স্টাফ রিপোর্টার
খুলনায় উদ্বেগজনকহারে জাল টাকার সিন্ডিকেটের সদস্যরা ছড়িয়ে পড়েছে। আগত পবিত্র রমজান মাস ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এ চক্রটি জাল টাকার নোট বাজারে ছড়ানোর চেষ্টা খুব জোরে সোরে চালাচ্ছে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পুলিশের পৃথক অভিযানে ৩৯লাখ ৭হাজার টাকার জালনোট জব্দসহ ৪জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেএমপি ও জেলা পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা।

গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় লবণচরা থানায় খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং-এ ডিসি সাউথ এহসান শাহ জানান, গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে জিরোপয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৯ লাখ টাকার জালনোটসহ এক ব্যক্তিকে আটক করে লবণচরা থানা পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তি হলেন বাগেরহাট জেলা সদরের দশমিনাশা পাইক পাড়ার এস এম মতলেবের ছেলে এস এম মামুন (৪৩)। তিনি বলেন গতকাল দুপরে খুলনা-গোপালগঞ্জ রুটের বাসে ওঠার সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এসময় তার সাথে থাকা ব্যাগ তল্লাশী করে এক হাজার টাকার নোটের ৩৯ লাখ টাকার জালনোট পাওয়া যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ওই টাকা নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল বলে জানিয়েছে। জাল টাকা চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে লবণচরা থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ব্রিফিং-এ অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) শেখ মনিরুজ্জামান মিঠু, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাকিল আহমেদ, এসি মো. হাফিজুর রহমান, লবনচরা থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবুল খায়ের উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও জানান, গত ২০ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে নগরীর খালিশপুর থানা এলাকার খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ডিবি’র অভিযানে জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামসহ ২জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৪হাজার টাকার জাল নোট, ৩টি কালার প্রিন্টার, ১টি লেমিনেটিং মেশিন, ১টি ল্যাপটপ, ১টি টাকা তৈরি করার ডিজিটাল পেট, ৬টি বোতলে (রিফিল) কালি এবং সাদা রংয়ের ২বান্ডিল ট্রেস পেপার জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতার হওয়া দুজন হলেন, খালিশপুর থানাধীন নয়াবাটিস্থ রোড নং-২২২, বাড়ী নং-এনআই/২৪ এর ২য় তলার পূর্বপাশের ভাড়াটিয়া মোঃ গফ্ফার আলী মোলা (৫৩) ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম ওরফে অজিফা (৩৯)। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছেন, গ্রেফতার হওয়া গফ্ফারের শ্যালক সাইফুল ইসলাম ওরফে লামু জাল টাকা তৈরি করে তাদের নিকট দেয়। তারা দীর্ঘদিন যাবৎ খুলনা মহানগরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জাল টাকার ব্যবসা করে আসছে। তাদের দু’জনকে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অপরদিকে ১৪ ফেব্রুয়ারি কয়রা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইসহাক আলী (৪৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে ৬টি ৫শ’ টাকার জালনোট উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় কয়রা থানায় মামলা দায়েরের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।










































