Home জাতীয় সেপ্টেম্বরে আসছে করোনার টিকা: ভরসা লকডাউনেই

সেপ্টেম্বরে আসছে করোনার টিকা: ভরসা লকডাউনেই

14

খুলনাঞ্চল রিপোর্ট:

করোনাভাইরাসের ভয়ে কাঁপছে গোটা বিশ্ব। সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউনে ভরসা রাখছে সব দেশই। তবে বিজ্ঞানীদের মত, এই ভাইরাসকে আটকানোর একটাই পথ, আর তা হলো টিকা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভিড-১৯-কে মহামারী ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সকলের আগ্রহ বাড়ছে ভ্যাকসিন বা টিকার প্রতি। কারণ, একটা ভ্যাকসিন বা টিকা মানুষকে এই ভয়ঙ্কর ছোঁয়াচে রোগের হাত থেকে বাঁচাতে পারে।

পৃথিবীজুড়ে বিজ্ঞানীরা নিরন্তর গবেষণা করছেন এর প্রতিষেধক আবিষ্কারের। প্রায় ৩৫টি সংস্থা এবং শিক্ষা গবেষণা প্রতিষ্ঠান এই ধরনের টিকা তৈরির জন্য দৌড়ঝাঁপ করছে। এর মধ্যে এমন অন্তত চারটি টিকা রয়েছে যেগুলো ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমটি বস্টনের বায়োটেক ফার্ম মডার্নার প্রোডাক্ট। মার্চ মাসেই প্রথমবারের মতো মানব শরীরে পরীক্ষা চালানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। প্রাণীর ওপর কোন পরীক্ষা না চালিয়েই মানব শরীরে পরীক্ষা চালানো হয়। এদিকে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষক দল টাইম পত্রিকাকে জানিয়েছেন, আগামী চার মাসের মধ্যেই টিকা প্রস্তুত হতে পারে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে মানবদেহে এর পরীক্ষামূলক কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। মানবদেহে করোনার টিকা পরীক্ষার তিনটি ধাপে সফল হলেই তা আক্রান্তের দেহে প্রয়োগ করা হবে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী সারা গিলবার্ট দাবি করেছেন, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যেই কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের টিকা এসে যাবে। গিলবার্ট ও তার দল ইতোমধ্যে টিকা আবিষ্কারের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী।

চীনের ক্যানসিনো বায়োলজিকস ও যুক্তরাষ্ট্রের মর্ডানা থেরাপেউটিকস এর মধ্যেই করোনা টিকার কিনিক্যাল পরীক্ষা চালিয়েছে। অন্যদিকে, এপ্রিলের শেষ নাগাদ মানব শরীরে পরীক্ষা চালানোর আশা করছে অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা।

