Home আঞ্চলিক দুই বছরেই বেহাল ১১ কোটি টাকার সড়ক

দুই বছরেই বেহাল ১১ কোটি টাকার সড়ক

3


নড়াইল প্রতিনিধি ||
সড়কটির অনেক জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে গর্ত| অনেক জায়গায় দেবে গেছে, পিচ সরে দেখা দিয়েছে উঁচু-নিচু অবস্থা| অথচ সড়কটি মাত্র দুই বছর আগে পুননির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা দিয়ে| নড়াইল পাসপোর্ট অফিস থেকে শেখহাটি পর্যন্ত (নড়াইল-মুলিয়া-শেখহাটি) ১৫ কিলোমিটার সড়কের এমন অবস্থায় ক্ষুব্ধ যানবাহন চালক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা| এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণকাজে দুর্নীতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণে এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে| সামনে বর্ষা মৌসুমে সড়কটির অবস্থা আরো খারাপ হবে এমনটি আশঙ্কা করছেন তারা|
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল-মুলিয়া-শেখহাটি সড়ক পুননির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ডিসে¤^র মাসে| ১০ কোটি ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে চুয়াডাঙ্গার জাকাউল্লাহ অ্যান্ড ব্রাদার্স লিমিটেড, নড়াইলের মেসার্স ইভেন প্রাইজ এবং একই জেলার বি এম
রফিকুল ইসলামের মালিকানাধীন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান| ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ হয়|
সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে সরেজমিনে সড়কটির শেখহাটি, দেবভোগ, বাহিরগ্রামসহ মুলিয়া এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কোনো কোনো জায়গা থেকে পিচ উঠে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে গর্ত| অনেক জায়গায় সড়কের দুই পাশ দেবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে|

মুলিয়া এলাকার ইজিবাইক চালক রবিউল ইসলাম রাজু বলেন, “আমি নিয়মিত এই রাস্তায় দিয়ে ইজিবাইক চালাই| এই যে ভাঙা দেখছেন, সামনে আরো ভাঙা| দুই বছর হয়নি রাস্তার কাজ শেষ হয়েছে| বছর খানেক আগেই রাস্তা ভেঙে গেছে| মাল-মেডিসিন (নির্মাণ সামগ্রী) বেশি না দেওয়া হলে তো রাস্তা ভেঙে যাবেই|

মোটরসাইকেল চালক হাবিবুর রহমান বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তাটির অবস্থা এতই খারাপ হবে কেউ ভাবতে পারেনি| রাস্তার এমন দশা হয়েছে যে, গাড়ি চালনোই কঠিন| কয়েকদিন আগে দেখলাম ‘এলজিইডি’ লেখা একটি গাড়ি এসে রাস্তা মেরামতের কাজ করছে| দুই বছরেই যদি রাস্তা খারাপ হয়ে যায়, তাহলে কেমন হয়|”

নড়াইল এলজিইডি কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবীর মঙ্গলবার (২৮এপ্রিল) সকালে বলেন, “সড়কটিতে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে কিছু কিছু জায়গায় গর্ত ও ফাটল দেখা দিয়েছে| ইতোমধ্যে ঠিকাদারের ত্রুটিকাল শেষ হওয়ায় বর্তমানে এলজিইডির নিজ¯^ নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল থেকে রাস্তার সংস্কারের কাজ চালানো হচ্ছে|”

তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় নির্মিত এসব সড়কের জন্য নির্দিষ্ট লোড সীমা নির্ধারণ থাকে| কিন্তু মুলিয়া-শেখহাটি সড়কে কোনো ধরনের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এবং সড়কটি মহাসড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় বড় ট্রাকসহ ভারী যানবাহন অবাধে চলাচল করছে| এতে সড়কের ক্ষতি হচ্ছে| ২০২৭ সালে সড়কটির পুনরায় বড় ধরনের সংস্কারের উপযোগী হলে নতুন করে সংস্কার করা হবে|”