Home আঞ্চলিক দিঘলিয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি

দিঘলিয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির আদালতে স্বীকারোক্তি

13

স্টাফ রিপোর্টার।।  

দিঘলিয়া থানাধিন বারাকপুর ইউনিয়নের বারাকপুর গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডে ১১ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণ মামলার আসামি জাহাঙ্গীর শেখ (৫০) আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন। 

বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রিপন কুমার সরকার আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এসময় জাহাঙ্গীরের দেয়া ফৌজধারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মনিরুজ্জামান রেকর্ড করেছেন। এর আগে ধর্ষণ মামলা দায়েরের ৩দিনের মধ্যে দিঘলিয়া থানা পুলিশ আলোচিত ১১ বছরের কিশোরী ধর্ষণ চেষ্টার দায়ে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর গাজী (৫০) কে গ্রেপ্তার করেছে। ১ জানুয়ারি দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদ ভিত্তিতে তাকে জামিরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত ৩০ জানুয়ারি বারাকপুর ইউনিয়নের বারাকপুর গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডে ১১ বছরের এক কিশোরীকে তার প্রতিবেশী ৫০বছর বয়সী জাহাঙ্গীর শেখ ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ঘটনার দিন রাতেই কিশোরীর বাবা থানায় হাজির হয়ে এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ দায়ের করে। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় পরের দিন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত) ২০০৩ এর ৯ (১) ধারায় দিঘলিয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা রুজু হয়। যার নং- ১৩। তাং ৩১/০১/২০২২।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর গাজী পলাতক ছিলো। ১ জানুয়ারি দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে গোপন সংবাদ ভিত্তিতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইন্সপেক্টর (তদন্ত) দিঘলিয়া থানা রিপন কুমার সরকার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ফুলতলা উপজেলার জামিরা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বাদীর স্ত্রী দর্জি এবং কাপড়ের ব্যবসা করার সুবাদে প্রতিবেশী মৃত. মতি শেখের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর শেখ তার স্ত্রীর জন্য বাকিতে কাপড় তৈরি করে। ৩০ জানুয়ারি বকেয়া টাকা পরিশোধের দিন থাকায় সন্ধ্যা আনুমানিক সোয়া ৬টার দিকে বাদীর মেয়েকে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে টাকা আনতে পাঠায়। এ সময় জাহাঙ্গীর তার মেয়েকে টাকা দেয়ার কথা বলে ঘরের ভিতরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে কিশোরীর পরনের কাপড় খুলে ফেলে। ঘটনার সময় জাহাঙ্গীর ছাড়া বাড়িতে কেউ ছিল না। এ সময় কিশোরীর আত্মচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে জাহাঙ্গীর ওই কিশোরীর হাতে পাওনা টাকা দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতিসহ এ ঘটনার বিষয়ে কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করে এবং হুমকি দিয়ে বলে ‘এ বিষয় কাউকে যদি কিছু বলিস তাহলে তোকে মেরে ফেলবো। ঘটনার কিছুক্ষণ পর ওই কিশোরী বাড়িতে এসে বকেয়া টাকা তার মায়ের কাছে দিয়ে ঘটনার বিষয়ে খুলে বললে তারা নিরুপায় হয়ে দিঘলিয়া থানায় জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

দিঘলিয়া থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর মেয়েটিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য পাঠায়।