সবগুলো পরীক্ষা সফল হবে এমন নয়। তবে সফল হলেও সব মিলিয়ে বড় আকারে বাজারে আসতে ২০২১ সালের মাঝামাঝি নাগাদ সময় লেগে যাবে। আবার এটাও মনে রাখতে হবে, বর্তমানে মানব শরীরে চার ধরনের করোনাভাইরাস দেখা যায়। কিন্তু এগুলোর কোনটির টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। অবশ্য, গত মাসেই গিলবার্ট জানিয়েছিলেন যে, ২০২০ সালের শেষের দিকে তিনি করোনাভাইরাস প্রতিরোধী টিকা তৈরি করতে সক্ষম হবেন। সম্প্রতি সারা গিলবার্ট ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টাইমস’-কে জানিয়েছেন, ‘এই ধরনের অন্য যে সব প্রতিষেধক নিয়ে আমরা কাজ করেছি, তার মতোই এই প্রতিষেধক কার্যকর হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। এটা নিছক অনুমান নয়। নানা তথ্য বিশ্লেষণ করে আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, এই প্রতিষেধক ৮০ শতাংশ সফল হবে।’ যদিও কোন নতুন প্রতিষেধক কার্যকর করতে অন্তত ১৮ মাস সময় লাগে বলে মত চিকিৎসকদের একটা বড় অংশের, তবু তিনি এই বিষয়ে নিশ্চিত যে, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এই প্রতিষেধক কার্যকর করতে সক্ষম হবেন। তবে একই সঙ্গে এই ভ্যাকসিনোলজিস্ট জানান, কোন প্রতিষেধকের বিষয়ে কখনই পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায় না। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই হিউম্যান ট্রায়ালের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তা হলে কি এই মহামারীকে এবারে আটকে দেয়া যাবে? বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, সার্স কোভ-২ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার অন্যতম হাতিয়ার অবশ্যই টিকা। মহামারীর বাড়বাড়ন্ত আটকাতে এই মুহূর্তে টিকার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী মহল একমত। কিন্তু এই মুহূর্তে বলা মুশকিল, কবে তা ব্যাপক হারে মানুষের ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব হবে। বিশ্বের বড় বড় গবেষণাগারে অজস্র বিজ্ঞানী টিকা আবিষ্কারের জন্য কাজ করছেন। কিন্তু এখানে একটা বিষয় আছে। কোন রোগীর অসুস্থতা কমাতে যেভাবে ওষুধ প্রয়োগ করা যায়, সেভাবে কিন্তু টিকা প্রয়োগ করা যায় না। কেননা টিকা প্রয়োগ করতে হয় সুস্থ মানুষের ওপর, রোগীকে টিকা দেয়া যায় না। এবারে কোন সুস্থ মানুষের ওপর টিকা প্রয়োগ করতে গেলে খেয়াল রাখতে হবে তার শরীরে যেন বিন্দুমাত্র বিরূপ প্রতিক্রিয়া না হয়। এর জন্য ধাপে ধাপে অনেক এ্যানিম্যাল ট্রায়াল ও অনেক সময় দরকার। কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের একটা নির্দিষ্ট এ্যান্টিজেন পাওয়া গেলে তবেই টিকা সম্পর্কে শেষ কথা বলা যাবে। কিন্তু এখনও সেই এ্যান্টিজেনকে শনাক্ত করা গেছে কি না, সে বিষয়টিও স্বচ্ছ নয়। সুতরাং এই মুহূর্তে টিকার জন্য অপেক্ষা না করে মানুষে মানুষে দূরত্ব বজায় রাখাটা ভাইরাস ঠেকিয়ে রাখার অন্যতম উপায়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ বিল্লাল আলম বলছেন, করোনার মহামারী ঠেকাতে টিকা আবিষ্কার জরুরী। কিন্তু এখনও করোনাভাইরাসের টিকা আবিষ্কৃত হয়নি। কোন কোন দেশে হিউম্যান ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু সব মিলিয়ে সেগুলো চিকিৎসা ব্যবস্থায় আসতে আরও কয়েক মাস সময় লেগে যাবে।

বর্তমান করোনার চিকিৎসায় হাইড্রোক্সিকোরোকুইন ও কোরোকুইনের সঙ্গে এ্যাজিথ্রোমাইসিন ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। এছাড়া ফ্যাভিপিরাভিরও ব্যবহারে বেশ সফলতা পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি বলছেন। তিনি বলেন, ফ্যাভিপিরাভির নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শতভাগ পরামর্শ দেয়নি, কিন্তু প্রায় দুই তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়া যাচ্ছে। ফলে এটা নিয়ে আমরা বেশ আশাবাদী হয়ে উঠছি।

