স্টাফ রিপোর্টর
খুলনা মহানগর জাতীয় পার্টির (জাপা) সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি শেখ আবুল কাশেম হত্যা মামলার কার্যক্রম আবারও শুরু হতে যাচ্ছে।
২ দফায় স্থগিতাদেশের পর বিচার শুরু হলেও আবারও স্থগিত হয় এই মামলার বিচার কাজ। মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস উচ্চ আদালতে মিস কেস করেন। ৩জানুয়ারি উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার পত্র খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্রকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে আসে। সোমবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. সাইফুজ্জামান হিরো আগামী ২৬ জানুয়ারি স্বাক্ষ্য গ্রহণের মধ্যে দিয়ে মামলার কার্যক্রম আবারও শুরু করার আদেশ প্রদান করেছেন।
কয়েক দফা এইভাবে মামলার কার্যক্রম স্থগিত থাকার পর বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খুলনার বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালে ২০০৮ সালের ২৪ এপ্রিল পুনরায় বিচার কাজ শুরু হয়। এই সময় মোট ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্য হওয়ার পর ২০ নভেম্বর মামলাটি নিদিষ্ট সময় শেষ না হওয়াই জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইবুনালে ফেরত আসে। সৈয়দ মনিরুল ইসলামের পর জাপা নেতা আব্দুল গফফার বিশ্বাসের পক্ষে পরে ২০০৮, ২০০৯, ২০১৪ সালের আবারও উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম স্থগিত হয়। সেই থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের পর আর গত ৮ বছর ধরে মামলার বিচার কাজ পুরাপুরি স্থগিত থাকে।
চার্জশীটভুক্তদের মধ্যে চট্রগ্রামের লাউজানের বাসিন্দা তারেক ক্রসফায়ারে, খুলনার ইখতিয়ার উদ্দিন বাবলু সন্ত্রাসীদের গুলিতে, সৈয়দ মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির মৃত্যবরণ করেছেন। চাজশিটভুক্ত অন্যরা সবাই জীবিত ও জামিনে রয়েছেন। এরা হলেন তরিকুল হুদা ওরফে টপি, মহানগর জাপার সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল গফ্ফার বিশ্বাস, ওয়াসিকুর রহমান ওয়াসিক, মোশফেকুর রহমান মোশফেক, মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ, মিল্টন ওরফে আনিসুর রহমান। চার্জশিটভুক্ত থাকলেও খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কাজী আমিনুল হক ওরফে আমিনের নাম প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের ২৫ এপ্রিল দুপুরে খুলনা সদর থানার সামনের সড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্বৃত্তরা মহানগর জাপার সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম ও তাঁর গাড়িচালক মিকাইল হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের স্বজন আলমগীর হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫/৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন যার নং-৩৫। এ হত্যাকান্ডের পর বিচার চেয়ে খুলনায় স্মরণকালের আন্দোলন হয়। মামলাটি প্রথম তদন্ত করেন সদর থানার তৎকালিন এসআই গোলাম মোস্তফা। তীব্র আন্দোলনের কারণে পুলিশের কাছ থেকে মামলাটির তদন্তভার সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। সিআইডি তদন্ত শেষে ১৯৯৬ সালের ৫ মে সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন আদালতে ১০জনের নামে চার্জশিট দাখিল করেন। হত্যা মামলাটি ১৯৯৭ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বিচারের জন্যে খুলনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসে। শুরু হয় সাক্ষ্য গ্রহণ। কিন্তু মামলার চার্জশিটভুক্ত এক আসামির আবেদনের কারণে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত থাকে। দীর্ঘদিন পর মামলার বিচার শুরু হয়ে সাক্ষ্য গ্রহণের শেষ পর্যায়ে আসে। এ অবস্থায় মনিরুল ইসলাম ওরফে মনির আবেদনের কারণে উচ্চাদালত ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি মামলার বিচার কার্যক্রমে আবারও স্থগিতের আদেশ দেন। ২ দফা স্থগিত শেষে সম্প্রতি মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। খুলনা বিভাগীয় জননিরাপত্তা আদালতে গত ২০ ফেব্রুয়ারি এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এ অবস্থায় জাপা থেকে পদত্যাগী নেতা মামলার চার্জশীটভুক্ত গফ্ফার বিশ্বাস গত ১৩ মার্চ উচ্চাদালতে আবেদন করেন। তার আবেদনের শুনানী শেষে উচ্চাদালত ১৬ মার্চ থেকে ৬ মাসের জন্য মামলার বিচার কার্যক্রম স্থগিত করে।
মামলার আইনজীবী আক্তারজাহান রুকু জানান, উচ্চ আদালতের আদেশে মামলার বিচারিক কার্য্যক্রম ৩ দফায় স্থগিত ছিল। সম্প্রতি আবার এ হত্যা মামলার বিচার শুরু হয়। এ পর্যন্ত মামলার ৩০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বাদীর মৃত্যুর পর মামলা নিহত কাশেমের ভাই আবুল হোসেন এখন মামলার তদারকি করছেন।
জননিরাপত্তা বিঘœকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাড আরিফ মামমুদ লিটন জানান, উচ্চ আদালতে স্থগিত থাকার কারণে মামলা পরিচালনা করা হচ্ছিল না। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় মামলাটির বিচার কার্যক্রম আবারও শুরু হচ্ছে।











































