Home জাতীয় নির্বাচন যতোই ঘনিয়ে আসছে, দুই দলেই শরিকদের কদর বাড়ছে

নির্বাচন যতোই ঘনিয়ে আসছে, দুই দলেই শরিকদের কদর বাড়ছে

9

ঢাকা অফিস।।

 

২০২৩-এর শেষ দিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। ওই নির্বাচনে নিজেদের কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখাই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মূল লক্ষ্য। এজন্য দূরে সরিয়ে রাখা জোটের শরিকদের কাছে টানছে দু’দলই। অন্যদিকে দুই দলের বাইরে থাকা ছোট দলগুলোও চাইছে আগামী নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নেতৃত্বাধীন যে কোনো জোটে যুক্ত হতে।

নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক না হলেও বেশ আগে থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে না গেলেও রাজপথে নির্বাচন ও সরকারবিরোধী আন্দোলন জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে বিএনপি। এর অংশ হিসেবে প্রধান দুই দলই নিজ নিজ জোট শরিকদের সঙ্গে দূরত্ব কমানোর জন্য উদ্যোগ নিয়েছে।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের মাধ্যমে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় এলেও আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায় মহাজোট ও ১৪ দল শরিকদের কারও ঠাঁই মেলেনি। এমনকি ওই সময়ই প্রধানমন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতারা ১৪ দল শরিকদের ‘নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর’ কিংবা ‘বিরোধী দলে থেকে’ নিজ নিজ দলীয় কার্যক্রম চালানোর পরামর্শ দেন। পরবর্তী নির্বাচনে শরিকদের নিজ নিজ প্রতীকে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন প্রধানমন্ত্রী। এসব বিষয় ১৪ দল শরিক নেতাদের যেমন ক্ষুব্ধ করে রেখেছিলো, তেমনি গত তিনবারের ধারাবাহিকতায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন জোটগতভাবে হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল।

প্রায় তিন বছর পর গত ১৫ মার্চ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শরিক দলের নেতাদের বৈঠকে একসঙ্গে নির্বাচন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি ওই বৈঠকে সমন্বয়হীনতা দূর করে জোটের কার্যক্রম জোরদারের তাগিদও দেন। এমনকি জোট শরিকদের এখনই আসন সমঝোতাসহ মূল্যায়নের দাবি পূরণের আশ্বাসও দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

এদিকে জোটের শরিক অনেক নেতার কার্যক্রমেও বিএনপি অসন্তুষ্ট ছিল। এর মধ্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চ’ নামে পৃথক প্ল্যাটফর্ম গঠনকে ভালোভাবে নেয়নি বিএনপি। বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির ইসির সংলাপে অংশগ্রহণসহ অন্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেও বিব্রত ছিলেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তবে সম্প্রতি সেসব সন্দেহ দূর করে কল্যাণ পার্টি ও এলডিপিকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে বিএনপি। এর বাইরে তারা বাম ও ইসলামী দলসহ সরকারবিরোধী অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও কাছে টানার চেষ্টা করছে। এ নিয়ে বিএনপি নেতারা কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে নানা আশ্বাসও দিয়েছেন।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘এই সরকারের পতনের পাশাপাশি গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হলে রাজপথের আন্দোলনের বিকল্প নেই। এজন্য সব দলকে এক প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে। বিএনপি বড় দল। তাদেরই এ ঐক্য গড়ার উদ্যোগ নিতে হবে।’

বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে বৃহৎ ঐক্যের বিকল্প নেই। বিএনপি সেই ঐক্য গঠনের চেষ্টা করছে।’