উল্লেখ্য, জাপানের তোয়াহা কোম্পানির এই উপাদানের তৈরি ওষুধের ব্রান্ড নেম এ্যাভিগান। যা এখন বাংলাদেশের বেক্সিমকো ফার্মা, বিকন ফার্মা, এসকেএসসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদন শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী সারা গিলবার্ট ও তার সহযোগীদের আবিষ্কৃত টিকার প্রসঙ্গে ভারতের ক্রিটিক্যাল কেয়ার চিকিৎসক দীপঙ্কর সরকার বলেন, কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসকে জব্দ করতে আমরা সকলেই চাইছি একটা প্রতিষেধক। শোনা যাচ্ছে চীনের উহানের বেশ কিছু মানুষ নাকি সেরে ওঠার পরে আবার আক্রান্ত হয়েছেন। সে ক্ষেত্রে সার্স কোভ-২ করোনাভাইরাসের টিকা তো সোনার পাথরবাটি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সাধারণত কোন নির্দিষ্ট ভাইরাসের সংক্রমণের পর সেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি হয় এ্যান্টিবডির সাহায্যে। কিন্তু সত্যিই যদি দ্বিতীয় বার কেউ আক্রান্ত হন, তা হলে বুঝতে হবে সার্স কোভ-২ করোনাভাইরাস মিউটেশন করেছে। প্রতিষেধক দিয়ে কোন লাভই হবে না। কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসই হোক বা যে কোন ভাইরাল ইনফেকশন, তিনভাবে চিকিৎসা ও প্রতিরোধ করা হয়। এক, টিকা, দুই, এ্যান্টিভাইরাল আর তিন নম্বর হলো প্রতিরোধ। প্রথম দু’টি পদ্ধতি সম্পর্কে এখনও গবেষণা চলছে। হাতে যা আছে সবই পরীক্ষামূলক। তাই তৃতীয় বিষয়টি অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধে গৃহবন্দী থাকাই একমাত্র উপায়। তবে এ কথাও ঠিক, বিশ্বে বিভিন্ন প্রান্তের বিজ্ঞানীরা করোনা প্রতিরোধী টিকা নিয়ে আদাজল খেয়ে গবেষণা করছেন। প্রতিদিনই এ রকম কোন না কোনও খবর আসছে। কিন্তু সম্পূর্ণ হিউম্যান ট্রায়াল না হলে এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে মন্তব্য করা অনুচিত। ব্যাপক হারে টিকা ব্যবহার করার জন্য আরও অনেক বেশি সময় লাগে।

তবে টিকা আবিষ্কারের কাজ এত তাড়াতাড়ি করা সম্ভব হচ্ছে, তার কারণ জানুয়ারীর প্রথম দিকেই চীন এই ভাইরাসের জেনেটিক কোড বিশ্লেষণ করে তা সারা পৃথিবীকে জানিয়ে দিয়েছিল। এই ভাইরাসের বৃদ্ধি কী ভাবে ঘটে, এটি কী ভাবে মানব কোষকে আক্রমণ করে এবং মানুষকে অসুস্থ করে তোলে তা অধ্যয়ন করার সুযোগ করে দেয় তামাম বিশ্বের গবেষণাগারগুলোকে।

তবে এত দ্রুত টিকা তৈরির কাজ শুরু করতে পারার আরও একটি কারণ রয়েছে। সার্স এবং মার্স-পরবর্তীকালে করোনাভাইরাসের প্রোটোটাইপ নিয়ে আগেই গবেষণা শুরু করে দিয়েছিলেন ভ্যাকসিনোলজিস্টরা।

এই করোনাভাইরাস আগে আরও দুটি মহামারী ঘটিয়েছিল, চীনে শুরু হওয়া সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম বা সার্স এবং সৌদি আরবে শুরু হওয়া মিল ইস্ট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম বা মার্স। উভয়ক্ষেত্রেই ভ্যাকসিনগুলোর কাজ শুরু হয়েছিল, কিন্তু পরে তা ঠা-াঘরে চলে যায়। মেরিল্যান্ডের নোভাভ্যাক্স নামে একটি সংস্থা এখন সার্স-সিওভি-২-এর জন্য এই ভ্যাকসিনগুলো পুনরায় গুদাম থেকে বের করে হিউম্যান ট্রায়ালের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে মডার্না কোম্পানি মেরিল্যান্ডের বেথেসডায় ইউএস ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এ্যালার্জি এ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজের সহযোগিতায় তৈরি মার্স ভ্যাকসিনগুলোর হিউম্যান ট্রায়ালে উদ্যোগী হচ্ছে। সমস্ত ভ্যাকসিন একই নীতি মেনে কাজ করে। জীবাণুর কিছু অংশ বা পুরো জীবাণুকেই সাধারণত ইনজেকশন আকারে কম ডোজে শরীরে ঢোকানো হয়, যাতে সেগুলো ব্যবহার করে আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেম ওই জীবাণুর বিরুদ্ধে এ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে। এই এ্যান্টিবডি তৈরির প্রক্রিয়াটি আমাদের ইমিউনিটি সিস্টেম তার স্মৃতিতে ধরে রাখে, যাতে পরে ওই জীবাণুর সত্যিকারের সংক্রমণ হলে শরীর আবার দ্রুত অনেক এ্যান্টিবডি তৈরি করে নিতে পারে।

