Home জাতীয় খালেদার বিদেশে চিকিৎসা: মাঠে উত্তাপ ছড়াতে মনোযোগী বিএনপি, আ. লীগ যা ভাবছে

খালেদার বিদেশে চিকিৎসা: মাঠে উত্তাপ ছড়াতে মনোযোগী বিএনপি, আ. লীগ যা ভাবছে

6

বিশেষ প্রতিনিধি,ঢাকা।।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ইস্যুতে তার দল রাজনীতির ময়দানে উত্তাপ ছড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে বলে মনে করে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীনদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের মন্তব্য, তার চিকিৎসার ব্যাপারে সরকার মানবিক হলেও মাঠ গরম করে তোলার দিকে মনোযোগী থাকায় সেই সুযোগ নিতে পারছে না বিএনপি। আওয়ামী লীগ নেতাদের মন্তব্য, বিএনপির হাতে রাষ্ট্রপতির শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু এই ইস্যুতে সরকারকে চাপে ফেলে মাঠে থাকতে চায় বিএনপি। ক্ষমতাসীনরা বলছে, খালেদা জিয়া বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন কিনা তা আইনের ব্যাপার। তাই এই ইস্যুতে তারা তেমন একটা চাপে নেই। বরং কোন প্রক্রিয়ায় বিএনপি সেই সুযোগ পেতে পারে তা নিয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। আওয়ামী লীগ নেতাদের মতে, ‘খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা ইস্যু নিয়ে বিএনপির সুযোগ বুঝে আওয়ামী লীগকে দোষ দেওয়ার রাজনীতি মেনে নেবে না জনগণ। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার আওতায় থাকা সর্বোচ্চ সুযোগ প্রদান করেছেন এবং খালেদা জিয়াকে কারাগারের পরিবর্তে বাসায় থাকার সুবিধা দিয়েছেন। বিএনপির হাতে রাষ্ট্রপতির শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু হীন উদ্দেশ্য রয়েছে বলেই সেই সুযোগ নিতে চান না তারা।’ ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতার ভাষ্য, ‘বিএনপির আইনবিদরা কিছু আইনি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সেগুলো সাদরে গ্রহণ করে আইনি দিকগুলো খতিয়ে দেখছেন আইনমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী মানবিক না হলে আইন খতিয়ে দেখার সুযোগ পাওয়া যেতো না।’ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘খালেদা জিয়ার ব্যাপারে সর্বোচ্চ মানবিকতা দেখাচ্ছে সরকার। একই ইস্যুতে আইনি কোনও সুযোগ-সুবিধা রয়েছে কিনা তা নিয়ে আবারও পর্যালোচনা চলছে। বিষয়ে শিগগিরই সবাইকে জানাতে পারবো।’

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের আশ্বাস, ‘বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ আইনসিদ্ধ হলে তা খালেদা জিয়াকে দিতে ইতিবাচক আওয়ামী লীগ নীতিনির্ধারকরা। কিন্তু আইনি সুযোগ না থাকলে জোর করে খালেদা জিয়াকে বিদেশ পাঠানোর নজির স্থাপন করবে না সরকার।’

গত ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে উল্লেখ করেন, দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন খালেদা জিয়া। ওই অনুষ্ঠানে তিনি বন্দি অবস্থায় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার চিকিৎসা নেওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। সেসব রাজনীতিবিদরা যে বিশেষ সুবিধা পাননি সেই ইঙ্গিতও মিলেছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।

আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর একজন সদস্য বলেন, ‘বিএনপি নেতারা আইন-আদালত না মেনে সরকারকে বাধ্য করে খালেদাকে বিদেশ নিয়ে যাওয়ার অনুমতি চায়। একই ইস্যু পুঁজি করে নিজেদের জয়-পরাজয় দেখছেন তারা। তবে বেআইনিভাবে সুযোগ দিয়ে আওয়ামী লীগও পরাজয় বরণ করতে চায় না। তাই সঠিক চিকিৎসার পথে বিএনপি রয়েছে কিনা বলা যাবে না।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সম্পাদকম-লীর দুই সদস্য বলেন, ‘খালেদা জিয়া দুর্নীতিবাজ হিসেবে আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত। তাকে বাসায় থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে কিছু শর্ত রয়েছে। এগুলো তাকে মানতে হবে। শর্তগুলো তার বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে পারমিট করে না। তবে পৃথিবীর যেকোনও দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে। ভার্চুয়াল যুগে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়ার সুযোগও আছে। এসব ব্যাপার আমলে না নিয়ে খালেদাকে বিদেশ নিতে চাওয়ার পেছনে বিএনপি ভিন্ন কোনও উদ্দেশে কিনা পরিষ্কার নয়।’

প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে বিএনপির আচরণ স্পষ্ট নয়। যে পথে সম্ভব, বিএনপি কেন সেই পথে যাচ্ছে না বুঝতে পারছি না।’

আওয়ামী লীগের আইন সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, ‘আইনসিদ্ধ উপায়ে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে হবে। কারণ তিনি সাজাপ্রাপ্ত। এখন রাষ্ট্রপতিই একমাত্র সুযোগ। প্রকৃত অর্থে বিএনপি খালেদাকে বিদেশ নিতে চাইলে রাষ্ট্রপতির দ্বারস্থ হতে অসুবিধা কোথায়?’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘যে উপায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, সেই পথে না গিয়ে মাঠ গরম করে রাজনৈতিক জয়-পরাজয় হিসাব করছে। ফলে কোনোটাই হচ্ছে না। তিনি যেহেতু সাজাপ্রাপ্ত আসামি, ফলে আইনি বিধি-বিধান রয়েছে।’