Home Lead প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনকেন্দ্র: ১৪ বছর ধরে কার্যক্রম নেই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে

প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনকেন্দ্র: ১৪ বছর ধরে কার্যক্রম নেই প্রশিক্ষণকেন্দ্রে

0


ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।।

বাগেরহাটের ফকিরহাটে সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ ও গ্রামীণ পুনর্বাসনকেন্দ্র লোকবল ও যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও প্রশিক্ষণ হয়নি দীর্ঘ ১৪ বছর। এতে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে লাখ টাকার যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো। মাঝে মধ্যে প্রশিক্ষণের জন্য এসে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) যুবকেরা।

সরেজমিন দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক-সংলগ্ন উপজেলার মূলঘর এলাকায় সুবিশাল প্রাচীর ঘেরা ৩ একর ৬০ শতক জমির প্রায় সবখানে জঙ্গলে ঠাসা। দীর্ঘদিনের অযত্নে শেওলা, লতাপাতা ও আগাছায় ভরা ভুতুড়ে পরিবেশ। এটিই দেশের একমাত্র পুরুষ শারীরিক প্রতিবন্ধীদের প্রশিক্ষণ ও গ্রামীণ পুনর্বাসনকেন্দ্র। প্রশিক্ষণকেন্দ্রটির প্রধান ফটক তালাবদ্ধ।

দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও যোগাযোগের পর গেট খুললেন প্রতিষ্ঠানটির ওয়ার্কশপ ট্রেডের প্রশিক্ষক আব্দুস সাত্তার। তিনি জানান, ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি ২০১২ সালে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ, টেইলারিং ও হাঁস-মুরগি পালন প্রশিক্ষণের তিনটি ট্রেডের প্রশিক্ষণ বন্ধ হওয়ার আগে এখান থেকে ৩১৯ প্রতিবন্ধী যুবক প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে উদ্যোক্তা হিসেবে স্বাবলম্বীও হয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী মঞ্জুর করা ১১টি পদে জন জনবল ছিল। কিন্তু প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকায় একে একে সবাই অন্যত্র সংযুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে মাত্র একজন আবাসিক প্রশিক্ষক আছেন এখানে। তিনিও আগামী মাসে অবসরে যাবেন।

২০১০-১১ অর্থবছর থেকে প্রশিক্ষণকেন্দ্রের তিনটি ট্রেডে প্রায় ২১ ধরনের লেদ মেশিন, গ্রাইন্ডিং মেশিনসহ প্রশিক্ষণের বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি পড়ে আছে। ইতিমধ্যে গ্যারেজে নষ্ট হয়েছে ট্রাক ও গাড়ি। হাঁস-মুরগি ও গবাদি পশুপালন ট্রেডের অবকাঠামো ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। সেসব অবকাঠামোর মধ্যে জন্মেছে আগাছা। বাক্, শ্রবণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য স্থাপিত হলেও নানা প্রতিবন্ধকতায় দীর্ঘদিন অচল হয়ে পড়ে আছে।

এক বছর মেয়াদি তিনটি আবাসিক প্রশিক্ষণ কোর্সে ৩০ জন করে প্রতিবন্ধী যুবকের প্রশিক্ষণ গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। প্রশিক্ষণ শেষে উপকরণসহ নগদ ৪ হাজার টাকা প্রদান, সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু শুধু আবাসিক ভবন-সংকটে মুখ থুবড়ে পড়েছে সম্ভাবনাময় এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি।

সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি আংশিক সংস্কার করা হলেও আবাসিক ভবনের অভাবে তা আর চালু করা যায়নি। বর্তমানে কেন্দ্রটির সুবিশাল আবাসিক ভবনের খসে যাওয়া কাঠামো কোনোমতে দাঁড়িয়ে আছে।

২০১৬ সালে জেলা নিলাম কমিটি আবাসিক হোস্টেলটি নিলামের মাধ্যমে অপসারণের সুপারিশ করে। ২০২০ সালে সমাজসেবা দপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে অনুমতি চেয়ে আবার চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

এ ছাড়া কেন্দ্রটির দাপ্তরিক কার্যক্রমেও সমন্বয়হীনতা দেখা গেছে। ফকিরহাট উপজেলায় প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি অবস্থিত হলেও দেখভালের জন্য সংযুক্ত আছেন খুলনা জেলার তেরোখাদা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা। তিনি নিয়মিত আসতে পারেন না পরিদর্শনে। ফলে দাপ্তরিক কাজেও সমস্যা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রতিবন্ধীদের সম্পদে পরিণত করার উদ্দেশে চালু হওয়া সমাজসেবা দপ্তরের এই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি আবার চালু করার দাবি করে এলাকাবাসী। জেলা সমাজসেবা অফিস থেকে কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। শুধু ফাইলবন্দী চিঠির সংখ্যাই বেড়েছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) যুবক রমজান শেখ জানান, ২০ বছর বয়স থেকে তিনি এ প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু হওয়ার অপেক্ষায় আছেন। এখন তাঁর বয়স ৩৪ বছর। আদৌ প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি চালু হবে কি না, তিনি নিশ্চিত নন।

এ বিষয়ে ফকিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রোকনুজ জামান জানান, তিনি এখানে নতুন এসেছেন। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে কর্তৃপক্ষকে লিখবেন।

জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সন্তোষ কুমার নাথ বলেন, ‘প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি আমি পরিদর্শন করেছি। আবাসিক ভবন পেলে যন্ত্রপাতিগুলো মেরামত করে পুনরায় প্রশিক্ষণ চালু করা সম্ভব। জনবল ও ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি।’