যায়ক্রমে ভিত্তি, প্রত্যয়িত ও মানঘোষিত বীজ উৎপাদন করে পরবর্তী আবাদের জন্য বিক্রি করে থাকে এসব প্রতিষ্ঠান।

এবিষয়ে কৃষি কর্মকর্তারা জানান, ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতি বছরই মৌসুম ভিত্তিক ধানের ব্রিডার বীজ বা প্রজনন বীজ সরবরাহ করে। ফলে বীজের বিশুদ্ধতা ও অন্যান্য গুণাবলী বজায় থাকে। যার কোনটিই অনিবন্ধিত বীজের ক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণা ধান মাঠে থাকায় ব্লাস্ট, পাতাপোড়া, গোড়াপচা, রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এতে ফলন কমে যাচ্ছে এবং আধুনিক জাতের ধানগুলোতেও এ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, চাষের ক্ষেত্রে প্রথাগত অবস্থা থেকে চাষিদের সরিয়ে আনা সময় সাপেক্ষ। অপরদিকে কর্তৃপক্ষের কোন নজরদারী নেই। ফলে অসাধু বীজ ব্যবসায়ীরা নানা মোড়কে দেদারসে এসব অনিবন্ধিত ধান বীজ বিক্রি করছে কোন বাধা ছাড়াই। বৈষ্ণিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নিয়ন্ত্রিত এই ফসলের অনিবন্ধিত জাত নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। কেননা সময়োপযোগী ও উচ্চফলনশীল নিবন্ধিত জাত দেশেই রয়েছে। আর নিবন্ধিত জাতগুলো আবাদ করা গেলে আমন মৌসুমে মোট উৎপাদনের প্রায় ৩০ ভাগ উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

এবিষয়ে অনিবন্ধিত ধান বীজের আবাদের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ডিরেক্টর (রিসার্চ) ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বলেন, আজ পর্যন্ত ব্রি ১০৮টি জাত উদ্ভাবন করেছে। এ জাতগুলোই বর্তমানে সারা দেশে চাষাবাদ হচ্ছে। দেশের বর্তমান বীজ আইন মোতাবেক নোটিফাইড ফসলের জাত ছাড় করণের একটি বিশেষ পদ্ধতি আছে। তিনি আরও বলেন, ফলন ভালো হলে খোলা পাত্রে বিক্রি করতে পারেন কিন্তু মোড়কজাত করতে পারবে না। মোড়ক জাত করতে হলে অনুমোদিত জাত লাগবে যা জাতীয় বীজ বোর্ড দিয়ে থাকে।

বীজ উৎপাদনকারী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ব্রিডার বীজ থেকে বীজবর্ধন করতে বিনিয়োগ করতে হয়। কিন্তু স্থানীয় এসব জাতের বীজ তৈরিতে তেমন কোন বিনিয়োগ নেই। এক ধরনের অসাধু বীজ ব্যবসায়ী চাষিদের কাছ থেকে খাদ্য হিসেবে ধান কেনেন। এই ধান নির্দিষ্ট সময়ে বীজ হিসেবে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করছেন। প্রত্যয়নবিহীন কোন বীজ প্যাকেটজাত করে বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

বিষয়টি গোচরে আনলে মেহেরপুর জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার প্রমাণিক বলেন, ধানের ফলন বৃদ্ধি ও রোগ বালাই দূর করতে অনিবন্ধিত এসব জাত আবাদ বন্ধ করতেই হবে। অনিবন্ধিত জাতের ধান বীজ হিসেবে বিক্রি বন্ধে অভিযান পরিচালনার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।