সাধারণভাবে, জ্যান্ত ভাইরাসকে তাপে বা অন্যভাবে দুর্বল করে অথবা মৃত ভাইরাসের অংশ বা পুরোটাই ভ্যাকসিনের মাধ্যমে শরীরে ঢোকানো হয়। কিন্তু এই পদ্ধতিতে টিকা তৈরির কিছু বাস্তব সমস্যা রয়েছে। জ্যান্ত দুর্বলিকৃত ভাইরাস ভ্যাকসিনের মাধ্যমে শরীরে ঢোকার পর পুনরায় শক্তি অর্জন করে স্বমূর্তি ধারণ করতে পারে। তখন ভ্যাকসিন মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার বদলে শরীরে রোগ তৈরি করার ক্ষমতা ফিরে পেতে পারে। অন্যদিকে, মৃত ভাইরাস দিয়ে তৈরি ভ্যাকসিন আবার কম ডোজে ভাল কাজ করে না, তা ছাড়া ঠিক ঠাক সুরক্ষা পেতে গেলে এ ধরনের টিকা বার বার বুস্টার ডোজে দিয়ে যেতে হয়।

কোভিড ১৯-এর কিছু ভ্যাকসিন প্রকল্প এই প্রথাগত পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করছে। আবার অনেকেই নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। যেমন, নোভাভ্যাক্স ‘রিকম্বিনেন্ট’ প্রযুক্তিতে ভ্যাকসিন তৈরি করছে। সার্স-সিওভি-২ ভাইরাসের পিঠের প্রোটিন স্পাইকগুলোর জেনেটিক কোড বের করে তাকে ব্যাক্টিরিয়াম বা ইস্টের জিনোমের সঙ্গে সেঁটে দেয়া হয়, যাতে ইস্ট বা ব্যাক্টিরিয়াম ওই ভাইরাস প্রোটিনকে ভালভাবে নেড়েচেড়ে নিস্তেজ করে দিতে পারে। এমনকি, আরও নতুন নতুন পদ্ধতিতেও টিকা তৈরির চেষ্টা চলছে। যেমন, প্রোটিনকে বাইপাস করে শুধু জিনগত নির্দেশকে ব্যবহার করেই ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চলছে। মডার্না এবং কিওরভ্যাক নামে বস্টনের আর একটি প্রতিষ্ঠান এখন এই নতুন পদ্ধতিগুলোই অনুসরণ করছে, মেসেঞ্জার আরএনএ থেকে কোভিড ১৯-এর ভ্যাকসিন তৈরি করছে।

সেপির অর্থানুকূল্যে চলা মোট চারটি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রকল্পই এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে কাজ করছে। গত সপ্তাহেই সেপি নোভাভ্যাক্স এবং অক্সফোর্ডের এক ইউনিভার্সিটির যৌথ ভ্যাকসিন প্রকল্পের জন্য সাড়ে চার মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ বরাদ্দ করেছে। কিন্তু তার পরেও হ্যাচেট বলেছেন, ‘ভ্যাকসিনের বিকাশের পথে আমাদের অভিজ্ঞতা হলো, আপনি কোথায় হোঁচট খাবেন তা আগাম অনুমান করতে পারবেন না।’ তাই সব রকম পদ্ধতিতেই চেষ্টা চলছে সমান্তরালভাবে।-খবর জনকন্ঠ