Home আঞ্চলিক নড়াইলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক

নড়াইলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত অর্ধশতাধিক

9

নড়াইল প্রতিনিধি//
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াইলের কালিয়ায় দুই পক্ষে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

শুক্রবার রাতে উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের খড়রিয়া গ্রামের পুল বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনায় ২০ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বরখাস্তকৃত পেড়লী ইউপি চেয়ারম্যান মো. জারজিদ মোল্যা ও ফেরদৌস বিশ্বাস এবং ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান মোল্যা ও খাজা মিনা গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

জারজিদ মোল্যা গ্রুপের জসিম মোল্যার কাছে প্রতিপক্ষ মিনা গ্রুপের রফিকুল মিনার ২০ হাজার টাকা পাওনা ছিল।

শুক্রবার বিকালে ওই পাওনা টাকা চাইতে গেলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

এরই জের ধরে রাতে উভয় গ্রুপের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে খড়রিয়া গ্রামের পুল বাজারে সংঘর্ষে জড়ায়।

এ সময় দুইপক্ষের লোকজন লিটু মোল্যা, ওবায়দুর মীর ও শরিফুল বিশ্বাসসহ অনেকের দোকানে ভাঙচুর করে লুটপাট চালায়।

খবর পেয়ে কালিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করে। এ সময় উল্টো উভয়পক্ষ পুলিশের ওপর হামলা করে।

একপর্যায়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৭ রাউন্ড শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ করে। উভয়পক্ষের হামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, এএসআই গোলাম নবী, কনস্টেবল তুহিন বিশ্বাস ও রাসেল মোল্যা আহত হন।

এছাড়া পুলিশের গুলিতে ও প্রতিপক্ষের হামলায় উজ্জ্বল মোল্যা (৩০), আসিফ মিনা (২০), রনি মিনা (২২), জীবন মোল্যা (২৫), লিঙ্কন (৩২), হুমায়ুন (৪২) ও জসিমসহ (৩০) প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল সদর হাসপাতালে ও স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে লিঙ্কনসহ আহত কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

কালিয়া থানার ওসি শেখ তাসমীম আলম বলেন, এলাকার আধিপত্যকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের দুই গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে গ্রামবাসীকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে উভয়পক্ষ পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে চারজন পুলিশ আহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ ১৭ রাউন্ড শর্টগানের গুলি নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থল থেকে ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।