স্টাফ রিপোর্টার।।
মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেছেন, মানুষের কল্যাণে আইন তৈরি করা হয়। সংবিধানে সেই দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইন বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বরতদের ঘুম ভাঙাতে হবে। এ লড়াই ব্যক্তিগত হলে জয় পাওয়া কঠিন। এক হয়ে লড়াই করতে হবে। আমি থেকে আমরায় পরিণত হতে হবে। মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) খুলনা প্রেস ক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘অর্পিত সম্পত্তি আইন বাস্তবায়ন ও সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রতিরোধ : সরকার ও নাগরিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন আইন বাস্তবায়ন জাতীয় নাগরিক সমন্বয় সেল। সহায়তা করে রূপান্তর। সেমিনারে বলা হয়, দেশের ২৭ লাখ হিন্দু বাড়ির মধ্যে ১২ লাখ হিন্দু বাড়ি ‘শত্রু বা অর্পিত সম্পত্তি’। এগুলোর মধ্যে ৪৪ শতাংশ অর্পিত সম্পত্তি আইনে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ আইনে ২৬ লাখ একর ভূমিচ্যুত হন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন, যা মূল মালিকানার ৪৫ শতাংশ। ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ লাখ একরের প্রায় ৮১ ভাগ কৃষি জমি, ১১ ভাগ বসতভিটা, দুই ভাগ বাগান, দুই ভাগ পুকুর, এক ভাগ পতিত ও তিন ভাগ অন্যান্য। ২০০৭ সালের বাজারমূল্যে ক্ষতিগ্রস্ত ২৬ লাখ একর ভূসম্পত্তির বাজার মূল্য আনুমানিক ৩ লাখ ১০ হাজার ৬৬৪ কোটি টাকা, যা ২০০৬-০৭ অর্থ বছরের প্রাক্কলিত জাতীয় উৎপাদনের ৬৭ ভাগের সমপরিমাণ। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত ৪১ শতাংশ মামলার নিষ্পত্তি করা হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা মামলার ৫৫ শতাংশ আবেদনও ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তি হয়। কিন্তু আপিল ট্রাইব্যুনালের রায় বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসকের ৪৫ দিনের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিভিন্ন অজুহাতে ভুক্তভোগীদের সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী স্বপন কুমার সিংহ বলেন, দাকোপে আমার ২৯ বিঘা জমি দখল হয়ে আছে। মামলায় জিতেও জমি বুঝে পাচ্ছি না। ২০ বছর ধরে এভাবে চলছি। নিজের জমি থাকার পরও খুলনা শহরে ভাড়া থাকতে বাধ্য হচ্ছি।
ভুক্তভোগী দেবাশিষ রায় বলেন, ২০১২ সালে মামলা করে ২০১৫ সালে রায় পাই। আপিলও করি। ২০১৮ সালে আপিলের রায় পাই। জেলা প্রশাসন থেকে আমার পক্ষে জমি রিলিজ করেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান নেই।
ভুক্তভোগী অ্যাডভোকেট পপি ব্যানার্জি বলেন, ১৯৭৬ সালে বাবার নামের জমি অর্পিত হয়। জমি বাবা লিজ নিয়ে নেন। আমার দুই ভাই মামলা করেন। আমি আইনজীবী। কিন্তু এখনও মামলার আর্গুমেন্ট করতে পারিনি। সমাধান নেই। আমি এখন নানাভাবে হয়রানির শিকার।
সেমিনারে বিষয়ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন এএলআরডির (অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যা- রিফর্মেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) সহকারী সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট রফিক আহমেদ সিরাজী। প্যানেল আলোচক ছিলেন ব্লাস্টের উপ-পরিচালক অ্যাডভোকেট বরকত আলী, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন বাস্তবায়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি কাজল দেবনাথ। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন গুহ।











































