জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপি নেতাকর্মীরা । ১০ পুলিশসহ আহত ৮৫ গ্রেপ্তার ১২ । আজ থানায় থানায় বিক্ষোভ
ঢাকা অফিস||
রাজধানীর শেরেবাংলানগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদনে যাওয়া নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় লাঠিপেটা ছাড়াও পুলিশ নেতাকর্মীদের ওপর রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করেছে। বিএনপি নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এর জবাব দেয়। এই ঘটনায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমান উল্লাহ আমান এবং সদস্য সচিব আমিনুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টিসহ অনেক নেতাকর্মীকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা গেছে। আহতদের ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আর পুলিশের দাবি, তাদের ৮-৯ সদস্য আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জন্য পুলিশ ও বিএনপি উভয়েই পরস্পরের বিরুদ্ধে বিনা উসকানিতে অতর্কিতে হামলার অভিযোগ করেছে। হামলার প্রতিবাদে আজ বুধবার ঢাকা মহানগরের থানায় থানায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন, পুলিশের হামলায় ৭৫ নেতাকর্মী ও তিনজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এজেএম শামসুল হক, কৃষক দলের শাহজাহান মিয়া সম্রাটসহ ১২ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, গতকাল জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত ও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি ছিল সম্প্রতি ঘোষিত ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির। একে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, মহানগর বিএনপির উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীদের বেলা ১১টার মধ্যে কবর প্রাঙ্গণে জমায়েত হতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। উত্তরের সদস্য সচিব আমিনুল হকের দাবি, কর্মসূচির জন্য পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া ছিল। তার পরও কেন পুলিশ বাধা দিয়েছে। মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকেও পুলিশ নেতাকর্মীদের দাঁড়াতে দিচ্ছিল না। অনুমতি থাকার পরও কেন জমায়েত হতে দেওয়া হচ্ছে না জানতে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে যান উত্তরের দুই নেতা আমিনুল ও মিষ্টি। একজন নেতা জানান, এ সময় নেতাকর্মীরা জিয়ার কবরের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে এগোনোর সময় পুলিশ বাধা দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, রাবার বুলেট নিক্ষেপ শুরু করে। পুলিশের তেজগাঁও জোনের ডিসি মো. শহীদুল্লাহ বলেন, নেতাকর্মীরা বিনা উসকানিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছে। আত্মরক্ষার্থে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। পুলিশ কোনো বুলেট নিক্ষেপ করেনি বলে দাবি করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পৌনে ১১টার দিকে উত্তরের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল বের করলে পুলিশ ফের কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। টিকতে না পেরে নেতাকর্মীরা এদিক-ওদিক ছুটতে থাকেন। পথচারী আরমান রহমান বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে একদল যুবক যানবাহন ভাঙচুরও করেন। পরিকল্পনা বিভাগের সচিব জয়নুল বারী জানান, তার গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন বলেন, সকালে অফিসে যাওয়ার সময় চন্দ্রিমা উদ্যানের কাছে বিজয় সরণি মোড়ে আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ প্রসঙ্গে বিএনপি দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম বলেন, সরকারের লোকজন ভাঙচুর করেছে। আমাদের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালামের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।
প্রায় এক ঘণ্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় মহাসচিব বলেন, বিএনপির শান্তিপূর্ণ একটা কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে পুলিশ গুলি করে, লাঠিপেটা করে অসংখ্য নেতাকর্মীকে আহত করেছে। এই সরকারের পায়ের তলায় মাটি নেই, তারা সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন। এ জন্যই তারা পুলিশ দিয়ে নির্যাতন করে, গুলি করে, লাঠিপেটা করে গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে দমন করে রাখতে চায়। আমানউল্লাহ আমান সাংবাদিকদের বলেন, এটা আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল এবং পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ বিনা উসকানিতে হামলা করেছে, গুলি করেছে। শেরেবাংলানগর থানার ওসি জানে আলম মুন্সি সাংবাদিকদের বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিকই ছিল। আগেও তারা এখানে এসে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, কোনো সমস্যা হয়নি। কিন্তু আজ (মঙ্গলবার) বিএনপি নেতা আমানউল্লাহ আমানের পক্ষের উচ্ছৃঙ্খল কয়েকজন এসে হট্টগোল শুরু করে পুলিশের ওপর চড়াও হন। এতে ৮ থেকে ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।











































