স্টাফ রিপোর্টার।।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ), খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) টানাটানিতে বেহাল হয়ে পড়েছে নগরীর শহীদ শেখ আবু নাসের হাসপাতাল বাইপাস লিংক রোড।
সড়কটি সংস্কারে কেডিএ, কেসিসি ও এলজিইডি—এ তিনটি সংস্থার কেউই দায় নিতে চাচ্ছে না। সড়কটির মালিকানাও অস্বীকার করা হচ্ছে। ‘প্রকৃত অভিভাবকের’ অভাবে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে মেরামত না হওয়ায় এলাকাবাসী নিজ খরচে মেরামত করছেন সড়কটির বিভিন্ন অংশ।
নগরীর গোয়ালখালির বাস্তুহারা থেকে সিটি পাইপাস পর্যন্ত ২ কিলোমিটার ৩৭ মিটার সড়কের দুপাশ দিয়ে গড়ে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র বিশেষায়িত শেখ আবু নাসের হাসপাতাল, বিজিবির সেক্টর সদর দপ্তর, নৌবাহিনী ঘাঁটি (বানৌজা তিতুমীর), বিএনএন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, এ্যাংকরেজ স্কুল, নৌবাহিনী ভর্তি কেন্দ্র, নাবিক কলোনি, পুলিশ লাইন, মুজগুন্নী শিশু পার্ক, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রায়েলমহল (অনার্স) কলেজ, নগরস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান।
এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নগরীর বাইরে সহজ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম শেখ আবু নাসের হাসপাতাল বাইপাস লিংক রোড। এছাড়া খালিশপুর, দৌলতপুরসহ নগরীর পশ্চিম পাশের মানুষ নগরীতে প্রবেশ না করেই ওই সড়ক ব্যবহার করে শহরের বাইরে যেতে পারেন। কিন্তু সড়কটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি দীর্ঘদিন। ফলে সড়কটির বর্তমান বেহাল দশা।
সঠিক সময়ে মেরামত না হওয়ায় কোথাও কোথাও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। জনসাধারনের চলাচলেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কিন্তু সড়কটি বছরের পর বছর এভাবে পড়ে থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। এ ব্যাপারে কেডিএ, কেসিসি ও এলজিইডি এই তিনটি সংস্থাই রয়েছে উদাসীন। তারা এখন সড়কটির মালিকানাও অস্বীকার করছেন। ফলে সড়কটি সংস্কার নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংস্কারের অভাবে সড়কটি একদম চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে সড়ক দিয়ে যেতে গেলে গর্তে আটকা পড়ে গাড়ি। অনেক সময় ক্রেন দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি তোলা লাগে। যানবাহন বা পথচারী নিরাপদ চলাচল করতে পরে না। কিন্তু কেডিএ, কেসিসি ও এলজিইডি কোনো প্রতিষ্ঠানই রাস্তাটি সংস্কারে এগিয়ে আসছে না।
যে কারণে কোনো উপায় না পেয়ে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করেছেন। গত ১৫ মে থেকে এ কাজ শুরু হয়েছে।
এলাকাবাসীর মধ্যে স্বেচ্ছাশ্রমে অংশ নেন অবসরপ্রাপ্ত নৌ কর্মকর্তা ও মদিনাবাগ জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি হেমায়েত হোসেন, হাবিবুর রহমান, হোসেন আলী, পুলিশ কর্মকর্তা আবুল কালাম খান, প্রকৌশলী ও স্বেচ্ছাশ্রম কাজের সমন্বয়ক আরিফুর রহমান, ব্যাংক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম (এসপিও), অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শাহাবুদ্দিন, সুলতান খাঁ, মহানগর যুব মহিলা লীগের সদস্য রেশমা বেগম, নাসরিন আক্তার, মামুন গাজী, তবিবুর রহমান, আনোয়ার হোসেন, কাজী শাহীদুল ইসলামসহ আরও অনেকে।
মদিনাবাগ জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি হেমায়েত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, সড়কটি মেরামত করার জন্য কেডিএ-কেসিসির কাছে আমরা একাধিকবার গিয়েছি। কিন্তু তারা আগে সড়কটির মূল মালিকের কাছে যেতে বলেন। অনেকবার গিয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়ে নিজেরা ঝুড়ি-কোদাল তুলে নিয়েছি। কারণ পথটা আমরাই ব্যবহার করি। সমস্যা আমাদের হয়।
তিনি আরও বলেন, সড়কটি যারই হোক তারা যেন দ্রুত এটির মেরামত করেন। কারণ সামনে বর্ষা মৌসুম। এর আগে যদি সড়কটি মেরামত না হয় তাহলে আমাদের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না।
এ বিষয়ে কেডিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (রক্ষণাবেক্ষণ) মুন্তাসির মামুন জানান, নগরীতে অনেক সড়ক রয়েছে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। যা তৈরি করে কেসিসি বা এলজিইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই সড়কগুলো তখন মেরামতের দায়িত্ব সেই সংস্থার ওপর বর্তায়। কিন্তু কিছু কিছু সড়ক রয়েছে যা এখনো কারো কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। সড়কগুলোর মেরামতের জন্য কোনো বরাদ্দও নেই। ফলে নির্মাতা হলেও তার রক্ষণাবেক্ষণ করার অর্থ কেডিএর কাছে নেই।
বাইপাস লিংক সড়কটির বিষয়ে তিনি বলেন, সড়কের এক কিলোমিটার অংশ কেসিসির এবং বাকি এক দশমিক ৩৭ কিলোমিটার এলজিইডির। সড়কটি মেরামতের জন্য সংস্থা দুটিকে কেডিএর পক্ষ থেকে একাধিকবার চিঠি দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
এদিকে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক সম্প্রতি খুলনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নগরীর সড়কগুলোর বিষয়ে বলেন, ‘কেডিএর রাস্তা কেডিএ মেরামত করবে। আমরা কেন এর দায়দায়িত্ব গ্রহণ করবো?’
তিনি আরও বলেন, ‘কেডিএর আয় রয়েছে। সেই আয় দিয়ে তারা কী করে? সড়কগুলো মেরামত করলে তো পারে। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে আয় করে টাকা ব্যাংকে জমা রাখে। সেই টাকা খরচ করতে পারে। কিন্তু তারা তা না করে অন্য সংস্থার ওপর চাপিয়ে দেয়।’
এ বিষয়ে ডুমুরিয়ার এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, এলজিইডির প্রকল্পের ধরনের সঙ্গে এটি মেলে না বলে আমরা এখনো দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।











































