Home আঞ্চলিক রামপালে একটি মাদ্রাসার সহ-সুপারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

রামপালে একটি মাদ্রাসার সহ-সুপারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

42


মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি ।।

বাগেরহাটের রামপালে একটি মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে অবৈধভাবে তিন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে ওই মাদ্রাসার সহ-সুপারের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে ওই মাদ্রাসার শিক্ষক প্রতিনিধি তালুকদার মোঃ নজরুল ইসলাম বাগেরহাট জেলা প্রশাসক, রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বাগেরহাট পুলিশ সুপার ও খুলনার র‌্যাব-৬ সহ  বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানা গেছে, রামপাল উপজেলার গৌরম্ভা এলাকার আবু বকর সিদ্দিক দাখিল মাদ্রাসায় ২০২০ সালের ৭ নভেম্বরে তিনজন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। ওই সময়ে মাদ্রাসার সুপার আব্দুল লতিফ অসুস্থ্য থাকায় তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের জন্য সহ সুপার মাওলানা মোঃ মনিরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেন। মাওলানা মোঃ  মনিরুজ্জামান নিয়োগ পরীক্ষা শেষে ফলাফল সীটে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর না করিয়ে গোপনে তিনি স্বাক্ষর জাল করে এমপিও ভুক্তির জন্য কাগজপত্র তৈরি করে ঢাকায় পাঠালে তারা এমপিওভুক্ত হন।

বর্তমানে ওই তিন কর্মচারী মাসে মাসে সরকারী বেতন ভাতার সুবিধা ভোগ করছেন। অভিযোগ উঠেছে ওই নিয়োগ দিয়ে সহ সুপার মাওলানা মোঃ মনিরুজ্জামান অর্থ বাণিজ্য করেছেন। আর এ ঘটনায়  মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটিকে নিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষক প্রতিনিধি তালুকদার মোঃ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন,  সহ-সুপার মাওলানা মোঃ মনিরুজ্জামান নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জেলা শিক্ষা অফিসারকে রেলের টিকেট বাবদ ৩৩৩ টাকা, ঢাকায় যাতায়াত বাবদ ২ হাজার টাকা, বখশিশ বাবদ ৭৫ হাজার টাকা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে ১০ হাজার টাকা, এমপিওভুক্ত করানোর জন্য আবারো মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে দেয়া ৪০ হাজার টাকা এবং ঢাকায় বখশিশ ও অফিস খরচ বাবদ ১ লাখ ১২শ টাকাসহ বিভিন্ন খাতে মোটা অংকের টাকা খরচ দেখিয়েছেন। এ ব্যাপারে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গাজী গিয়াস উদ্দিন বলেন, সহ-সুপার আমার কোন স্বাক্ষর নেয়নি। সে আমার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ওই তিন কর্মচারীকে এমপিওভুক্ত করেছেন।

এছাড়া সে মাদ্রাসার এতিম খানার টাকাসহ বিভিন্ন সময় মাদ্রাসার উন্নয়নের সরকারী বরাদ্দ আত্মসাৎ করেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রোগ্রামার পুষ্পেন বলেন, ওই মাদ্রাসায় গত বছর তিনজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগে শিক্ষা অফিসের কেউ কোন টাকা নেয়নি। অহেতুক অভিযোগ তোলা হচ্ছে। মাদ্রাসার সুপার মোঃ আব্দুল লতিফ বলেন, আমি অসুস্থ্য থাকায় সহ-সুপার মোঃ মনিরুজ্জামানকে নিয়োগের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। আমি কোন টাকা পয়সা নিই নাই। যা কিছু করেছে তা সহ-সুপার করেছে। আমি কিছু জানিনা। কোন অনিয়ম হলে সে করেছেন। সহ-সুপার মাওলানা মোঃ মনিরুজ্জামান তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি যা কিছু করেছি তা সুপারের নির্দেশে করেছি।