Home আঞ্চলিক মঞ্জুবিহীন খুলনা বিএনপিতে চলছে ‘গণপদত্যাগ’

মঞ্জুবিহীন খুলনা বিএনপিতে চলছে ‘গণপদত্যাগ’

8

স্টাফ রিপোর্টার।।

নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে অব্যহতি প্রদানের প্রতিবাদে খুলনা বিএনপিতে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) নগর বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতাসহ প্রায় ২০ নেতা-কর্মীর পদত্যাগের মধ্যদিয়ে শুরু হয় পদত্যাগের ধারাবাহিকতা। যা পরদিন রোববার ‘গণ পদত্যাগ’ গিয়ে ঠেকেছে। খুলনা মহানগর বিএনপির নগর, থানা ওয়ার্ড এবং অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও রয়েছেন পদত্যাগের তালিকায়। নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে খবর আসছে পদ ত্যাগের। ইতোমধ্যে খুলনা সদর সোনাডাঙ্গা থালিশপুর থানা, ওলামাদল, জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পদত্যাগ করেছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পদত্যাগের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৯৪৮ জন। এর আগে শনিবার রাতেই নগর বিএনপির সহ-সভাপতি, যুগ্ম-সম্পাদক কোষাধ্যক্ষসহ কয়েকজন ত্যাগী রাজনীতিক পদত্যাগ করেন। যদিও সন্ধ্যায় নগর বিএনপির সাংগঠনিক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নগরীর পাঁচ থানা বিএনপির কমিটি বিলুপ্তি ঘোষণা করেন নবঘোষিত আহবায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দ। এদিকে, রোববার (২৬ ডিসেম্বর) বিএনপি নেতা আরিফুজ্জামান অপু আসাদুজ্জামান মুরাদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে অব্যহতি দেওয়ার প্রতিবাদে খুলনা সদর সোনাডাঙ্গা থানার ১৬টি ওয়ার্ড অঙ্গ সংগঠনের ৫৬১ নেতা-কর্মী পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগকারী নেতারা হলেন, মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির উপদেষ্টা ইস্তিয়াক উদ্দিন লাভলু, জাসাস আহবায়ক মেহেদী হাসান দিপু, মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি, শিল্প বিষয়ক সম্পাদক সাবেক কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দিন বনি, সদর থানা বিএনপির যোগাযোগ সম্পাদক সেলিম বড় মিয়া, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইকবাল হোসেন খোকন, এস এম শাহজাহান, সাদিকুর রহমান সবুজ, শেখ শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি শেখ জামিরুল ইসলাম জামিল, সাধারণ সম্পাদক শেখ মোস্তফা কামাল, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি শেখ ফারুক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সোহাগ, আব্দুল হাকিম, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল আলিম, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি এস আকরাম হোসেন খোকন, সাধারণ সম্পাদক সরদার রবিউল ইসলাম রবি, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন টারজান, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু, সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান আরজু, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিনিয়র সভাপতি শেখ মনিরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ বদরুল আলম বাচ্চু, হেদায়েত হোসেন হেদু, কাজী নজরুল ইসলাম, মীর মোসলেহ উদ্দিন বাবর, সাংগঠনিক সম্পাদকদ্বয় ওহেদুজ্জামান অহিদ, লিটু পাটোয়ারী, তুষার আলম, শেখ মারিফ, মোস্তফা জামাল মিন্টু, মো. হুমায়ুন কবিরসহ ২৫০ নেতাকর্মী। খুলনা সদর থানা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জলিল খান কালাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ কামাল উদ্দিন, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি কাউন্সিলর শমসের আলী মিন্টু, সহসভাপতি ওমর ফারুক ডা. আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির, ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি হাসান মেহেদী রিজভী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক জাকারিয়া লিটন, ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইশহাক তালুকদার,সহসভাপতি মাসুদ খান বাদল,  যুগ্ম-সম্পাদক শাহীন গাজী, ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মিজু, সিনিয়র সহসভাপতি খান শহিদুল ইসলাম, সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী মিঠু, সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম খোকন, সহসভাপতি গাজী শাহাদাৎ হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক মতিয়ার রহমান বুলেটসহ ৩১১ নেতাকর্মী। অপরদিকে, বিএনপির অঙ্গ সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দল থেকেও পদত্যাগ করেছেন নেতা-কর্মী। পদত্যাগকারীরা হলেন, নগর শাখার সহ-সভাপতি মো. শাকিল আহমেদ, মো. শাহাবুদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব হোসেন, সদর থানার যুগ্ম আহবায়ক এমএ হাসান, নগর সদস্য ওহাব শরীফ, সদর থানা সদস্য নূরুল ইসলাম প্রথম সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক লিপু হাওলাদার। এর আগে, শনিবার রাতেই পদত্যাগ করেন খালিশপুর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. ফজলে হালিম লিটন সাধারণ সম্পাদক এসএম আরিফুর রহমান মিঠু। নগর বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক সাবেক কাউন্সিলর মাহবুব কায়সার পদত্যাগ করেন। একই সাথে ২২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এমকেএ তরিকুল্লাহ্, সাধারণ সম্পাদক মো. জাহিদ কামাল টিটো, মো. সামছুল আলম খান, মো. তারিকুল আলম, সাহেব আলী, মো. নজরুল ইসলাম নান্না, মো. রফিক, মো. ফজলুর রহমান, জাহাঙ্গীর মল্লিক, মো. বেলাল তালুকদার, এসএম শাহাব্দ্দুীন, মো. আবুল বাশার, কবির আহমেদের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক ফোরামের ১ম যুগ্ম-আহবায়ক সারুজ্জামান মুকুল পদত্যাগ করেন। খুলনা সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহানগর বিএনপি প্রচার সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান মুরাদ বলেন,  ‘ছাত্র জীবন থেকে দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়েছিলাম। তবে আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে দল থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলাম। কারণ খুলনা বর্তমান বিএনপির রাজনীতিতে নেতৃত্ব সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে প্রায় অর্ধশত মামলা, হামলাসহ দীর্ঘ সময়ে কারাভোগ করেছি। তারপরও কোনো কষ্ট ছিল না। যখন দেখছি খুলনা বিএনপি নেতৃত্ব সংকট, পাশাপাশি মাত্র তিনজন আহবায়ক কমিটি দিয়ে মহানগর বিএনপির পাঁচটি থানা বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে। যা বিএনপির গঠণতন্ত্রে নেই। এটি নিয়মের বাইরে।’ এসময় তিনি মহান আল্লাহর কাছে বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা এবং তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন। সর্বশেষ মঙ্গলবার খালিশপুর থানার ৩০০ নেতাকর্মী ওলামাদল এবং জিয়া শিশু কিশোর সংগঠনের ৫৫জন নেতাকর্মী পদত্যাগ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বর অ্যাড. শফিকুল আলম মনাকে আহবায়ক, তরিকুল ইসলাম জহিরকে যুগ্ম-আহবায়ক শফিকুল আলম তুহিনকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে কেন্দ্র। অন্যদিকে, আমীর এজাজ খানকে আহবায়ক, শেখ আবু হোসেন বাবুকে যুগ্ম-আহবায়ক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পীকে সদস্য সচিব করে জেলা বিএনপি’আংশিক আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। নগর থেকে নেতাকর্মীদের পদত্যাগ করলেও জেলায় এমন খবর পাওয়া যায়নি।