# দক্ষিণ ভারত উপকূলের দিকে যাবে
স্টাফ রিপোর্টার
ঘূর্ণিঝড় ‘নিভারের’ পর এবার আসছে ‘বুরেভী।’ তবে এটিও দেশের উপকূলে আঘাত হানছে না। নিভারের মতো দক্ষিণ ভারতের উপকূলের দিকেই যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘বুরেভী’ আগামীকাল সন্ধ্যায় তালিমনাড়ু ও শ্রীলঙ্কার উপকূলে আছড়ে পড়বে। তবে বুরেভী বাংলাদেশের উপকূলের দিকে না আসলেও এর প্রভাবে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শীতের তীব্রতা বাড়বে। গত সপ্তাহেই দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের সৃষ্টি হয় ঘূর্ণিঝড় নিভারের। ইরানের দেয়া নাম নিয়ে এটি গত শুক্রবার দক্ষিণ ভারতের তামিলনাড়ুর চেন্নাই উপকূলে আঘাত হানে। এর আঘাতে চেন্নাইয়ে উপকূল ল-ভ- করে দেয়। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুরেভীও তামিল নাড়ু ও শ্রীলঙ্কার উপকূলের দিকে যাচ্ছে। বুরেভীর প্রভাব কেটে গেলে দেশে শীতের তীব্রতা শুরু হবে। আবহাওয়াবিদরা জানান, জলবায়ু পরিবর্ততের কারণে সাগরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়েছে। ফলে এই শীতের আগমনী হাওয়ায় বারবার ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হচ্ছে। লঘুচাপ নিম্নচাপের প্রবণতাও বেড়েছে অনেক। সাগর বিক্ষুব্ধ হওয়ার কারণে শীতের ওপর প্রভাব পড়ছে। কখনও শীতের আমেজ বাড়ছে। আবার কখনও গরমের ভাব বেড়ে যাচ্ছে। এ কারণে জ্বর-ঠা-া, সর্দিসহ নানা অসুখের শিকার সাধারণ জনগণ। করেনাকালে আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত অসুখের কারণে মানুষের মধ্যে ভীতি বাড়ছে অনেক। নিভারের পর এ বার বুরেভী। মালদ্বীপের প্রস্তাব অনুযায়ী নতুন জন্ম নেয়া ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়া হয়েছে বুরেভী। ভারতের আবহাওয়া অফিস জানায়, ঘূর্ণিঝড়টি আগামীকালের মধ্যেই উপকূলে আছড়ে পড়বে। এজন্য রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি হয়েছে। তারা জানায়, শ্রীলঙ্কা হয়ে তামিলনাড়ুর দিকে এগোচ্ছে ঘূর্ণিঝড়টি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথমে শ্রীলঙ্কার উপকূলে আছছে পড়বে সেটি। তারপর মান্নার উপসাগর পেরিয়ে শুক্রবার সকালে তামিলনাড়ুর উপকূলে প্রবেশ করবে। আবহাওয়াবিদ মোঃ শাহীনুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার সাইক্লোন সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপের তালিকা অনুযায়ী, এ ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয়া হয়েছে বুরেভী। মালদ্বীপ এ নামটি এসকাপে প্রস্তাব করেছিল। প্রতিবছর অন্তত ৪-৫টি নিম্নচাপের শঙ্কা থাকে এ অঞ্চলে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। আবহাওয়াগত চরিত্র অনুযায়ী এটা স্বাভাবিক। এ বছর তুলনামূলকভাবে নিম্নচাপ কমও হয়েছে। সার্বিকভাবে এবার এটা নরমাল ফেনোমেনম বলা যায়। গত সপ্তাহের আগে তামিলনাড়ু উপকূলে এসেছিল ঘূর্ণিঝড় নিভার। তবে বাংলাদেশের উপকূলে সর্বশেষ আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়ের নাম হলো আমফান। যা গত মে মাসের ২০ তারিখে দেশের দক্ষিণ উপকূলীয় জেলাসমূহের ওপর আঘাত হানে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকা ল-ভ- করে দেয়। এছাড়া গত অক্টোবরেও বঙ্গোপসাগরে আরেকটি গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল, যদিও তা শেষ পর্যায়ে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়নি। তবে সেটির প্রভাবে বাংলাদেশে বেশ বৃষ্টি হয়েছিল। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় বুরেভীর কোন প্রভাব দেশের উপকূলে থাকবে না। তবে এর প্রভাবে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অফিস বলছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর ও ঘনীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘বুরেভী’ হিসেবে বুধবার সকাল ৬টায় দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। শেষরাত থেকে ভোর পর্যন্ত সারাদেশের কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। আগামী ৩ দিনে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে। বুধবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১১ দশমিক আট ডিগ্রী সেলসিয়াস। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারে ৩২ দশমিক চার ডিগ্রী সেলসিয়াস।











































