Home কলাম “আসুন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জানি”

“আসুন করোনা ভাইরাস সম্পর্কে জানি”

47

– মো: শাহারিয়ার হাসিব


ভূমিকা:


করোনা ভাইরাস বলতে ভাইরাসের একটি শ্রেণীকে বোঝায় যেগুলি স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং পাখিদেরকে আক্রান্ত করে। মানুষের মধ্যে করোনাভাইরাস শ্বাসনালীর সংক্রমণ ঘটায়। এই সংক্রমণের লক্ষণ মৃদু হতে পারে, অনেকসময় যা সাধারণ সর্দিকাশির ন্যায় মনে হয় , কিছু ক্ষেত্রে তা অন্যান্য মারাত্মক ভাইরাসের জন্য হয়ে থাকে যেমন: সার্স, মার্স এবং কোভিড-১৯। অন্যান্য প্রজাতিতে এই লক্ষণের তারতম্য দেখা যায়। যেমন: মুরগির মধ্যে এটা উর্ধ্ব শ্বাসনালী সংক্রমণ ঘটায়, আবার গরু ও শূকরে এটি ডায়রিয়া সৃষ্টি করে। মানবদেহে সৃষ্ট করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়ানোর মত কোনো টিকা বা অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ আজও আবিষ্কৃত হয়নি।


নামকরণ:


“করোনা ভাইরাস” নামটির উৎপত্তি লাতিন শব্দ করোনা থেকে যার অর্থ “মুকুট” বা “হার”। করোনা শব্দটি নিজে গ্রিক κορώνη শড়ৎṓহē থেকে এসেছে যার অর্থ “মালা” বা “হার”।কারণ দ্বিমাত্রিক সঞ্চালন ইলেকট্রন অণুবীক্ষণ যন্ত্রে ভাইরাসটির আবরণ থেকে গদা-আকৃতির প্রোটিনের কাঁটাগুলির কারণে এটিকে অনেকটা মুকুট বা সৌর করোনার মত দেখায়।


ইতিহাস:


করোনা ভাইরাস ১৯৬০-এর দশকে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। প্রথমদিকে মুরগির মধ্যে সংক্রামক ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস হিসেবে এটি প্রথম দেখা যায়। পরে সাধারণ সর্দি-হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এরকম দুই ধরনের ভাইরাস পাওয়া যায়। মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাস দুটি ‘মনুষ্য করোনাভাইরাস ২২৯ই’ এবং ‘মনুষ্য করোনাভাইরাস ওসি৪৩’ নামে নামকরণ করা হয়।এরপর থেকে বিভিন্ন সময় ভাইরাসটির আরো বেশ কিছু প্রজাতি পাওয়া যায় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০০৩ সালে ‘এসএআরএস-সিওভি’, ২০০৪ সালে ‘এইচসিওভি এনএল৬৩’, ২০০৫ সালে ‘এইচকেইউ১’, ২০১২ সালে ‘এমইআরএস-সিওভি’ এবং সর্বশেষ ২০১৯ সাল চীনে এসএআরএস-সিওভি-২’ পাওয়া যায় (যা বর্তমানে সাধারণত নোভেল করোনা ভাইরাস) নামেই পরিচিত। এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ ভাইরাসের ফলে শ্বাসকষ্টের গুরুতর সংক্রমণ দেখা দেয়।


নোভেল করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব:


২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের একটি প্রজাতির সংক্রামণ দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ভাইরাসটিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ‘২০১৯-এনসিওভি’ নামকরণ করে। ২০২০ সালের ৬ই এপ্রিল পর্যন্ত -এর প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের ২২৪ টিরও বেশি দেশ ও অধীনস্থ অঞ্চলে ১,২৮৮,৫২৫ এরও বেশি ব্যক্তি করোনা ভাইরাস রোগ ২০১৯-এ আক্রান্ত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। এদের মধ্যে ৭০ হাজার জনের বেশী ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে এবং ২ লাখ ৭২ হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছে।


সংক্রমণ:

  • হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে সৃষ্ট পানিকণার মাধ্যমে ।
  • আক্রান্তর ব্যক্তিকে স্পর্শ করে।
  • ভাইরাস আছে এমন কোন বস্তু স্পর্শ করে হাত না ধুয়ে মুখে ,চোখে ও নাকে লাগালে।
  • পশুপাখি বা গবাদিপশুর মাধ্যমে ।

  • করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাথমিক লক্ষণ:
  • জ্বর
  • অবসাদ
  • শুষ্ক কাশি
  • বমি হওয়া
  • শ্বাসকষ্ট
  • গলা ব্যাথা
  • অঙ্গ বিকল হওয়া
  • মাথা ব্যাথা
  • পেটের সমস্যাকিছু রোগীর ক্ষেত্রে উপরোক্ত সকল উপসর্গ দেখা গেলেও জ্বর থাকেনা।

প্রতিরোধ:

  • মাঝে মাঝে সাবান-পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া।
  • হাত না ধুয়ে মুখ , চোখ ও নাক স্পর্শ না করা।
  • হাঁচি দেওয়ার সময় টিস্যু, রুমাল বা হাতের কনুইয়ের ভাজ ব্যবহার করা।
  • হাত মেলানো, আলিঙ্গন ও ঘনিষ্ঠতা পরিহার করা।
  • মাছ-মাংস ও ডিম ভালভাবে রান্না করা।

  • উপসংহার :
    বর্তমানের এই মহামারী ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে আমাদের সবাইকে সতর্ক ও সচেতন হতে হবে। তা নাহলে এ ভাইরাস আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক,সামাজিক ও জাতীয় জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, ইন্টারনেট।

  • (লেখক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এর এমবিবিএস, ৩য় বর্ষের ছাত্র, মোবাইল:০১৯৩২২৬১২০৩)।