আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং আবদুল্লাহ ফিন্যান্সিয়াল ডিস্ট্রিক্টে (কেএএফডি) আরামকোর একটি ভবনে হামলা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবনটি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল এবং এতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভবনটির কয়েকটি তলার কাচ ভেঙে গেছে। সামনের অংশেরও কিছু জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রিয়াদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা কেএএফডিতে কাচঘেরা সুউচ্চ ভবন, অভিজাত বিপণিবিতান ও সবুজ জায়গা রয়েছে। সেখানে আবাসিক ভবন এবং ব্যস্ত একটি মেট্রো স্টেশনও আছে। সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার কর্মসূচির অন্যতম দৃশ্যমান নিদর্শন এই এলাকা। সেখানে হামলা হলে হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতে বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে সৌদি আরবের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, কয়েক সপ্তাহ অনলাইনে ক্লাস চলার পর রিয়াদে আবার সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে। এর আগে হুতিদের হামলার কারণে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়েছিল।
রবিবার সকালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, হুতিদের ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদ লক্ষ্য করে এগিয়ে আসার সময় আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেগুলো ধ্বংস করেছে। এ সময় সৌদি রাজধানীতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
২০২২ সালে ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের সংঘাত বন্ধে একটি যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। তবে গত জুলাইয়ে তা ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা চলছে। হুতিরা সৌদি বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। সম্প্রতি সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের কাছ থেকে লোহিত সাগরের উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে গোষ্ঠীটি।
ইয়েমেনের রাজধানী সানা ২০১৪ সালে দখল করে হুতিরা। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দেশটির সংঘাতে যোগ দেয়।
এদিকে হুতিদের হামলা মোকাবিলায় সৌদি আরব মিত্রদের সহায়তা চাইছে। ইয়েমেনের একাধিক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, হাজার হাজার সিরীয় সেনা সৌদি আরব ও ইয়েমেনে মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে কয়েকজন সেনা সেখানে পৌঁছেছেন।
জাতিসংঘের হিসাবে, ইয়েমেনে নতুন করে লড়াই শুরুর পর থেকে ১ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সূত্র- আলজাজিরা











































